উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ

এর থেকে ডুবে মরা ভালো ছিল: টাইটানিক থেকে বেঁচে ফেরা একমাত্র জাপানি যাত্রীর লজ্জা, বেদনা ও মানবতার গল্প
টাইটানিক

নিউজ ডেস্ক

October 9, 2025

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ


সাহস না লজ্জা — টাইটানিকের ডেকে এক মানুষের দ্বিধা

১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল, উত্তর আটলান্টিকের হিমশীতল সমুদ্র।
বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল ও “অডুবোজাহাজ” হিসেবে খ্যাত আরএমএস টাইটানিক ডুবছে দ্রুত।
নারী ও শিশুদের আগে লাইফবোটে তোলার হইচই চলছে, চারপাশে আতঙ্ক ও মৃত্যুর চিৎকার।

এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন মানুষ —
মাসাবুমি হোসোনো (Masabumi Hosono), টোকিও সরকারের একজন সাধারণ কর্মকর্তা।
তিনি ছিলেন টাইটানিকের একমাত্র জাপানি যাত্রী
যখন এক নাবিক চিৎকার করে বললেন,

“আর মাত্র দু’জনের জায়গা আছে!”

হোসোনো মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিলেন —
পরিবারের মুখ একবার দেখার আশায় তিনি লাফ দিয়ে শেষ লাইফবোটে উঠে পড়লেন।
তিনি বেঁচে গেলেন —
কিন্তু সেই বেঁচে থাকাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ হয়ে উঠল।

একজন জাপানি যাত্রীর নাম, যা পরিণত হয়েছিল জাতির লজ্জায়

১৮৭০ সালে জাপানের নিগাতা প্রদেশে জন্ম নেওয়া মাসাবুমি হোসোনো ছিলেন রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা।
রাশিয়ায় সরকারি কাজে গিয়ে তিনি ইউরোপ হয়ে জাপানে ফেরার পথে উঠেছিলেন টাইটানিকে —
দ্বিতীয় শ্রেণির কেবিনে, একমাত্র জাপানি যাত্রী হিসেবে।

১৫ এপ্রিল রাত ১১টা ৪০ মিনিটে বরফখণ্ডের সঙ্গে সংঘর্ষের পর তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠে ডেকে পৌঁছান।
প্রথমে তাঁকে ক্রুদের পক্ষ থেকে থামিয়ে দেওয়া হয়, কারণ তখনকার সময় এশীয়দের প্রতি বৈষম্য প্রচলিত ছিল।
তবে কৌশলে তিনি ডেকের এক পাশে পৌঁছে যান, যেখানে শেষ কয়েকটি লাইফবোট নামানো হচ্ছিল।
সেখানেই, মৃত্যুভয়ে কাঁপতে থাকা শত শত মানুষের ভিড়ে,
তিনি এক খালি আসন দেখে নিজেকে বাঁচিয়ে নেন।

তিনি উঠেছিলেন লাইফবোট নম্বর ১০–এ, যা ছিল শেষ কয়েকটি লাইফবোটের একটি।

বেঁচে ফেরা নয়, সমাজে মৃত্যুর শাস্তি

হোসোনো যখন ১৯১২ সালের মে মাসে জাপানে ফিরে আসেন,
তখন গোটা দেশ তাঁকে স্বাগত জানায়নি — বরং তাঁকে অপমানের প্রতীকে পরিণত করে।

জাপানের সংবাদপত্রগুলো তাঁকে “লজ্জার জাপানি” বলে আখ্যা দেয়।
বলা হয়, “তিনি নারী ও শিশুদের মৃত্যুর বিনিময়ে নিজের জীবন রক্ষা করেছেন।”
ফলাফল — তিনি হারান চাকরি, বন্ধুরা মুখ ফিরিয়ে নেয়,
আর সন্তানরাও স্কুলে ‘কাপুরুষের সন্তান’ হিসেবে বিদ্রূপের শিকার হয়।

কারণ তখনকার জাপানি সংস্কৃতিতে, বিশেষ করে বুশিদো (Bushido) আদর্শে,
মৃত্যুর মুখেও সম্মান রক্ষা করা ছিল সর্বোচ্চ গৌরব।
বেঁচে থাকা মানে ছিল লজ্জা।

৮৫ বছর পর পাওয়া গেল এক ডায়েরি, যেখানে লেখা ছিল তাঁর সত্যিকারের গল্প

১৯৯৭ সালে তাঁর নাতি পরিবারের পুরনো একটি বইয়ের ভেতরে খুঁজে পান এক গোপন ডায়েরি।
সেই ডায়েরিতে হোসোনো লিখেছিলেন:

“আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু যখন দেখলাম বাঁচার পথ আছে, আমি নিজেকে আটকাতে পারিনি।
আমি শুধু আমার পরিবারের মুখ দেখতে চেয়েছিলাম।”

তিনি লিখেছিলেন,

“আমি জানতাম, আমি বেঁচে ফিরলেও আমার ওপর চিরকাল মৃত্যুর ছায়া ভর করবে।”

এই ডায়েরি প্রকাশের পর জাপানি সমাজে তাঁর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।
মানুষ বুঝতে শুরু করে — হোসোনো ছিলেন না কাপুরুষ,
বরং তিনি ছিলেন এক সাধারণ মানুষ,
যিনি মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে জীবনের প্রতি স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষায় জয়ী হয়েছিলেন।

পশ্চিমে নায়ক, পূর্বে লজ্জিত: সংস্কৃতির দ্বৈত মানদণ্ড

অদ্ভুতভাবে, পশ্চিমে যারা লাইফবোটে উঠে বেঁচে ফিরেছিল,
তাদের বেশিরভাগই নিন্দিত হয়নি।
টাইটানিকের ব্যবস্থাপক ব্রুস ইসমে পর্যন্ত বেঁচে ফিরেও সরকারি পদে ছিলেন বহু বছর।

কিন্তু জাপানে, এক মানুষ নারী ও শিশুর আগে বাঁচায়
এটি ছিল জাতীয় অপমানের প্রতীক।
এটি ছিল “সম্মানের মৃত্যু” বনাম “লজ্জার জীবন”–এর দ্বন্দ্ব।

শেষ জীবন: নিঃসঙ্গতা, নীরবতা ও আত্মসমালোচনায় ভরা এক অধ্যায়

চাকরি হারানোর পর হোসোনো বাকি জীবনটা কাটিয়েছেন নিঃসঙ্গভাবে।
তিনি ১৯৩৯ সালে মারা যান —
যখন পৃথিবী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে।

তাঁর পরিবার বহু বছর নিজেদের পরিচয় গোপন রেখেছিল।
কেউ জানত না তারা সেই “লজ্জিত মানুষটির” উত্তরসূরি।

কিন্তু ২০০৭ সালে জাপানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এনএইচকে (NHK) তাঁর জীবন নিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরি করে —
শিরোনাম: “The Shame of Survival” (বেঁচে থাকার লজ্জা)
এর পর হোসোনোর নাম ফিরে আসে নতুন আলোয় —
লজ্জিত নয়, বরং মানবিকতার প্রতীক হিসেবে।

তাঁর নাতি, বিশ্ববিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী হারুয়োমি হোসোনো (Yellow Magic Orchestra) এক সাক্ষাৎকারে বলেন,

“আমার দাদা লজ্জা পাননি জীবিত থাকতে — সমাজ তাঁকে লজ্জিত করেছে।”

মানবতার বড় শিক্ষা: বাঁচার প্রবৃত্তি কখনো অপরাধ নয়

হোসোনোর গল্প আমাদের শেখায় —
মানবতার সামনে সংস্কৃতি, প্রথা বা সম্মানের নিয়ম অর্থহীন হয়ে যায়।
একজন মানুষ যদি মৃত্যুর মুখে বাঁচতে চায়, তা কাপুরুষতা নয়;
বরং সেটাই মানুষের সবচেয়ে প্রাকৃতিক সাহস।

তিনি নিজের ডায়েরিতে লিখেছিলেন:

“সেদিন যদি আমি ডেকে দাঁড়িয়ে মরে যেতাম, হয়তো সবাই আমাকে সম্মান করত।
কিন্তু আমি বেঁচে থেকে যা সহ্য করেছি, সেটাই ছিল প্রকৃত পরীক্ষা।”


সূত্র

  1. The Japan Times — “Masabumi Hosono: Japan’s Only Titanic Survivor” (2012)
  2. BBC History Extra — “The Man Who Lived—and Paid the Price for Survival”
  3. Smithsonian Magazine — “Masabumi Hosono’s Lost Diary Reveals the Truth”
  4. NHK Documentary (2007)The Shame of Survival
  5. Titanic Historical Society Archives — Survivor Records

