অর্থনীতি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিডিএস নিউজ ডেস্ক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা: একটি জাতিরাষ্ট্রের উন্নয়ন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি নিরবচ্ছিন্ন ইতিহাসের এক ধারাবাহিক পরিক্রমা। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ যখন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে সমৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে পা রাখছে, তখন ইতিহাসের ধূলো ঝেড়ে আলোচনা উঠছে—আজকের এই আধুনিক অবকাঠামোর গোড়াপত্তন ও বিকাশের নেপথ্য কারিগর কারা? ১৯৪৭-এর দেশভাগ থেকে ১৯৭১-এর মুক্তি সংগ্রাম এবং বর্তমানের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’—প্রতিটি অধ্যায়ই একে অপরের পরিপূরক।

১. প্রাতিষ্ঠানিক গোড়াপত্তন: পাকিস্তান আমলের উত্তরাধিকার (১৯৪৭–১৯৭১)

ব্রিটিশদের ২০০ বছরের শাসনামলে পূর্ববঙ্গ (বর্তমান বাংলাদেশ) শিক্ষা ও অবকাঠামোতে চরম অবহেলার শিকার ছিল। ১৯২১ সালে অনেক বাধা পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও পাকিস্তান আমলের ২৪ বছরে এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি কাঠামোর ব্যাপক বিস্তার ঘটে।
- শিক্ষা ও প্রযুক্তি: বর্তমানের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠগুলোর বড় অংশই পাকিস্তান আমলের অবদান। ৪টি প্রধান প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট ও কুয়েট) এবং গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ও মেডিকেল কলেজগুলো ১৯৪৯ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ইস্ট পাকিস্তান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট’ (বর্তমান বুটেক্স) ছিল এ অঞ্চলের বস্ত্র শিল্পের প্রথম সোপান।
- নগরায়ন ও স্থাপত্য: কমলাপুর রেলস্টেশন, শেরেবাংলা নগরের সেকেন্ড ক্যাপিটাল পরিকল্পনা, এমনকি যমুনা সেতুর প্রাথমিক প্রশাসনিক অনুমোদন (১৯৬৬) পাকিস্তান আমলেই সম্পন্ন হয়েছিল। ঢাকা জাদুঘর থেকে শুরু করে ধানমন্ডি-বনানীর মতো আবাসিক এলাকার পত্তনও ওই সময়েই ঘটে।
- শিল্পায়ন: আদমজী জুট মিল, কর্ণফুলী পেপার মিল এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির মতো ভারী শিল্পগুলো এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড তৈরি করেছিল।
২. স্বনির্ভরতার যুদ্ধ: ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ থেকে ‘উদীয়মান বাঘ’

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ এক প্রায় অসম্ভব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। তৎকালীন অনেক অর্থনীতিবিদ হতাশাবাদ ব্যক্ত করলেও, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ নিজেকে বিশ্বমঞ্চে এক ‘উন্নয়ন বিস্ময়’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
- খাদ্য ও কৃষি: পাকিস্তান আমলে যে অঞ্চল খাদ্য ঘাটতিতে ছিল, আজ ১৮ কোটি মানুষের দেশে বাংলাদেশ ধান, মাছ ও সবজি উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি।
- অবকাঠামোগত বিপ্লব: নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। এছাড়া মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেল এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশটিকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে নিয়ে যাচ্ছে।
