আন্তর্জাতিক

ব্রিটিশ ভারতের ‘হীরক মুকুট’ কলকাতা থেকে কেন দিল্লিতে সরলো রাজধানী? নেপথ্যে বঙ্গভঙ্গ, বিপ্লবী রক্ত ও এক রাজকীয় চক্রান্ত
কলকাতা থেকে দিল্লি রাজধানী স্থানান্তর

নিউজ ডেস্ক

August 5, 2026

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ইতিহাস ও রাজনীতি ফিচার | পালস বাংলাদেশ

১৬৯০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুতানুটি, কলিকাতা ও গোবিন্দপুর—এই তিনটি গ্রাম কিনে যে আধুনিক কলকাতা নগরের গোড়াপত্তন করেছিল, পরবর্তীতে তা হয়ে উঠেছিল ব্রিটিশ ভারতের প্রাণকেন্দ্র। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ রাজ সরাসরি ভারতের শাসনভার হাতে নিলে কলকাতাকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সাম্রাজ্যের রাজধানী করা হয়।

লন্ডনের আদলে গড়ে ওঠা এই শহরে একে একে তৈরি হয় রাজকীয় লাটভবন, এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ। বিদ্যাচর্চা, চিকিৎসা ও সংস্কৃতিতে কলকাতা তখন গোটা এশিয়ার মধ্যে শীর্ষ স্থানে। কিন্তু এত ঐতিহ্য ও প্রাচুর্য সত্ত্বেও ১৯১১ সালে ব্রিটিশরা কেন তাদের প্রিয় রাজধানী কলকাতা ছেড়ে প্রাচীন মোগলদের কেন্দ্রবিন্দু দিল্লিতে স্থানান্তর করেছিল? এবং ১৯৪৭ সালে স্বাধীন ভারতই বা কেন সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখল?

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এর নেপথ্যে ছিল ভৌগোলিক কৌশল, ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং ইতিহাসের এক অবিশ্বাস্য বিপ্লবী অধ্যায়।

১. রাজধানী স্থানান্তরের প্রধান কারণসমূহ

১.১ ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান (Geographical Advantage)

কলকাতা ছিল ভারতের পূর্ব প্রান্তের এক কোণে অবস্থিত। বিশাল ভারতের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ অঞ্চল শাসন করা এবং সীমান্ত রক্ষা করার জন্য এটি ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক ছিল না। পক্ষান্তরে, উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অবস্থিত দিল্লি থেকে পুরো দেশ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ ছিল। ১৯৪৭ সালে স্বাধীন ভারত সরকারও দেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে এই কেন্দ্রীয় অবস্থানকেই বহাল রাখে।

১.২ বেয়াড়া কলকাতা ও স্বদেশী আন্দোলনের উত্তাপ

ব্রিটিশদের আসল বিপদ শুরু হয় ‘বাংলা নবজাগরণ’-এর পর। অনুগত কেরানি তৈরি করতে গিয়ে ব্রিটিশরা উল্টো উপহার পেল একঝাঁক শিক্ষিত ও মেরুদণ্ডী বাঙালি বুদ্ধিজীবী। ১৯০৫ সালে ভাইসরয় লর্ড কার্জন রাজনৈতিক চক্রান্ত করে বাংলাকে দুই ভাগে ভাগ (বঙ্গভঙ্গ) করলে রাজপথে নেমে আসে বাঙালি। বয়কট ও স্বদেশী আন্দোলনে ব্রিটিশ অর্থনীতি কেঁপে ওঠে। কলকাতা পরিণত হয় সশস্ত্র ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবের শক্ত ঘাঁটিতে। ফলে নিরাপদ স্থানে প্রশাসনিক কাজ চালানোর তাগিদ অনুভব করে ব্রিটিশ রাজ।

১.৩ দিল্লির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতা

শতাব্দী ধরে দিল্লি ছিল মোগল সাম্রাজ্যসহ বিভিন্ন পরাশক্তি রাজবংশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। ভারতীয় জনগণের মনস্তত্ত্ব জয় করতে এবং নিজেদের মোগলদের প্রকৃত উত্তরসূরি হিসেবে জাহির করতে ব্রিটিশরা দিল্লিতে রাজধানী সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