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ড. আল ইমরান নাসা

নিউজ ডেস্ক

September 16, 2026

শেয়ার করুন

  • প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
  • বিভাগ (Category): আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভূ-রাজনীতি ও দর্শন
  • প্রকাশের তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • তথ্যসূত্র (Sources): নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি, বিবিসি (BBC), দ্য সেন্ট্রাল তিব্বতান অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (CTA) ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আর্কাইভ।

আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে—মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (GPA-5) না পেলে কিংবা দেশের শীর্ষ কোনো প্রতিষ্ঠানে সুযোগ না পেলে জীবন বুঝি সেখানেই থমকে যায়। কিন্তু এই চেনা ধারণার বাইরে গিয়ে জিপিএ-৩.৫৭ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন এক বাঙালি তরুণ। তিনি আর কেউ নন, নরসিংদীর মনোহরদীর ছেলে ড. আল ইমরান (Al Emran)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল, তিনি নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে প্রথমে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালে জেফ বেজোসের বিখ্যাত মহাকাশ সংস্থা ব্লু অরিজিন (Blue Origin)-এ বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

আজকের এই কন্টেন্টে আমরা জানবো কীভাবে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি মুছে একজন সাধারণ ছাত্র থেকে তিনি আজকের এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছালেন।

১. শৈশবের স্বপ্ন এবং শুরুর ধাক্কা

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার রামপুর গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম আল ইমরানের। বাবা ছিলেন মাদরাসার শিক্ষক এবং মা গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই জোছনা রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে ইমরান ভাবতেন, মানুষ কীভাবে চাঁদে গেল? আমিও কি কোনোদিন পারবো?

কিন্তু তার এই বড় স্বপ্নের পথে প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফল সবসময় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০০৪ সালে খিদিরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে মাত্র জিপিএ ৩.৫৭ পেয়ে এসএসসি এবং ২০০৬ সালে জিপিএ ৪.৪ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। রেজাল্ট কম থাকার কারণে দেশের শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটে (BUET) ভর্তি পরীক্ষাই দিতে পারেননি তিনি।

২. অনার্সে এসে নিজেকে বদলে ফেলা

বুয়েটে পরীক্ষা দিতে না পেরে ইমরান ভর্তি হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে। তবে সেখানেও এক বছর পড়ার পর নিজের মূল ভালো লাগার জায়গা খুঁজে পেতে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে

বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেই যেন খোলস ছেড়ে বের হয়ে আসেন ইমরান। যে ছেলেটি স্কুল-কলেজে সাধারণ মানের ছাত্র ছিলেন, তিনি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন! অনার্সে তার সিজিপিএ ছিল ৩.৬৯ এবং মাস্টার্সে ৩.৯৭।

৩. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফিরিয়ে দিল, কিন্তু ভাগ্য অন্য কিছু লিখেছিল

মাস্টার্স শেষ করার পর আল ইমরানের তীব্র ইচ্ছা ছিল নিজের বিভাগেই (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার। এজন্য তিনি একাধিকবার আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নেওয়া হয়নি।

এই প্রত্যাখ্যান ইমরানকে মানসিকভাবে ভীষণ আঘাত করেছিল। কিন্তু তিনি দমে যাননি। দেশে সুযোগ না পেয়ে তিনি চোখ ফেরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির চেয়ে গবেষণার বাস্তব যোগ্যতা অনেক বেশি শক্তিশালী।

৪. পিএইচডি এবং আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি

২০১৭ সালে ইমরান পাড়ি জমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। Auburn University থেকে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ২০২২ সালে ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস (University of Arkansas) থেকে স্পেস অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্স-এ সফলভাবে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

তার গবেষণার মূল বিষয় ছিল স্যাটেলাইট ডাটা, মেশিন লার্নিং এবং ল্যাবরেটরি এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহ (Mars) ও প্লুটোর (Pluto) পৃষ্ঠের গঠন উন্মোচন করা। তার এই অসাধারণ গবেষণাপত্রগুলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নজরে আসে।

৫. নাসার দরজা জয় এবং ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট

২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ড. আল ইমরান বিশ্বখ্যাত মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-র জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরিতে (JPL) পোস্টডক্টরাল ফেলো (Planetary Astronomer) হিসেবে যোগ দেন। যে তরুণকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ফিরিয়ে দিয়েছিল, তিনি তখন নাসায় বসে বুধ, মঙ্গল, ইউরোপা এবং শনির উপগ্রহের পৃষ্ঠদেশ নিয়ে গবেষণা করছিলেন!

