ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশ্লেষণ প্রতিবেদনকারীর নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার দিননাথ সেন রোডের দুই একর জায়গাজুড়ে এক সময় ধোঁয়া উঠত দেশি আয়ুর্বেদিক ওষুধের কারখানায়। নাম—সাধনা ঔষধালয় (ঢাকা)। স্বদেশি আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় ১৯১৪ সালে রসায়নবিদ যোগেশচন্দ্র ঘোষ যে প্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন, তা একদিকে যেমন উপমহাদেশজুড়ে ‘দেশি শিল্প’-এর প্রতীক, তেমনি ১৯৭১-এর গণহত্যায় প্রতিষ্ঠাতার প্রাণহানির বেদনাময় দলিল। আজ, আধুনিকায়নের চাপে উৎপাদন কমে এলেও প্রতিষ্ঠানের ‘মানুষকেন্দ্রিক’ ঐতিহ্য—দোকান বন্ধ থাকলেও কর্মীদের বেতন দেওয়া—এখনও আলোচনায়।
স্বদেশি ঢেউ থেকে জন্ম
বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫)–পরবর্তী স্বদেশি আন্দোলন দেশি শিল্পে যে জোয়ার তোলে, তার প্রতিফলনেই জন্ম নেয় বেঙ্গল কেমিক্যালসসহ অসংখ্য উদ্যোগ; একই ধারায় ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সাধনা ঔষধালয়’। প্রতিষ্ঠাতা যোগেশচন্দ্র কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নে এম.এসসি. (১৯০৮), ভাগলপুর কলেজে অধ্যাপনা করে ১৯১২-এ জগন্নাথ কলেজে যোগ দেন; ১৯১৪-তে ঢাকায় আয়ুর্বেদিক ওষুধের প্রথম আধুনিক ল্যাব হিসেবে ‘সাধনা’ চালু করেন।
বিস্তার, পণ্য, রপ্তানি
‘সাধনা’ দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে—ড্যাশামূলারিষ্ঠ, চ্যবনপ্রাশ, ‘সারিবাদি সালসা’, বিউটি ক্রিমসহ নানা পণ্য বাজার দখল করে। ব্রিটিশ-উত্তর ভারত, আসাম-বিহারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দোকান/এজেন্সি, এমনকি আফ্রিকা, চীন, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকাতেও রপ্তানির চিহ্ন মেলে—ঐতিহাসিক প্রতিবেদনগুলোতে এই বিস্তারের বর্ণনা আছে।
মুক্তিযুদ্ধে রক্তাক্ত অধ্যায়
ঢাকার গেন্ডারিয়ার ৭১ নম্বর দিননাথ সেন রোডে অবস্থিত কারখানায় ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল পাকিস্তান বাহিনী হামলা চালায়; ‘মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ার’ অভিযোগে ৮৪ বছর বয়সী যোগেশচন্দ্রকে তার দপ্তরেই গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি ১৯৬৪-র দাঙ্গার সময় বহু প্রতিবেশীকে আশ্রয় দিয়েছিলেন—বাংলাপিডিয়ার নথিতে এ তথ্য সংরক্ষিত। ১৯৯১-র ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে তার নামে স্মারক ডাকটিকিটও প্রকাশিত হয়।
যুদ্ধোত্তর পুনর্জাগরণ ও পারিবারিক তত্ত্বাবধান
স্বাধীনতার পর পুত্র ডা. নরেশচন্দ্র ঘোষ ‘সাধনা’কে আবার চালু করেন; পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠাতার নাতনিরা (পৌত্রীরা) কলকাতা থেকে এসে তত্ত্বাবধান করেন—২০১৪ সালের ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর রিপোর্টে এমনই চিত্র। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠাতার পৌত্রী নীলা ঘোষ দূর থেকে প্রতিষ্ঠানটি দেখভাল করছেন—পরিবহন ব্যয়ের জটিলতায় আন্তর্জাতিক রপ্তানি প্রায় বন্ধ।
‘মানুষকেন্দ্রিক’ ঐতিহ্য: দোকান বন্ধ, তবু বেতন