- পোশাক শিল্প ও সামাজিক সূচক: বিশ্ব বাজারে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে বাংলাদেশ আজ অজেয়। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সূচকে অনেক ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোকেও বাংলাদেশ পেছনে ফেলেছে।
৩. ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ভিন্ন পথ

বর্তমান ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ দুটি ভিন্ন ধারায় উন্নয়ন করেছে। পাকিস্তান সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে শক্তিশালী হয়েছে। তাদের রয়েছে অত্যাধুনিক পারমাণবিক অস্ত্রাগার (শাহীন-৩, গৌরী মিসাইল) এবং চীনের সহযোগিতায় তৈরি শক্তিশালী বিমান বাহিনী। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সামরিক শক্তির চেয়ে অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
৪. ব্রিটিশ বনাম উত্তর-স্বাধীনতা যুগ: একটি পরিসংখ্যানগত পাঠ

ব্রিটিশদের ২০০ বছরে যেখানে মাত্র ১টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১টি মেডিকেল কলেজ ছিল, সেখানে বর্তমানে বাংলাদেশে ১৬০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শতাধিক মেডিকেল কলেজ রয়েছে। পাকিস্তান আমলে স্বাক্ষরিত হওয়া ১৭টি পলিটেকনিকের বিপরীতে আজ ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠান কারিগরি শিক্ষা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকের পর্যবেক্ষণ
উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। ১৯৪৭-এর পর যে অবকাঠামোগত বীজ বপন করা হয়েছিল, ১৯৭১-এর স্বাধীনতার পর তাকে আধুনিক প্রযুক্তি ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে আজকের মহীরুহে পরিণত করেছে এ দেশের মানুষ। পাকিস্তান আমলের প্রতিষ্ঠানগুলো যদি হয় ‘ভিত্তি’, তবে স্বাধীন বাংলাদেশের অর্জন হলো সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আকাশ ছোঁয়ার এক ‘সাফল্য গাঁথা’।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স (Reference List):
- ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) এবং ঐতিহাসিক শিক্ষা গেজেট।
- বই: ‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের বিস্ময়’ – আতিউর রহমান।
- বই: ‘The Economy of Pakistan’ – বিভিন্ন গবেষক (ঐতিহাসিক তথ্য)।
- নিবন্ধ: ‘Social Development in Bangladesh’ – অমর্ত্য সেন (২০১৩/২০১৫ বক্তৃতা)।
- আন্তর্জাতিক তথ্য: বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ কান্ট্রি প্রোফাইল ২০২৬।
- টকশো: এনটিভি ও সময় টিভির ‘রাজনীতি ও উন্নয়ন’ বিশেষ আলাপচারিতা।
নিউজ ডেস্ক: বিডিএস ডিজিটাল মিডিয়া
সার্বিক তত্ত্বাবধানে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৮ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বিকাশ (bKash), নগদ (Nagad) এবং রকেট (Rocket-DBBL)-এর অফিশিয়াল ট্যারিফ চার্ট ও কাস্টমার কেয়ার পলিসি নির্দেশিকা।
বাংলাদেশে ক্যাশলেস লেনদেন এবং দৈনিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার সিংহভাগই এখন নিয়ন্ত্রিত হয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (MFS) বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। বিকাশ, নগদ এবং রকেট আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠলেও, অনেক ব্যবহারকারীই এদের বিভিন্ন লেনদেন চার্জ এবং হিডেন কস্ট (গোপন খরচ) সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। কোন মাধ্যমে টাকা কাটলে আপনার খরচ সবচেয়ে কম হবে এবং কোথায় কী ধরণের অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া হয়, তা গুগলের ২০২৬ সালের ফিন্যান্সিয়াল ট্রান্সপারেন্সি গাইডলাইন অনুযায়ী নিচে বিস্তারিত ও স্বচ্ছভাবে তুলনা করা হলো।