সর্বশেষ ২০২৬ সালের আপডেট:
নাসায় ৩ বছর সফলভাবে কাজ করার পর, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ড. আল ইমরান আরও একধাপ এগিয়ে যান। তিনি বর্তমানে জেফ বেজোসের বিখ্যাত মহাকাশ সংস্থা ব্লু অরিজিন (Blue Origin)-এ Aerospace Systems Engineer III এবং Planetary Scientist হিসেবে কর্মরত আছেন। বর্তমানে তিনি চাঁদের মাটিতে স্পেস রিসোর্স বা খনিজ সম্পদের অবস্থান মূল্যায়ন করার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লুনার মিশনে (Lunar Mission) কাজ করছেন।

ড. আল ইমরানের জীবন থেকে আমাদের কী শেখার আছে?

ড. আল ইমরানের এই অদম্য লড়াইয়ের গল্পটি আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য কয়েকটি অত্যন্ত মূল্যবান শিক্ষা দেয়:

  1. জিপিএ বা ভর্তি পরীক্ষা জীবনের শেষ কথা নয়: স্কুল-কলেজের রেজাল্ট খারাপ মানেই জীবন শেষ—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। চেষ্টা ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যেকোনো সময় ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।
  2. প্রত্যাখ্যানই নতুন পথের জন্ম দেয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে শিক্ষক হিসেবে না নেওয়ায় সেদিন হয়তো তিনি কষ্ট পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই প্রত্যাখ্যানই আজ তাকে নাসা ও ব্লু অরিজিনের মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে।
  3. দক্ষতা ও গবেষণার শক্তি: সার্টিফিকেট বা পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে বাস্তব ক্ষেত্রে স্কিল বা দক্ষতা অর্জন করা এবং একাগ্রচিত্তে নিজের লক্ষ্যে লেগে থাকাটাই সফলতার মূল চাবিকাঠি।

উপসংহার

ড. আল ইমরান প্রমাণ করেছেন যে, সততা, মেধা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে নরসিংদীর একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসেও বিশ্ব কাঁপানো মহাকাশ বিজ্ঞানী হওয়া সম্ভব। তার এই গল্প আমাদের প্রতিটি হতাশ তরুণকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখায়, ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াতে অনুপ্রেরণা জোগায়।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বুর্জ খলিফা

নিউজ ডেস্ক

September 16, 2026

শেয়ার করুন

  • প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
  • বিভাগ (Category): বিশ্ব ভ্রমণ, স্থাপত্য ও লাইফস্টাইল
  • প্রকাশের তারিখ: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • তথ্যসূত্র (Sources): দুবাই ট্যুরিজম গভর্মেন্ট পোর্টাল, ‘At The Top’ অফিশিয়াল ট্রাভেল গাইড ও আন্তর্জাতিক আর্কিটেকচারাল আর্কাইভ।

দুবাইয়ে অবস্থিত Burj Khalifa হলো বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন, যার উচ্চতা ৮২৮ মিটার বা ২,৭১৬ ফুট।

বুর্জ খলিফা সম্পর্কে অজানা ও চমকপ্রদ তথ্য

  • পদ্ম ফুলের নকশা: ভবনটির স্থাপত্য নকশাটি ‘হাইমেনোকালিস’ (Hymenocallis) বা মাকড়সা লিলি নামক মরুভূমির ফুলের আকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত।
  • হাতির সমান ওজন: এই বিশাল টাওয়ার নির্মাণে ব্যবহৃত কংক্রিটের মোট ওজন প্রায় ১ লক্ষ হাতির ওজনের সমান। এছাড়া এতে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ ৫টি এয়ারবাস এ৩৮০ বিমানের সমতুল্য।
  • উচ্চতা গোপন রাখা হয়েছিল: নির্মাণের সময় প্রতিযোগিতার মুখে পড়ার ভয়ে বুর্জ খলিফার চূড়ান্ত উচ্চতা কত হবে, তা দীর্ঘদিন গোপন রেখেছিল কর্তৃপক্ষ।
  • দ্রুতগতির লিফট: ভবনটিতে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির লিফট রয়েছে, যা প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারে। এর লিফটের দীর্ঘতম যাতায়াত দূরত্ব প্রায় ৫০৪ মিটার।
  • জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা: ভবনের কুলিং সিস্টেম ও বাগান বা ল্যান্ডস্কেপিংয়ের কাজে ব্যবহারের জন্য ঘাম ও এয়ার কন্ডিশনার থেকে জমা হওয়া প্রচুর পরিমাণ পানি রিসাইকেল বা পুনরপ্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার করা হয়।
  • দূরত্ব থেকে দৃশ্যমান: আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার বা ৫৯ মাইল দূর থেকেও বুর্জ খলিফা পরিষ্কার দেখা যায়।