২০০৮ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে ২০১২ পর্যন্ত সরকারি জিএমপি (GMP) মানদণ্ডে আধুনিকায়নের প্রয়োজনে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কর্মীদের বেতন চলেছে—ম্যানেজমেন্টের সাক্ষ্যভিত্তিক এই তথ্য ২০২০-এর একাধিক অনুসন্ধানধর্মী প্রতিবেদনে মেলে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় তিরিশসহ ভারতজুড়ে কখনও দেড়শোর কাছাকাছি দোকানের উল্লেখও আছে; তবে আজ বহু দোকান বছরের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে।
মূল্যনীতি ও উত্তরাধিকার সংকট
পুরোনো গ্রাহকশ্রেণির জন্য ‘কম দামে’ ওষুধ রাখার প্রবণতা, জমি-সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও উত্তরাধিকার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা—এসব কারণেই ব্যবসা সঙ্কুচিত হয়েছে বলে মাঠরিপোর্টগুলো ইঙ্গিত করে। একাধিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠাতার পৌত্রী শীলা ঘোষ-এর ‘কম মুনাফায়ও মানুষের পাশে’ থাকার অবস্থানের কথা এসেছে।
কেন আজও ‘সাধনা’ গুরুত্বপূর্ণ
- ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার: স্বদেশি শিল্পায়নে ঢাকার অবদান—বেসরকারি উদ্যোগে দেশি ওষুধশিল্পের আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন।
- সামাজিক প্রতিশ্রুতি: আর্থিক মন্দায়ও কর্মীদের পাশে থাকার নজির—বাংলাদেশ-ভারতজুড়ে অনন্য উদাহরণ হিসেবে আলোচিত।
- শহর-ইতিহাসের অংশ: গেন্ডারিয়ার পরিচয়ের সঙ্গে ‘সাধনা’ আজও জড়িয়ে আছে; ঐতিহ্যবাহী প্রাচীরলেখা ও কারখানা-প্রাঙ্গণ স্থানীয় ইতিহাসচর্চার উপাদান।
বিশ্লেষণ
সাধনা ঔষধালয় দেখায়—দেশি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান (পি.সি. রায়-এর প্রভাবিত ধারায়) ও উদ্যোক্তা-মনোভাব একত্র হলে ঢাকায়ও বিশ্ববাজারের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠান গড়া যায়। আজকের চ্যালেঞ্জ তিনটি: (১) পূর্ণ জিএমপি মানদণ্ডে আধুনিকায়ন, (২) উত্তরাধিকার-শাসন ও পেশাদার ম্যানেজমেন্ট, (৩) বাজার-বহুমুখীকরণ—দেশে ই-কমার্স ও প্রতিবেশী বাজারে সীমিত রপ্তানির রূপরেখা। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল হেরিটেজ’ হিসেবে নথিভুক্ত করলে (রাষ্ট্র/স্থানীয় সরকার) সংরক্ষণ ও পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সূত্র
- Banglapedia – Ghosh, Jogesh Chandra (এন্ট্রি: ঠিকানা, শিক্ষা, ১৯৭১-এর ৪ এপ্রিল হত্যাকাণ্ড, ১৯৯১-এর ডাকটিকিট)।
- The Daily Star (2014): “The Science of Life” (যুদ্ধোত্তর পুনরুজ্জীবন, নাতনিদের তত্ত্বাবধান, কারখানার ভেতরের চিত্র)।
- JagoNews24 (2020): “হাল ধরার হাত নেই, হারিয়ে যাচ্ছে ‘সাধনা’” (২০০৮-২০১২ জিএমপি-জনিত বিরতি, তবু বেতন; ভারতজুড়ে দোকানসংখ্যা)।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রযুক্তি প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র আইটি কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট)
ইন্টারনেট ব্যবহার করেন অথচ ‘IP Address’ শব্দটির সাথে পরিচিত নন, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। কিন্তু এই আইপি অ্যাড্রেস আসলে কীভাবে কাজ করে? কেন এটি প্রতিটি ডিভাইসের জন্য অপরিহার্য? আজকের বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আইপি অ্যাড্রেসের আদ্যোপান্ত এবং এর বিভিন্ন সংস্করণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