২. ১৯১১ সালের রাজকীয় দিল্লি দরবার ও গোপন ঘোষণা

১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর দিল্লির ‘কিংসওয়ে ক্যাম্প’ ময়দানে আয়োজন করা হয় এক ঐতিহাসিক রাজকীয় দরবার। এটিই ছিল একমাত্র দিল্লি দরবার যেখানে ব্রিটেনের তৎকালীন সম্রাট পঞ্চম জর্জ এবং সম্রাজ্ঞী কুইন মেরি সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।

দরবারের একেবারে শেষ মুহূর্তে রাজা পঞ্চম জর্জ আকস্মিকভাবে জোড়া ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন: ১. তীব্র গণআন্দোলনের মুখে নতি স্বীকার করে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ রদ (বাতিল) করা হলো। ২. ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী চিরতরে কলকাতা থেকে সরিয়ে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হবে।

বাঙালিকে শান্ত করতে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হলেও, রাজধানী কেড়ে নিয়ে কলকাতার প্রশাসনিক গুরুত্ব এক ধাক্কায় অনেক কমিয়ে দেওয়া হয়।

৩. চাঁদনি চক ষড়যন্ত্র: ভাইসরয়ের ওপর দুঃসাহসিক হামলা (১৯১২)

বাঙালি বিপ্লবীরা এই অপমান সহজে মেনে নেননি। রাজধানী স্থানান্তরের ঠিক এক বছর পূর্তিতে ২৩ ডিসেম্বর, ১৯১২ তারিখে ঘটে এক রোমাঞ্চকর ঘটনা।

নতুন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ (Lord Hardinge) যখন বিশাল শোভাযাত্রা নিয়ে হাতির পিঠে চড়ে দিল্লির ঐতিহাসিক চাঁদনি চকে প্রবেশ করছিলেন, তখন নারীদের ভিড়ে মিশে থাকা তরুণ বিপ্লবী বসন্ত কুমার বিশ্বাস তাঁর দিকে শক্তিশালী একটি বোমা ছুঁড়ে মারেন।

বোমার বিস্ফোরণে হাতির চালক (মহাবত) ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ গুরুতর আহত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। এই সশস্ত্র হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড রাসবিহারী বসু ও শচীন সান্যাল।

৪. মাস্টারমাইন্ড রাসবিহারী বসু: লর্ড হার্ডিঞ্জ হামলা থেকে ‘পি. এন. ঠাকুর’ ছদ্মবেশ

হামলার পরপরই পুরো দিল্লি পুলিশ তোলপাড় শুরু করলেও রাসবিহারী বসু অত্যন্ত চতুরতার সাথে ট্রেনে চেপে দেরাদুনে নিজ কর্মস্থলে ফিরে আসেন। পরদিন অফিসে গিয়ে উল্টো সহকর্মীদের নিয়ে ভাইসরয়ের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শোকসভা করেন! ফলে পুলিশ শুরুতে তাঁকে বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেনি।

  • গদর বিপ্লবের ছক (১৯১৫): প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সুযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘গদর পার্টি’র সহায়তায় ভারতজুড়ে সেনা অভ্যুত্থানের ছক আঁকেন তিনি। কিন্তু ভেতরে থাকা গোয়েন্দার বিশ্বাসঘাতকতায় তথ্য ফাঁস হলে ১৯১৫ সালে তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দূরসম্পর্কের আত্মীয় ‘পি. এন. ঠাকুর’ (P. N. Tagore) ছদ্ম নাম নিয়ে জাহাজে করে জাপানে পালিয়ে যান।
  • জাপানে রাজনৈতিক আশ্রয়: জাপানেও ব্রিটিশ গোয়েন্দারা পিছু ছাড়েনি। কিন্তু পরবর্তীতে জাপানি প্রভাবশালী নেতা তোয়ামা মিৎসুরুর আশ্রয়ে থেকে এবং জাপানি নারী তোশিকো সোমাকে বিয়ে করে ১৯২৩ সালে জাপানের নাগরিকত্ব পান রাসবিহারী বসু।

৫. আজাদ হিন্দ ফৌজ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সাথে মেলবন্ধন (১৯৪৩–১৯৪৫)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪২ সালে জাপানে বন্দী ভারতীয় সৈন্যদের নিয়ে রাসবিহারী বসু গঠন করেন ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি’ (INA) বা আজাদ হিন্দ ফৌজ।