বুর্জ খলিফার নির্মাণ খরচ ও চমকপ্রদ তথ্য

বুর্জ খলিফা নির্মাণে আনুমানিক ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি (বিনিময় হারের ওপর নির্ভরশীল)। ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে এর কাজ শুরু হয়ে ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়। নিচে এর নির্মাণ ব্যয়ের ভেতরের তথ্য এবং আকর্ষণীয় স্থানগুলোর একটি অত্যন্ত বিশদ বিবরণ দেওয়া হলো:

১. নির্মাণ খরচের ভেতরের বিশদ বিবরণ

যদিও মূল টাওয়ারটির নির্মাণ খরচ ১.৫ বিলিয়ন ডলার, তবে পুরো ‘ডাউনটাউন দুবাই’ (যা বুর্জ খলিফা, দুবাই মল এবং দুবাই ফাউন্টেনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে) প্রকল্পটির মোট ব্যয় ছিল প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। এই ব্যয়ের প্রধান খাতগুলো ছিল:

  • নির্মাণ সামগ্রীর বিশালতা: ভবনটি তৈরি করতে প্রায় ৩,৩০,০০০ ঘনমিটার কংক্রিট এবং ৫৫,০০০ টন ওজনের স্টিল রিবার (রড) লেগেছে। এর বাহ্যিক আবরণের জন্য ১,০৩,০০০ বর্গমিটার কাচ এবং ১৫,৫০০ বর্গমিটার স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করা হয়েছে, যা তীব্র মরুভূমির উত্তাপ ও শক্তিশালী বাতাস প্রতিরোধ করতে সক্ষম।
  • শ্রম ও প্রকৌশল ব্যয়: এর নির্মাণ কাজে ২২ মিলিয়নেরও (২ কোটি ২০ লক্ষ) বেশি শ্রমঘণ্টা ব্যয় হয়েছে। কাজের সর্বোচ্চ ব্যস্ত সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১২,০০০ দক্ষ শ্রমিক ও প্রকৌশলী চব্বিশ ঘণ্টা শিফটে কাজ করেছেন।
  • ডিজাইন ও আর্কিটেকচার: শিকাগোভিত্তিক বিশ্ববিখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ‘স্কিডমোর, ওউইংস অ্যান্ড মেরিল’ (SOM)-এর প্রধান স্থপতি অ্যাড্রিয়ান স্মিথ এর নকশা করেন। এর ওয়াই-শেপড (Y-shaped) স্ট্রাকচারাল ডিজাইনটির পেছনেই বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়, যা ভবনটিকে বাতাসে দোদুল্যমান হওয়া থেকে রক্ষা করে।

২. ভেতরের আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় স্থানসমূহ

১৬৩ তলাবিশিষ্ট এই ভবনের একেকটি জোনে রয়েছে বিশ্বরেকর্ডধারী সব আয়োজন। নিচ থেকে ওপরের দিকে এর প্রধান আকর্ষণগুলো সাজানো হলো:

আরমানি হোটেল এবং রেসিডেন্স (বেসমেন্ট থেকে ৩৯ তলা)

  • ডিজাইনার জর্জিও আরমানি: বিশ্ববিখ্যাত ইতালীয় ফ্যাশন ডিজাইনার জর্জিও আরমানির নিজস্ব তত্ত্বাবধানে এবং তার ব্র্যান্ডের নামে বিশ্বের প্রথম আরমানি হোটেলটি এখানে অবস্থিত।
  • বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধা: এই অংশে রয়েছে ১৬০টি অতি-বিলাসবহুল রুম, সুইট এবং ১৪৪টি আরমানি রেসিডেন্স অ্যাপার্টমেন্ট। এর নিজস্ব সুগন্ধি, স্পা এবং জাপানি, ভূমধ্যসাগরীয় ও ভারতীয় খাবারের রেস্তোরাঁ রয়েছে।

বিশ্বের সর্বোচ্চ রেস্তোরাঁ ‘At.mosphere’ (১২২ তলা)

  • মেঘের ওপরে ডাইনিং: ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪৪২ মিটার (১,৪৫০ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটি বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ উঁচুতে থাকা ডাইনিং স্পেস। এখান থেকে দুবাই শহরের স্কাইলাইন এবং আরব সাগরের প্যানোরামিক ভিউ দেখতে দেখতে দুপুরের খাবার বা রাতের ডিনার করা যায়।