১. IP (Internet Protocol) কী?

সহজ কথায়, Internet Protocol বা আইপি হলো একটি ডিজিটাল ঠিকানা। আপনি যখন কাউকে চিঠি পাঠান, তখন যেমন একটি পোস্টাল অ্যাড্রেস প্রয়োজন হয়, ঠিক তেমনি ইন্টারনেটে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে তথ্য আদান-প্রদান করার জন্য যে লজিক্যাল আইডেন্টিফায়ার (Logical Identifier) ব্যবহৃত হয়, তাকেই আইপি অ্যাড্রেস বলে। এটি সাধারণত ৩২ বিট (IPv4) অথবা ১২৮ বিট (IPv6) এর হয়ে থাকে।
২. আইপি অ্যাড্রেসের ক্লাসিফিকেশন (Class of IP)

আইপি অ্যাড্রেস মূলত ৫টি ক্লাসে বিভক্ত। আপনার নেটওয়ার্ক কত বড় বা ছোট, তার ওপর ভিত্তি করে এই ক্লাসগুলো নির্ধারিত হয়:
| ক্লাস | রেঞ্জ (Range) | ব্যবহারের ক্ষেত্র |
| Class A | 0 – 127 | বিশাল নেটওয়ার্ক (যেমন: বড় কর্পোরেট বা টেলিকম) |
| Class B | 128 – 191 | মাঝারি থেকে বড় নেটওয়ার্ক (যেমন: বিশ্ববিদ্যালয়) |
| Class C | 192 – 223 | ছোট নেটওয়ার্ক (যেমন: লোকাল অফিস বা বাসা-বাড়ি) |
| Class D | 224 – 239 | মাল্টিকাস্টিং (Multicast) নেটওয়ার্কের জন্য সংরক্ষিত |
| Class E | 240 – 255 | বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরীক্ষামূলক কাজের জন্য সংরক্ষিত |
৩. IPv4 বনাম IPv6: পার্থক্য ও ভবিষ্যৎ

প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির সাথে সাথে ইন্টারনেটে ডিভাইসের সংখ্যা এত বেড়েছে যে, পুরনো IPv4 অ্যাড্রেস প্রায় ফুরিয়ে আসছে।
- IPv4 (Version 4): এটি ৩২ বিটের অ্যাড্রেস স্পেস। এর মাধ্যমে প্রায় ৪.৩ বিলিয়ন (৫ বিলিয়ন প্রায়) অ্যাড্রেস তৈরি করা সম্ভব। ১৯৮৩ সালে চালুর পর এটিই ইন্টারনেটের প্রধান প্রোটোকল হিসেবে কাজ করছে।
- IPv6 (Version 6): এটি ১২৮ বিটের একটি বিশাল অ্যাড্রেস স্পেস। এর মাধ্যমে প্রায় ৩৪০ আন্ডেসিলিয়ন (৩৪০-এর পর ৩৬টি শূন্য!) অ্যাড্রেস পাওয়া সম্ভব। বর্তমান যুগের ৫জি এবং আইওটি (IoT) ডিভাইসের জন্য এটিই ভবিষ্যৎ।
৪. IPv4 থেকে IPv6-এ রূপান্তরের পদ্ধতি

ইন্টারনেট ইঞ্জিনিয়ারিং টাস্ক ফোর্স (IETF) দুটি প্রোটোকলের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে তিনটি বিশেষ সিস্টেম তৈরি করেছে:
১. Dual Stack: যেখানে একটি নেটওয়ার্কে একই সাথে IPv4 ও IPv6 চলতে পারে।
২. Tunneling: IPv4 নেটওয়ার্কের ভেতর দিয়ে IPv6 ডাটা প্যাকেট পাঠানোর প্রক্রিয়া।
৩. Translation (NAT64): এটি একটি ইন্টারফেসের মতো কাজ করে যা IPv4 এবং IPv6 এর মধ্যে তথ্য অনুবাদ করে দেয়।
বিশেষ বিশ্লেষণ:২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ও কুরবানির তাৎপর্য।
উপসংহার: কেন আপনার আইপি সম্পর্কে জানা জরুরি?