  • ঐতিহাসিক দায়িত্ব হস্তান্তর: দূরদর্শী রাসবিহারী বসু বুঝতে পেরেছিলেন এই বিশাল আন্দোলন পরিচালনার জন্য সুভাষচন্দ্র বসুর মতো আপসহীন নেতৃত্ব প্রয়োজন। ১৯৪৩ সালের ৪ জুলাই সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি সানন্দে আজাদ হিন্দ ফৌজ ও ‘ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগ’-এর শীর্ষ নেতৃত্ব নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর হাতে তুলে দেন। নেতাজি তাঁকে আন্দোলনের ‘সর্বোচ্চ উপদেষ্টা’ পদে সম্মান জানান।
  • শেষ বিদায় (১৯৪৪–১৯৪৫): দীর্ঘদিন যক্ষ্মা ও হাঁপানিতে ভোগা রাসবিহারী বসুর স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতেন নেতাজি নিজে। ১৯৪৪ সালের শেষদিকে টোকিওতে মৃত্যুশয্যায় শায়িত রাসবিহারী বসুর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন নেতাজি। ১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি এই মহান বিপ্লবী শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে নেতাজি তাঁকে “পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের জনক” হিসেবে অভিহিত করেন।

৬. স্বাধীন ভারতের নতুন দিল্লি ও শিমলার ভূমিকা

দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তরের ঘোষণা ১৯১১ সালে হলেও, প্রখ্যাত স্থপতি এডউইন লুটিয়েন্স এবং হারবার্ট বেকার-এর নকশায় পরিকল্পিত আধুনিক ‘নতুন দিল্লি’ (Lutyens’ Delhi) শহর তৈরি হতে ২০ বছর সময় লাগে। ১৯৩১ সালে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এই দীর্ঘ সময়টাতে ব্রিটিশরা গ্রীষ্মকালে পাহাড়ি শহর শিমলা (Simla) থেকে তাদের প্রশাসনিক কাজ চালাত।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর স্বাধীন ভারতের হাতে আসে তৈরি করা রাষ্ট্রপতি ভবন, সংসদ ভবন ও সচিবালয়ের মতো সুবিশাল পরিকাঠামো। একটি সদ্য স্বাধীন ও অর্থ সংকটে থাকা দেশের জন্য নতুন করে কোটি কোটি টাকা খরচ করে নতুন কোনো শহরে রাজধানী তৈরি করা সম্ভব ছিল না। তাই কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধার্থে নতুন দিল্লিই থেকে যায় স্বাধীন ভারতের রাজধানী হিসেবে।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আধুনিক ও জটিল সমাজে মানসিক শান্তি ও সঠিক পথের সন্ধানে নবী-রাসূলদের আদর্শের গুরুত্ব অপরিসীম। জেনে নিন নবী রাসূলদের জীবনী থেকে শিক্ষা

নিউজ ডেস্ক

November 6, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ইসলাম ও জীবন
তথ্যসূত্র: আল-কোরআনের তাফসির (তাফসির ইবনে কাসির), সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদিস এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত নবী-রাসূলদের জীবনী গ্রন্থ। 

বর্তমান ২০২৬ সালের আধুনিক ও তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ যুগে মানুষ বাহ্যিক ও বস্তুগত দিক থেকে অনেক উন্নত হলেও, মানসিক প্রশান্তি, নৈতিকতা ও জীবনবোধের দিক থেকে এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতি-ব্যবহার, পারস্পরিক দূরত্বের এই যুগে সঠিক জীবনদর্শনের অভাব স্পষ্ট। মানবজাতির হেদায়েত ও সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে যে নবী-রাসূলদের পাঠিয়েছেন, তাদের জীবন কেবল ইতিহাসের কিছু গল্প নয়; বরং তা কেয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য এক জীবন্ত ও কালজয়ী গাইডলাইন। এই বিশেষ সিরিজের ১ম পর্বে আমরা আলোচনা করব নবী-রাসূলদের অনন্য জীবন থেকে আজকের দিনে আমাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার মতো ৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। 

১. হযরত আইয়ুব (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: চরম বিপদেও মানসিক শক্তি ও ধৈর্য (Patience)
আজকের যুগে সামান্য আর্থিক ক্ষতি, চাকরি হারানো কিংবা পারিবারিক বা শারীরিক অসুস্থতায় মানুষ দ্রুত হতাশ হয়ে পড়ে, এমনকি অনেকে আত্মহননের পথও বেছে নেয়। এই মানসিক সংকটে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় আদর্শ হলেন হযরত আইয়ুব (আ.)। 