অবজারভেশন ডেকসমূহ (১২৪, ১২৫ এবং ১৪৮ তলা)

  • At the Top (১২৪ ও ১২৫ তলা): এটি সাধারণ পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। এখানে রয়েছে একটি বিশাল আউটডোর টেরেস এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইলেকট্রনিক টেলিস্কোপ, যার মাধ্যমে দুবাইয়ের অতীত ও বর্তমানের চারপাশের দৃশ্য খুব কাছ থেকে দেখা যায়।
  • At the Top SKY (১৪৮ তলা): ৫৫৫ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এটি বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম আউটডোর অবজারভেশন ডেক। এখানে পৌঁছানোর পর পর্যটকদের ঐতিহ্যবাহী আরবি কফি ও খেজুর দিয়ে স্বাগত জানানো হয় এবং একটি পাঁচ তারকা লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়।

দ্য লাউঞ্জ — ‘The Lounge’ (১৫২, ১৫৩ এবং ১৫৪ তলা)

  • বিশ্বের সর্বোচ্চ পাবলিক লাউঞ্জ: ৫৮৫ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই লাউঞ্জটি বুর্জ খলিফার সর্বোচ্চ অ্যাক্সেসযোগ্য জায়গা। এখানে পর্যটকদের জন্য ‘টি ইন দ্য ক্লাউডস’ (Tea in the clouds) বা সূর্যাস্তের সময় বিশেষ ককটেল উপভোগের ব্যবস্থা রয়েছে।

অন্যান্য রেকর্ডধারী অনন্য স্থাপনা

  • বিশ্বের সর্বোচ্চ করপোরেট অফিস: ভবনের উচ্চ তলাগুলোতে (১১১ থেকে ১৫৪ তলা পর্যন্ত) বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সব প্রতিষ্ঠানের করপোরেট অফিস বা সুইট রয়েছে।
  • ৭৬ তলার সুইমিং পুল: ভবনটিতে মোট ৪টি সুইমিং পুল রয়েছে, যার মধ্যে ৭৬ তলায় অবস্থিত পুলটি বিশ্বের অন্যতম উঁচুতে থাকা সুইমিং পুল।
  • ১৫৮ তলার মসজিদ: মুসলিম পর্যটকদের জন্য ভবনটির ১৫৮ তলায় বিশ্বের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত মসজিদ বা প্রার্থনা কক্ষটি নির্মাণ করা হয়েছে।

ভেতরের মূল আকর্ষণ ও বিশ্বরেকর্ডধারী স্থানসমূহ

১৬৩ তলাবিশিষ্ট এই ভবনে রয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক রেকর্ডধারী স্থান:

আকর্ষণের নামতলার অবস্থানবৈশিষ্ট্য ও মূল তথ্য
At the Top (অবজারভেশন ডেক)১২৪ ও ১২৫ তলাপর্যটকদের সবচেয়ে প্রিয় ডেক, যেখান থেকে দুবাই শহরের ৩৬০-ডিগ্রি দৃশ্য দেখা যায়।
At the Top SKY১৪৮ তলা৫৫৫ মিটার উঁচুতে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম আউটডোর ভিআইপি ডেক।
The Lounge১৫২, ১৫৩ ও ১৫৪ তলা৫৮৫ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত বিশ্বের সর্বোচ্চ পাবলিক লাউঞ্জ।
Armani Hotel Dubaiবেসমেন্ট – ৮, ৩৮ ও ৩৯ তলাবিখ্যাত ডিজাইনার জর্জিও আরমানির নিজস্ব ডিজাইনে নির্মিত বিলাসবহুল হোটেল।
At.mosphere Restaurant৪৪২ মিটার উঁচুতে (১২২ তলা)মেঘের ওপর বসে ডিনার বা লাঞ্চ করার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রেস্তোরাঁ।

২০২৬ সালের টিকিটের মূল্য ও কম্বো অফারের বিবরণ

২০২৬ সালের বর্তমান রেট অনুযায়ী, বুর্জ খলিফার অফিশিয়াল ও নিবন্ধিত অনলাইন পার্টনারদের টিকিট প্যাকেজ এবং আকর্ষণীয় কম্বো অফারের সর্বশেষ মূল্যের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

বুর্জ খলিফা লেভেল-ভিত্তিক টিকিটের মূল্য (২০২৬)