১. ক্যাশ আউট চার্জের তুলনা (Cash Out Charge Comparison)
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সবচেয়ে বড় খরচ হলো ‘ক্যাশ আউট’ বা এজেন্ট থেকে টাকা তোলার চার্জ। অ্যাপ (App) এবং বাটন ফোনের ইউএসএসডি (USSD) কোড ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে চার্জের তারতম্য নিচে দেওয়া হলো:
- বিকাশ (bKash):
- অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ ক্যাশ আউট চার্জ প্রতি হাজারে ১৮.৫০ টাকা।
- ইউএসএসডি কোড (
*247#) দিয়ে ক্যাশ আউট করলে প্রতি হাজারে ১৮.৫০ টাকা। - তবে বিকাশের ১টি ‘প্রিয় এজেন্ট’ নম্বর সেট করলে প্রতি হাজারে ১৪.৯০ টাকা রেটে (মাসে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত) ক্যাশ আউট করা যায়।
- নগদ (Nagad):
- অ্যাপের মাধ্যমে ক্যাশ আউট চার্জ প্রতি হাজারে ১২.৫০ টাকা (ভ্যাটসহ ১৪.৯৭ টাকা)।
- ইউএসএসডি কোড (
*167#) ব্যবহার করলে চার্জ প্রতি হাজারে ১৪.৯৪ টাকা (ভ্যাটসহ ১৮.৫০ টাকা)।
- রকেট (Rocket):
- অ্যাপ এবং ইউএসএসডি (
*322#) উভয় মাধ্যমেই সাধারণ এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউট চার্জ প্রতি হাজারে ১৫.০০ টাকা (ভ্যাটসহ প্রায় ১৮.০০ টাকা)। - তবে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নিজস্ব এটিএম (ATM) বুথ থেকে রকেট অ্যাপ ব্যবহার করে ক্যাশ আউট করলে প্রতি হাজারে মাত্র ৯.০০ টাকা চার্জ কাটে।
- অ্যাপ এবং ইউএসএসডি (
২. সেন্ড মানি ও পিটুপি চার্জ (Send Money Charges)
এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রেও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম:
- বিকাশ: অ্যাপের মাধ্যমে ৫টি ‘প্রিয় নম্বর’ (Prize Numbers) সেট করলে ১০০ টাকা থেকে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত সেন্ড মানি সম্পূর্ণ ফ্রি। প্রিয় নম্বর ছাড়া অ্যাপ বা ইউএসএসডি-তে ৫ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত ফ্ল্যাট ফি কাটে।
- নগদ: নগদ অ্যাপ থেকে যেকোনো নম্বরে সেন্ড মানি করা সম্পূর্ণ ফ্রি। তবে বাটন ফোনে ইউএসএসডি কোড ব্যবহার করে সেন্ড মানি করলে প্রতি লেনদেনে ৪.০০ টাকা প্লাস ভ্যাট চার্জ কাটে।
- রকেট: রকেটে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সেন্ড মানি চার্জ প্রতি লেনদেনে ৫.০০ টাকা।
৩. মোবাইল ব্যাংকিংয়ের “হিডেন কস্ট” বা গোপন খরচসমূহ

অফিশিয়াল ট্যারিফ চার্টের বাইরেও কিছু ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অজান্তেই টাকা কেটে নেওয়া হয়, যা নিচে উন্মোচন করা হলো:
- অ্যাপ বনাম ইউএসএসডি জালিয়াতি (নগদ): নগদের বিজ্ঞাপনে “হাজারে ১১.৪৯ টাকা” বা “১২.৫০ টাকা” ক্যাশ আউটের কথা বলা হলেও, এটি কেবল অ্যাপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বাটন ফোনের সাধারণ গ্রাহকেরা যখন ইউএসএসডি কোড দিয়ে টাকা তোলেন, তখন তাদের কাছ থেকে পুরো ১৮.৫০ টাকাই কেটে নেওয়া হয়, যা অনেক সাধারণ গ্রাহকই খেয়াল করেন না।
- ভ্যাট এবং ফ্র্যাকশন কস্ট (Fraction Cost): অনেক অপারেটর মূল চার্জের সাথে ১৫% সরকারি ভ্যাট আলাদাভাবে যোগ করে। যেমন নগদের ১২.৫০ টাকার সাথে ভ্যাট যুক্ত হয়ে সেটি প্রকৃতপক্ষে ১৪.৯৭ টাকা দাঁড়ায়।
- লিমিট ক্রস পেনাল্টি: বিকাশ বা রকেটে নির্দিষ্ট মাসিক লেনদেনের লিমিট (যেমন ক্যাশ আউট বা সেন্ড মানি কাউন্ট) পার হয়ে গেলে পরবর্তী লেনদেনগুলোর জন্য অতিরিক্ত পেনাল্টি চার্জ বা উচ্চতর ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