আল্লাহ তাআলা তাঁকে দীর্ঘ বছর ধরে কঠিন রোগ, সন্তানদের মৃত্যু এবং সমস্ত ধন-সম্পদ হারানোর মাধ্যমে পরীক্ষা করেছিলেন। কিন্তু এমন চরম সংকটেও তিনি আল্লাহর প্রতি বিন্দুমাত্র অভিযোগ করেননি, বরং চরম ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। 

  • আজকের দিনের শিক্ষা: আধুনিক জীবনে বিষণ্ণতা (Depression) বা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে ইতিবাচক থাকা এবং বিশ্বাস রাখা যে—কষ্টের পরেই স্বস্তি আসে। বিপদে অধৈর্য না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই হলো সফলতার মূল চাবি। 

২. হযরত ইউসুফ (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: নৈতিক স্খলন ও প্রলোভন থেকে নিজেকে রক্ষা করা (Self-Control)
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং সামাজিক মাধ্যমের উন্মুক্ততার কারণে তরুণ প্রজন্মের সামনে পর্নোগ্রাফি, অবৈধ সম্পর্ক এবং নৈতিক স্খলনের নানামুখী প্রলোভন প্রতিনিয়ত আসছে। নিজের চরিত্র ও নৈতিকতা ধরে রাখা আজকের দিনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 

হযরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন অপরূপ সুন্দর এবং যুবক। মিশরের আজিজের স্ত্রী যখন ঘরের সমস্ত দরজা বন্ধ করে উনাকে পাপের দিকে আহ্বান করেছিল, তখন তিনি সমস্ত প্রলোভন ও ক্ষমতার দাপটকে তুচ্ছ করে বলেছিলেন, “আমি আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি।” পাপের চেয়ে তিনি কারাগারের বন্দিজীবনকে বেছে নিয়েছিলেন। 

  • আজকের দিনের শিক্ষা: চারপাশে যত বড় বা সহজ প্রলোভনই থাকুক না কেন, আল্লাহর ভয়কে অন্তরে জাগ্রত রেখে নিজের আত্মনিয়ন্ত্রণ (Self-Control) বজায় রাখা। ক্যারিয়ার বা জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সাময়িক আনন্দের চেয়ে চিরস্থায়ী নৈতিকতা ও সততাকে প্রাধান্য দেওয়া। 

৩. হযরত নূহ (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: সামাজিক সমালোচনা উপেক্ষা করে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা (Perseverance)
আজকের দিনে তরুণ বা উদ্যোক্তারা যখন নতুন বা ভালো কোনো কাজ করতে যায়, তখন সমাজের মানুষের সমালোচনা, ট্রল বা উপহাসের শিকার হয়ে অনেকেই মাঝপথে কাজ ছেড়ে দেয়। মানুষের কথা বা সামাজিক চাপের মুখে নিজের সৎ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া খুবই সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

হযরত নূহ (আ.) যখন আল্লাহর নির্দেশে মরুভূমির বুকে বিশাল নৌকা তৈরি করছিলেন, তখন সমকালীন সমাজের মানুষ উনাকে দেখে চরম উপহাস করত, পাগল বলত। কিন্তু তিনি মানুষের কোনো উপহাস বা ট্রলের দিকে কান না দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই নৌকাই বিশ্বাসীদের রক্ষা করেছিল। 

  • আজকের দিনের শিক্ষা: আপনি যদি নিশ্চিত হন যে আপনার কাজটি সৎ, সঠিক এবং মানবকল্যাণকর, তবে সমাজ বা সোশ্যাল মিডিয়ার মানুষ কী বলল বা কী ট্রল করল—তাতে কান না দিয়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা। দৃঢ় সংকল্প এবং কঠোর পরিশ্রমই শেষ পর্যন্ত সত্যকে জয়ী করে। 


নবী-রাসূলদের এই চমৎকার ঐতিহাসিক শিক্ষাগুলো কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং আমাদের প্রতিদিনের আচরণ, কর্মক্ষেত্র ও পারিবারিক জীবনে চর্চা করা উচিত। তবেই আমরা এই আধুনিক ও জটিল পৃথিবীতে একটি শান্তিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হব। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