আপনার আইপি অ্যাড্রেস লুকানোর জন্য আপনি ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করতে পারেন, অথবা নেটওয়ার্ক ট্রাবলশুটিংয়ের জন্য আপনার আইপি ক্লাস সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। সাইবার নিরাপত্তার এই যুগে আইপি অ্যাড্রেস হলো আপনার ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মতো।
তথ্যসূত্র ও টেকনিক্যাল সোর্স (References):
- IETF (Internet Engineering Task Force): IPv6 ট্রান্সলেশন ও প্রোটোকল গাইডলাইন।
- IANA (Internet Assigned Numbers Authority): গ্লোবাল আইপি অ্যাড্রেস ডিস্ট্রিবিউশন রেকর্ড।
- বিডিএস ডিজিটাল ল্যাবস: নেটওয়ার্কিং ও আইপি অ্যাড্রেসিং এনালাইসিস ২০২৬।
- গুগল নিউজ টেক: ১ এপ্রিল ২০২৬-এর লেটেস্ট নেটওয়ার্কিং আপডেট।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এনালিস্ট
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে এক বিচিত্র ও চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। পলাশীর যুদ্ধের সেই আলোচিত চরিত্র মীর জাফরের বর্তমান বংশধরদের নাম ভারতের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিষয়টি কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং ভারতের নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকা হালনাগাদের প্রক্রিয়ায় এক বড় ধরনের ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসংগতির জন্ম দিয়েছে।
১. ‘ছোটে নবাব’ ও তাঁর পরিবারের বিড়ম্বনা

মুর্শিদাবাদের লালবাগের ‘কিল্লা নিজামত’ বা হাজারদুয়ারি সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী মীর জাফরের ১৫তম প্রজন্মের বংশধররা বর্তমানে এই সংকটের মুখে।
- মূল ভুক্তভোগী: ৮২ বছর বয়সী সৈয়দ রেজা আলী মির্জা, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘ছোটে নবাব’ নামে পরিচিত।
- অবাক করা তথ্য: তাঁর ছেলে সৈয়দ মোহাম্মদ ফাহিম মির্জা, যিনি স্থানীয় ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর, তাঁর নামও ভোটার তালিকা থেকে মুছে গেছে।
- সংখ্যা: শুধু নবাব পরিবার নয়, ওই এলাকার প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ জন স্থায়ী বাসিন্দার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
২. SIR প্রক্রিয়া: ভুল নাকি রাজনৈতিক চাল?

ভারতের নির্বাচন কমিশনের SIR (Special Intensive Revision) বা বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই নামগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, তথ্যের অসংগতি বা নথিপত্র যাচাইয়ের সময় সমস্যার কারণে নাম ‘সাসপেন্ড’ করা হয়েছে। তবে পরিবারটির দাবি, তারা সশরীরে উপস্থিত হয়ে বৈধ কাগজপত্র জমা দিলেও কাজ হয়নি।
পড়ুন:‘আপনারা ৬ বলে ১২ রান করেছেন, ৩০০ রান আমরা করেছি’: সংসদে ব্যারিস্টার পার্থের ঐতিহাসিক ভাষণ।
৩. ইতিহাসের বিদ্রূপ ও নাগরিকত্বের প্রশ্ন
এই ঘটনার সবচেয়ে বিচিত্র দিক হলো ইতিহাস। দেশভাগের সময় মুর্শিদাবাদ নিজামত তার ৩ দিন পর ভারতের সাথে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
- ঐতিহাসিক অবদান: নবাব পরিবারের পূর্বপুরুষ নবাব ওয়াসিফ আলী মির্জা পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির অফার ফিরিয়ে দিয়ে ভারতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আজ তাঁরই বংশধরদের ভারতীয় প্রমাণ করতে ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
- বিচিত্র বৈপরীত্য: নবাবদের দান করা জমিতে বসবাসকারী হাজার হাজার উদ্বাস্তু বা সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকায় বহাল থাকলেও, মূল জমিদার বা নবাব বংশের নামই আজ ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হয়ে পড়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ:
| বিষয় | বিবরণ |
| মোট ক্ষতিগ্রস্ত | আনুমানিক ৩০০–৪০০ জন (নবাব বংশীয় ও সংশ্লিষ্ট) |
| ব্যবহৃত প্রক্রিয়া | Special Intensive Revision (SIR) |
| প্রশাসনিক অজুহাত | লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা তথ্যের অসংগতি |
| আইনি পরামর্শ | ট্রাইব্যুনালে নাগরিকত্ব প্রমাণ করে নাম ফেরত আনা |
| রাজনৈতিক অভিযোগ | নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা সীমান্ত জেলাকে টার্গেট করার আশঙ্কা |
উপসংহার: ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ নাকি অস্তিত্বের সংকট?