- ব্যাংক টু এমএফএস ট্রান্সফার ফি: ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা আনার (Add Money) সময় বেশিরভাগ ব্যাংক ফ্রি দিলেও, কিছু নির্দিষ্ট ব্যাংক কার্ড থেকে টাকা লোড করার সময় ১% থেকে ২% পর্যন্ত প্রসেসিং ফি বা হিডেন ইনভয়েস চার্জ কেটে রাখে।
৪. একনজরে মোবাইল ব্যাংকিং চার্জের তুলনামূলক ছক (১,০০০ টাকার হিসাবে)
| লেনদেনের ধরণ | বিকাশ (bKash) | নগদ (Nagad) | রকেট (Rocket) |
|---|---|---|---|
| অ্যাপ ক্যাশ আউট | ৳১৮.৫০ (প্রিয় এজেন্টে ৳১৪.৯০) | ৳১৪.৯৭ (ভ্যাটসহ) | ৳১৮.০০ (ATM বুথে ৳৯.০০) |
| USSD ক্যাশ আউট | ৳১৮.৫০ | ৳১৮.৫০ (ভ্যাটসহ) | ৳১৮.০০ |
| অ্যাপ সেন্ড মানি | ফ্রি (৫টি প্রিয় নম্বরে) | সম্পূর্ণ ফ্রি | ৳৫.০০ |
| বিল পে (Bill Pay) | প্রতিষ্ঠানভেদে ৳৫ – ৳৩০ | ফ্রি থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট ফি | প্রতিষ্ঠানভেদে চার্জ প্রযোজ্য |
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ক্যাশ আউট করার ক্ষেত্রে অ্যাপ ব্যবহার করাই সবচেয়ে সাশ্রয়ী। আপনি যদি বিকাশের নিয়মিত গ্রাহক হন, তবে আপনার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বিশ্বস্ত এজেন্ট নম্বরটিকে অবশ্যই ‘প্রিয় এজেন্ট’ হিসেবে সেট করে রাখুন, এতে আপনার প্রতি হাজারে ৩.৬০ টাকা সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে, আপনার আসেপাশে যদি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থাকে, তবে রকেট অ্যাপ ব্যবহার করে বুথ থেকে টাকা তোলাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ এখানে খরচ অর্ধেকেরও কম (মাত্র ৯ টাকা)। কোনো অবস্থাতেই অপরিচিত কাউন্টার বা লিংকে আপনার পিন (PIN) বা ওটিপি (OTP) শেয়ার করবেন না।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৮ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank Monthly FX), বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS), ওয়াইজ (Wise) রিয়েল-টাইম এক্সচেঞ্জ রেট এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং চ্যানেল।
নভেম্বর ২০২৬-এর প্রথম সপ্তাহে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা গেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের সংশোধন এবং দেশের অভ্যন্তরে রেমিট্যান্সের অফিসিয়াল রেটের কিছুটা ওঠানামা এই সপ্তাহের প্রধান আলোচিত বিষয় ছিল। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানো এবং স্থানীয় বাজারে কেনাকাটার সুবিধার্থে চলতি সপ্তাহের (৮ নভেম্বর ২০২৬-এ শেষ হওয়া সপ্তাহ) ডলার, ইউরো, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং পাকা স্বর্ণের বাজারদরের একটি পূর্ণাঙ্গ সাপ্তাহিক রাউন্ডআপ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. বৈদেশিক মুদ্রার সাপ্তাহিক রাউন্ডআপ (ডলার, ইউরো ও রিঙ্গিত)
চলতি সপ্তাহে ব্যাংকিং চ্যানেল ও খোলা বাজারে প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রাগুলোর গড় লেনদেন হার ছিল নিম্নরূপ:
- মার্কিন ডলার (USD): এই সপ্তাহে মার্কিন ডলারের রেট তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রলিং পেগ ও অফিশিয়াল মিড-রেট অনুযায়ী প্রতি ডলার ১২৪.৩৫ টাকা থেকে ১২৪.৫০ টাকার মধ্যে লেনদেন হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের রেমিট্যান্স ক্রয়ের ক্ষেত্রে গড় রেট দিয়েছে ১২৩.৩০ – ১২৩.৫০ টাকা এবং সাধারণ আমদানিকারক ও গ্রাহকদের কাছে ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৪.৮০ টাকা পর্যন্ত।