সংবিধান দিবস

নিউজ ডেস্ক

November 4, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: জাতীয়
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ গণপরিষদের কার্যবিবরণী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের সংবিধানের মূল প্রস্তাবনা। 

আজ ৪ নভেম্বর, ঐতিহাসিক ‘বাংলাদেশ সংবিধান দিবস’। ১৯৭৫ সালের পর দীর্ঘ সময় এই দিনটি উপেক্ষিত থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন তথা সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়েছিল। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ১১ মাসের মাথায় কীভাবে একটি বিশ্বমানের ও যুগোপযোগী সংবিধান লাভ করেছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। নিচে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা ও গ্রহণের সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। 

১. পটভূমি ও গণপরিষদ আদেশ জারি
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করার পর একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নিজস্ব আইনি কাঠামোর প্রয়োজন দেখা দেয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। এর পরদিনই অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি তিনি ‘অস্থায়ী সংবিধান আদেশ’ জারি করেন। এর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন করা হয়। 

পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করা হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে এই গণপরিষদ গঠিত হয়, যার মূল দায়িত্ব ছিল দেশের জন্য একটি স্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন করা। ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। 

২. খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন
গণপরিষদের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘সংবিধান প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করা হয়। এই কমিটিতে একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু। এছাড়া তৎকালীন বিরোধী দলের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। 

কমিটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের কাজ শুরু করে। বিভিন্ন দেশের সংবিধান পর্যালোচনা এবং দেশের আপামর জনসাধারণের মতামত সংগ্রহের জন্য তারা ব্যাপক উদ্যোগ নেন। সর্বস্তরের জনগণের কাছ থেকে মোট ৯৮টি লিখিত প্রস্তাব সংগ্রহ করা হয়েছিল। ভারত ও যুক্তরাজ্যের সংবিধানকে মূল ভিত্তি ধরে খসড়া তৈরির কাজ এগিয়ে চলে। 

৩. খসড়া উত্থাপন ও বিতর্ক
দীর্ঘ কঠোর পরিশ্রমের পর ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ড. কামাল হোসেন খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করেন। ১৯ অক্টোবর থেকে এর ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। 

সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদ ও ধারা নিয়ে গণপরিষদে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনা হয়। গণপরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব আনেন। মোট ৪১টি অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর সংবিধানের প্রতিটি বিষয়কে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়। 

৪. সংবিধান গ্রহণ ও কার্যকর
অবশেষে ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে ‘বাংলাদেশের সংবিধান’ গৃহীত হয়। সংবিধান গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, “এই সংবিধান শহীদের রক্তে লিখিত, এ সংবিধান সমগ্র জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকবে।” 

এর ঠিক দেড় মাস পর, অর্থাৎ বিজয়ের প্রথম বার্ষিকী—১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ থেকে এই সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়। সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপিটি ছিল হাতে লেখা, যা শিল্পী হাশেম খানের নকশায় এবং প্রখ্যাত ক্যালিগ্রাফার আবদুর রউফের হাতের লেখায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। এতে স্বাক্ষর করেছিলেন গণপরিষদের সদস্যবৃন্দ। 


একটি দেশের সংবিধান কেবল কিছু আইনের সমষ্টি নয়, এটি রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের সংবিধানের মূল স্তম্ভ ছিল চারটি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। সময়ের আবর্তে এই সংবিধানে বহু পরিবর্তন ও সংশোধনী আনা হলেও, ৪ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সবসময়ই অনস্বীকার্য। তরুণ প্রজন্মের জন্য নিজেদের অধিকার ও রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা বুঝতে সংবিধান রচনার এই ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরি। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

আজকের ডলার রেট ২০২৬

নিউজ ডেস্ক

November 4, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank FX Reference), ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (EBL Currency Tracker), জাগোনিউজ২৪ মুদ্রা বাজার প্রতিবেদন এবং ওয়াইজ (Wise) রিয়েল-টাইম এক্সচেঞ্জ ডেটা। 

বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার বা এক্সচেঞ্জ রেট পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয় (Remittance) পাঠানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ডলার, ইউরো ও মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বর্তমান রেট জানা অত্যন্ত জরুরি। ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের সর্বশেষ অফিসিয়াল ডেটা এবং খোলা বাজারের লেনদেন হারের ওপর ভিত্তি করে আজকের বিস্তারিত রেট নিচে তুলে ধরা হলো। 