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইনি পথে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে মুর্শিদাবাদের সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন—যাঁদের হাত ধরে এই জনপদ ভারতের মানচিত্রে স্থান পেল, তাঁদেরই কি আজ নাগরিকত্বের পরীক্ষায় বসতে হবে? এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের আগামী নির্বাচনের আগে এক বিশাল সাংবিধানিক বিতর্কের সূচনা করেছে।
তথ্যসূত্র ও এনালাইসিস (References & Analysis):
- নির্বাচন কমিশন ইন্ডিয়া (ECI): ২০২৬ সালের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নির্দেশিকা।
- আনন্দবাজার পত্রিকা ও বর্তমান পত্রিকা: মুর্শিদাবাদ ব্যুরো রিপোর্ট (মার্চ ২০২৬)।
- মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন: ভোটার তালিকা আপডেটিং সংক্রান্ত অফিশিয়াল প্রেস নোট।
- বিডিএস ডিজিটাল রিসার্চ: মুর্শিদাবাদ নিজামত ও ভারতভুক্তির ঐতিহাসিক দলিল বিশ্লেষণ।
- গুগল নিউজ ইন্ডিয়া: ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল ২০২৬-এর শীর্ষ আঞ্চলিক সংবাদ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
টেক ডেস্ক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও টেক এনালিস্ট)
স্মার্টফোনের দুনিয়ায় অ্যাপল প্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। গত কয়েক বছর ধরে নানা গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনা চললেও সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালেই বাজারে আসতে পারে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ডিভাইস। টেক পাড়ায় অনেকেই একে ‘আইফোন ফোল্ড’ বললেও ধারণা করা হচ্ছে এর অফিশিয়াল নাম হতে পারে ‘আইফোন আল্ট্রা’।
১. ভাঁজহীন ডিসপ্লে ও ‘ক্রিজলেস’ প্রযুক্তি

আইফোন আল্ট্রার সবথেকে বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে এর নিখুঁত ডিসপ্লে। ফোল্ডেবল ফোনের প্রধান সমস্যা ‘ভাঁজের দাগ’ বা ক্রিজ দূর করতে অ্যাপল বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
- স্যামসাংয়ের পার্টনারশিপ: ধারণা করা হচ্ছে, অ্যাপলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাংই এই বিশেষ ‘ক্রিজলেস’ পর্দা তৈরি করে দেবে।
- অত্যাধুনিক প্যানেল: ২০২৬-এর এই মডেলে এমন এক ডিসপ্লে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা হাজারবার ভাঁজ করলেও স্ক্রিনে কোনো দাগ ফেলবে না।
২. আইওএস ২৭ (iOS 27): ফোল্ডেবলের জন্য বিশেষ ওএস

কেবল হার্ডওয়্যার নয়, ফোল্ডেবল ডিভাইসের জন্য বিশেষভাবে পরিমার্জিত হবে অ্যাপলের অপারেটিং সিস্টেম।
- WWDC 2026: ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডেভেলপারস কনফারেন্সে (WWDC) ‘iOS 27’-এর মাধ্যমে ফোল্ডেবল স্ক্রিনের বহুমুখী ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা হতে পারে।
- মাল্টিটাস্কিং: বড় স্ক্রিনে অ্যাপগুলোর নির্বিঘ্ন পারফরম্যান্স এবং স্প্লিট-স্ক্রিন ফিচারের নতুন রূপ দেখা যাবে এই মডেলে।
৩. দাম কি হাতের নাগালে থাকবে?
প্রিমিয়াম ডিভাইস হওয়ায় আইফোন আল্ট্রার দাম নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে শুরু থেকেই উদ্বেগ ছিল। নতুন তথ্য অনুযায়ী:
- আনুমানিক মূল্য: এর দাম প্রায় ২০০০ ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার (ভ্যাট ও ট্যাক্স বাদে) কাছাকাছি হতে পারে।
- প্রতিযোগিতা: এই উচ্চমূল্যের কারণে এটি সরাসরি স্যামসাংয়ের ‘জেড ফোল্ড’ সিরিজের প্রিমিয়াম মডেলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামবে।
৪. বাজারের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
আইফোন আল্ট্রা আসার ফলে স্মার্টফোন বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ঠিক যেমন অ্যাপলের নতুন সাশ্রয়ী ম্যাকবুক নিও (MacBook Neo) ল্যাপটপ বাজারে উইন্ডোজের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে, তেমনি আইফোন আল্ট্রাও ফোল্ডেবল ডিভাইসের সংজ্ঞাকে বদলে দিতে পারে। ২০২৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিতব্য অ্যাপলের ইভেন্ট থেকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।
তথ্যসূত্র ও টেক আপডেট (References):
- অ্যাপল ইনসাইডার (Apple Insider): ২০২৬ ফোল্ডেবল আইফোন রোডম্যাপ রিপোর্ট।
- ব্লুমবার্গ টেক (Bloomberg Tech): মার্ক গুরম্যানের বিশেষ টেক বুলেটিন।
- বিডিএস ডিজিটাল রিসার্চ: বৈশ্বিক ফোল্ডেবল স্মার্টফোন মার্কেট শেয়ার ও অ্যাপলের এন্ট্রি এনালাইসিস।
- গুগল নিউজ টেক: ২০২৬ সালের আসন্ন স্মার্টফোন লঞ্চ ইভেন্ট ক্যালেন্ডার।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