- ইউরো (EUR): ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর দাম এই সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে কিছুটা ওঠানামা করেছে। বাংলাদেশি টাকায় চলতি সপ্তাহে ১ ইউরোর গড় মিড-মার্কেট রেট ছিল প্রায় ১৪০.১১ টাকা, যা ব্যাংকভেদে সর্বোচ্চ ১৪১.৭৪ টাকা পর্যন্ত ক্যাশ সেলিং রেটে কেনাবেচা হয়েছে।
- মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR): মালয়েশিয়া প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য চলতি সপ্তাহের রিঙ্গিত রেট বেশ সন্তোষজনক ছিল। ৪ থেকে ৮ নভেম্বরের লাইভ কারেন্সি চার্ট অনুযায়ী ১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত সমান ৩০.৬৩ টাকা (মিড-মার্কেট রেট)। বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাউজ ও মোবাইল ব্যাংকিং পার্টনারদের মাধ্যমে এটি প্রবাসীরা সর্বোচ্চ ৩০.৬৬ টাকা পর্যন্ত রেটে পাঠাতে পেরেছেন।
২. পাকা স্বর্ণ ও রুপার সাপ্তাহিক বাজারদর (Gold & Silver Price)
চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক এই সপ্তাহে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২,৭৪১ টাকা পর্যন্ত কমিয়েছে। চলতি সপ্তাহের সর্বশেষ বাজারদর:
- ২২ ক্যারেট (হলমার্ক ৯১৬): প্রতি ভরি ২,২৬,৯২৩ টাকা (প্রতি গ্রাম ১৯,৪৫৫ টাকা)।
- ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,১৬,৭১৭ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১,৮৬,০৯৯ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতির সোনা: প্রতি ভরি ১,৫২,০৪০ টাকা।
অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৩,৪৯৯ টাকা এবং ২১ ক্যারেট রুপার ভরি ৩,৩৮৩ টাকাতেই স্থিতিশীল রয়েছে।
৩. প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাউজের রেট তুলনা (১০০০ MYR হিসেবে)
এই সপ্তাহে মালয়েশিয়া থেকে প্রবাসীরা ১০০০ রিঙ্গিত দেশে পাঠালে কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে আনুমানিক যে পরিমাণ টাকা পেয়েছেন তা নিচে তুলে ধরা হলো:
- Wise (অনলাইন ট্রান্সফার): গড় রেট ৩০.৫৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে প্রবাসীরা পেয়েছেন ৩০,NT৪০ টাকা।
- Agrani Remittance House: গড় রেট ৩০.৪৫ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে প্রবাসীরা পেয়েছেন ৩০,৪৫০ টাকা।
- Al-Rajhi Bank: গড় রেট ৩০.৪৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে প্রবাসীরা পেয়েছেন ৩০,৪৪০ টাকা।
- Western Union (ক্যাশ পিকআপ): গড় রেট ৩০.৩৯ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে প্রবাসীরা পেয়েছেন ৩০,৩৯০ টাকা।
বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল ও পরিবর্তনশীল। যেকোনো ভূ-political বা অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে এই রেটগুলো প্রতিদিন এমনকি প্রতি ঘণ্টায় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা মূল্যবান ধাতু ক্রয়ের আগে সর্বদা সরকার অনুমোদিত ব্যাংক, মানি এক্সচেঞ্জ বা বাজুস-এর অফিসিয়াল লাইভ ডাটা চেক করে নিন। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে সরকার ঘোষিত ২.৫% নগদ প্রণোদনা নিশ্চিত করুন এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী রাখুন।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৮ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS), যুগান্তর অর্থনৈতিক প্রতিবেদন, এবং প্রবাসীর দিগন্ত বাজারদর গাইড।