১. একনজরে আজকের প্রধান প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
আন্তর্জাতিক ইন্টারব্যাংক মার্কেট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী আজকের প্রধান তিনটি মুদ্রার গড় ক্রয় (Buying Rate) ও বিক্রয় মূল্য (Selling Rate) নিচে দেওয়া হলো: 

  • মার্কিন ডলার (USD): বাংলাদেশ ব্যাংকের আজকের অফিসিয়াল এফএক্স রেফারেন্স রেট অনুযায়ী প্রতি ডলারের মূল্য ১২৪.৩৫ টাকা থেকে ১২৪.৫০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। ব্যাংকভেদে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এটি ১২৩.৩০ টাকা (ক্রয়) এবং ১২৪.৮০ টাকা (বিক্রয়) পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। 
  • ইউরো (EUR): ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আজ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশি টাকায় আজ ১ ইউরোর গড় বাজার মূল্য বা মিড-মার্কেট রেট প্রায় ১৪০.১১ টাকা। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এটি সর্বোচ্চ ১৪১.৭৪ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে। 
  • মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR): মালয়েশিয়া প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য আজ রিঙ্গিতের রেট বেশ স্থিতিশীল। ৪ নভেম্বর ২০২৬-এর লাইভ কারেন্সি চার্ট অনুযায়ী ১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত সমান ৩০.৬৩ টাকা (মিড-মার্কেট রেট)। বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাউজ ও ব্যাংকে এটি ৩০.২৫ টাকা (ক্রয়) এবং ৩০.৬৬ টাকা (বিক্রয়) সীমার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে। 

২. বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR) রেটের তুলনা
প্রবাসীদের সুবিধার্থে নিচে একটি তুলনামূলক তালিকা দেওয়া হলো। মালয়েশিয়া থেকে ১০০০ রিঙ্গিত বাংলাদেশে পাঠালে আজ কোন মাধ্যমে চার্জ ছাড়া আনুমানিক কত টাকা পাওয়া যাবে তা দেখে নিন: 

  • Wise (অনলাইন ট্রান্সফার): বিনিময় হার ৩০.৫৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৫৪০ টাকা। 
  • Agrani Remittance House: বিনিময় হার ৩০.৪৫ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৪৫০ টাকা। 
  • Al-Rajhi Bank: বিনিময় হার ৩০.৪৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৪৪Tokens বা টাকা। 
  • Western Union (ক্যাশ পিকআপ): বিনিময় হার ৩০.৩৯ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৩৯০ টাকা। 

৩. আন্তর্জাতিক কার্ড পেমেন্ট ও ই-কমার্স রেট
আপনি যদি আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড (যেমন- EBL, City Bank, বা অন্যান্য ডুয়াল কারেন্সি কার্ড) ব্যবহার করে ই-কমার্স পারচেজ কিংবা ফেসবুক/গুগল বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করতে চান, তবে আপনার জন্য রেট কিছুটা ভিন্ন হবে। আজ বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড এনডোর্সমেন্ট রেট প্রতি ডলারের জন্য ১২৪.৯৫ টাকা থেকে ১২৫.২০ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে (ভ্যাট ও ব্যাংক প্রসেসিং ফি আলাদা প্রযোজ্য)। 

  • রেট পরিবর্তনশীল: কারেন্সি এক্সচেঞ্জ রেট বা মুদ্রার মান প্রতি সেকেন্ডে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই টাকা কিংবা রেমিট্যান্স পাঠানোর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আপনার নিকটস্থ ব্যাংক শাখা বা অনুমোদিত মানি চেঞ্জারের লাইভ স্ক্রিন থেকে রেটটি কনফার্ম করে নিন। 
  • হুন্ডি বা অবৈধ মাধ্যম বর্জন করুন: যেকোনো ধরনের অবৈধ হুন্ডি চ্যানেলে টাকা পাঠানো আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল কিংবা সরকার অনুমোদিত মানি ট্রান্সফার অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠালে সরকার ঘোষিত ২.৫% নগদ প্রণোদনা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে যুক্ত হবে এবং আপনার কষ্টার্জিত অর্থ শতভাগ নিরাপদ থাকবে। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২২শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