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের ওঠানামা এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে খাঁটি সোনার (পাকা সোনা) সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। টানা কয়েক দফা দাম বাড়ার পর সাম্প্রতিক সংশোধনীতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। ৮ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ক্যারেটভেদে পাকা সোনা এবং রুপার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ও প্রতি গ্রামের অফিশিয়াল বাজারদর নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. একনজরে আজকের স্বর্ণের বাজারদর (BAJUS Gold Price)
আজকের নতুন দর অনুযায়ী ভ্যাটসহ দেশের বাজারে জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পাকা স্বর্ণের ভরি প্রতি মূল্য নিম্নরূপ:
- ২২ ক্যারেট (হলমার্ক ৯১৬): প্রতি ভরি ২,২৬,৯২৩ টাকা (প্রতি গ্রাম ১৯,৪৫৫ টাকা)। (পূর্বের তুলনায় ভরিতে ২,৭৪১ টাকা কমানো হয়েছে)।
- ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,১৬,৭১৭ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১,৮৬,০৯৯ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতির সোনা: প্রতি ভরি ১,৫২,০৪০ টাকা

২. একনজরে আজকের রুপার বাজারদর (Latest Silver Price)
স্বর্ণের দাম কিছুটা কমলেও দেশের বাজারে রুপা বা রৌপ্যের দাম বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। বাজুস নির্ধারিত ক্যাটাগরি অনুযায়ী আজ রুপার প্রতি ভরির বাজারদর নিচে দেওয়া হলো:
- ২২ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৩,৪৯৯ টাকা।
- ২১ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৩,৩৮৩ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ২,৯১৬ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতির রুপা: প্রতি ভরি ২,২১৬ টাকা।
৩. গহনা ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ (ভ্যাট ও মজুরি)
বাজুস নির্দেশিকা অনুযায়ী, উপরোক্ত মূল্যটি কেবল পাকা বা খাঁটি ধাতুটির মূল দাম। আপনি যদি শোরুম বা দোকান থেকে তৈরি করা কোনো স্বর্ণালঙ্কার বা রৌপলঙ্কার কিনতে চান, তবে ফাইনাল বিলের সাথে নিচের সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক ফি যুক্ত হবে
- সরকারি ভ্যাট: বিক্রয়মূল্যের ওপর বাধ্যতামূলক ৫% ভ্যাট (VAT) যুক্ত হবে।
- মেকিং চার্জ বা মজুরি: অলঙ্কারের ডিজাইন ও ক্যালিবারের ওপর ভিত্তি করে প্রতি ভরিতে সর্বনিম্ন ৬% থেকে ১৫% পর্যন্ত (কিংবা ডিজাইনভেদে নির্দিষ্ট মজুরি) মেকিং চার্জ যোগ হবে।
- পুরাতন সোনা বিক্রয়: আপনি যদি আপনার পুরাতন স্বর্ণালঙ্কার এক্সচেঞ্জ বা বিক্রি করতে চান, তবে বাজুসের নিয়ম অনুযায়ী মূল দাম থেকে ১৫% থেকে ১৭% পর্যন্ত বাদ দিয়ে মূল্য হিসাব করা হবে।
সোনার বাজার অত্যন্ত পরিবর্তনশীল এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খবরের ওপর ভিত্তি করে এর দাম যেকোনো সময় পুনর্নির্ধারণ হতে পারে। তাই অলঙ্কার তৈরি কিংবা ক্রয়ের উদ্দেশ্যে দোকানে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বাজুসের অফিশিয়াল লাইভ আপডেট বা নির্ভরযোগ্য জুয়েলারি মার্চেন্টদের কাছ থেকে রেটটি পুনরায় যাচাই করে নিন। সবসময় হলমার্ক ও ক্যারেট সিল (যেমন ২২ ক্যারেটের জন্য ৯১৬) যুক্ত সার্টিফাইড পাকা সোনা ক্রয়ের মাধ্যমে আপনার আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