টিকিটের মূল্য মূলত আপনি কোন তলায় উঠবেন এবং দিনের কোন সময়ে (প্রাইম সূর্যাস্তের সময় বনাম সাধারণ সময়) পরিদর্শন করবেন তার ওপর নির্ভর করে।

  • At the Top (১২৪ এবং ১২৫ তলা) — সাধারণ অভিজ্ঞতা
    • নন-প্রাইম আওয়ারস (সকাল ৮:০০ – দুপুর ২:৩০ এবং রাত ৭:০০ – রাত ১১:০০): প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১৭৯ AED থেকে ১৮৯ AED (প্রায় ৫,৯০০ – ৬,২০০ টাকা) এবং শিশুদের জন্য (৩–৮ বছর) ১৪৫ AED (প্রায় ৪,৮০০ টাকা)।
    • প্রাইম আওয়ারস (সূর্যাস্তের সময়) (বিকাল ৩:০০ – সন্ধ্যা ৬:৩০): প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২৫৯ AED (প্রায় ৮,৫০০ টাকা) এবং শিশুদের জন্য ১৬৫ AED (প্রায় ৫,৪০০ টাকা)।
  • At the Top SKY (১২৪, ১২৫ এবং ১৪৮ তলা ভিআইপি)
    • নন-প্রাইম আওয়ারস (সকাল ৯:০০ – সকাল ১১:০০ এবং রাত ৯:০০ থেকে বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত): জনপ্রতি ৩৯৯ AED থেকে শুরু।
    • প্রাইম আওয়ারস (সূর্যাস্তের সময়): চাহিদা ও স্লট অনুযায়ী টিকিট প্রতি ৪৫৯ AED থেকে ৫৫৩ AED বা তারও বেশি হয়ে থাকে। এখানে ভিআইপি লাউঞ্জ সুবিধা ও স্ন্যাক্স অন্তর্ভুক্ত থাকে।
  • The Lounge (১৫২, ১৫৩ এবং ১৫৪ তলা)
    • বিশ্বের সর্বোচ্চ লাউঞ্জে প্রবেশের জন্য প্রিমিয়াম প্যাকেজের মূল্য সাধারণত ৫৯৯ AED থেকে শুরু হয়।

২০২৬ সালের জনপ্রিয় কম্বো অফারসমূহ (Combo Offers)

আলাদাভাবে টিকিট না কেটে একই দিনে একাধিক জায়গায় ঘোরার জন্য বিভিন্ন ট্রাভেল প্ল্যাটফর্মের কম্বো টিকিটগুলো বেশ সাশ্রয়ী:

কম্বো প্যাকেজের নামযা যা দেখতে পাবেনআনুমানিক মূল্য রেঞ্জ (২০২৬)
বুর্জ খলিফা + দুবাই অ্যাকোয়ারিয়াম১২৪ ও ১২৫ তলার প্রবেশাধিকার এবং দুবাই মলের বিখ্যাত অ্যাকোয়ারিয়াম টানেল ও আন্ডারওয়াটার জু২৭৯ AED থেকে ৩৩৯ AED (আলাদা টিকিট কাটার চেয়ে প্রায় ১১%-২২% সাশ্রয়)
বুর্জ খলিফা + দুবাই ফ্রেম১২৪ ও ১২৫ তলার প্যানোরামিক ভিউ এবং ১৫০ মিটার উঁচু বিখ্যাত দুবাই ফ্রেমের স্কাই ডেক১৯১ AED থেকে ২১১ AED থেকে শুরু
বুর্জ খলিফা + স্কাই ভিউজ অবজারভেটরি১২৪ ও ১২৫ তলার ভিউ এবং পাশে অবস্থিত স্কাই ভিউজের বিখ্যাত গ্লাস স্লাইড ও ওয়াকওয়ে২৯৮ AED এর কাছাকাছি

(বিশেষ টিপস: আপনি যদি অনলাইনে অফিশিয়াল সাইট At The Top Burj Khalifa কিংবা বিশ্বস্ত পার্টনার যেমন—Headout বা Platinumlist থেকে ২-৩ দিন আগে টিকিট বুক করেন, তবে কাউন্টারের দীর্ঘ লাইন এড়ানো যায় এবং কিছু ডিসকাউন্ট পাওয়া সম্ভব)

ভ্রমণের সেরা সময় ও ট্রাভেল টিপস

বুর্জ খলিফা এবং দুবাই ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ আনন্দদায়ক ও আরামদায়ক করতে সঠিক সময় নির্বাচন এবং কিছু কার্যকর কৌশল জানা থাকা জরুরি। নিচে ভ্রমণের সেরা সময় এবং প্রাক-ভ্রমণ টিপসগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:

বুর্জ খলিফা ও দুবাই ভ্রমণের সেরা সময়

মৌসুম এবং দিনের সময়ের ওপর ভিত্তি করে আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা এভাবে সাজাতে পারেন:

  • বছরের সেরা মাস (নভেম্বর থেকে মার্চ): শীতকালের এই মাসগুলো দুবাই ভ্রমণের জন্য গোল্ডেন পিরিয়ড। এই সময়ে এখানকার আবহাওয়া অত্যন্ত মনোরম ও ঠান্ডা থাকে (সাধারণত ১৫° থেকে ২৫° সেলসিয়াসের মধ্যে)। বুর্জ খলিফার আউটডোর টেরেসে দাঁড়িয়ে চারপাশের ভিউ উপভোগ করার জন্য এটি একদম পারফেক্ট সময়। তবে এটি পিক-সিজন হওয়ায় পর্যটকদের ভিড় এবং হোটেলের ভাড়া কিছুটা বেশি থাকে।
  • দিনের সেরা সময় (বিকাল ৪:০০ – সন্ধ্যা ৬:৩০): এটি বুর্জ খলিফার সবচেয়ে জনপ্রিয় স্লট, যা ‘প্রাইম আওয়ারস’ নামে পরিচিত। এই সময়ে আপনি একই সাথে দিনের আলোয় দুবাই শহরের স্পষ্ট দৃশ্য, চমৎকার সূর্যাস্ত এবং সন্ধ্যার পর লাইটিং ও ফাউন্টেন শোর চমৎকার রূপ দেখতে পাবেন।
  • শান্ত ও বাজেট-বান্ধব সময় (সকাল ১০:০০-এর আগে এবং রাত ৯:০০-এর পর): আপনি যদি শান্ত পরিবেশে ভিড় এড়িয়ে ছবি তুলতে চান এবং টিকিটের পেছনে খরচ কমাতে চান, তবে সকালের প্রথম স্লট অথবা রাতের শেষ স্লটগুলো বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

বুর্জ খলিফা ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ ট্রাভেল টিপস

  • অগ্রিম অনলাইন বুকিং: স্পটে গিয়ে টিকিট কাটার চেষ্টা করবেন না। কাউন্টারের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতে পারে এবং অনেক সময় টিকিট শেষও হয়ে যায়। ভ্রমণের অন্তত ২-৩ দিন আগে অনলাইনে অফিশিয়াল সাইট বা বিশ্বস্ত পার্টনারদের থেকে টিকিট বুক করে রাখুন।
  • নির্ধারিত সময়ের ৩০-৪৫ মিনিট আগে পৌঁছানো: আপনার টিকিটে যে সময় (Time Slot) উল্লেখ থাকবে, তার অন্তত আধঘণ্টা আগে দুবাই মলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে অবস্থিত বুর্জ খলিফার মূল প্রবেশদ্বারে পৌঁছাতে হবে। সিকিউরিটি চেকিং এবং লাইনের কারণে মূল অবজারভেশন ডেকে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে।
  • লগেজ ও ব্যাগ রাখার নিয়ম: বুর্জ খলিফার ওপরে বড় ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক বা শপিং ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই। প্রবেশদ্বারের কাছেই ‘Luggage Check’ বা ব্যাগ জমা রাখার নিরাপদ কাউন্টার রয়েছে, যেখানে আপনি বিনামূল্যে আপনার বড় ব্যাগগুলো জমা রেখে ওপরে উঠতে পারবেন।
  • দুবাই ফাউন্টেন শো উপভোগ করা: বুর্জ খলিফা থেকে নামার পর অবশ্যই ডাউনটাউনের বিখ্যাত দুবাই ফাউন্টেন (পানির ফোয়ারা) শো মিস করবেন না। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬:০০ টা থেকে প্রতি ৩০ মিনিট পর পর এই চমৎকার মিউজিক্যাল শো অনুষ্ঠিত হয়, যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেখা যায়।

দুবাইয়ের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বা যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত আধুনিক, পরিচ্ছন্ন এবং বিশ্বমানের। পর্যটক এবং বাসিন্দাদের জন্য পুরো শহরের যাতায়াত ব্যবস্থাকে সহজ করতে দুবাই রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (RTA) মেট্রো, বাস, ট্রাম এবং ট্যাক্সির একটি চমৎকার নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। নিচে দুবাই মেট্রো এবং সামগ্রিক যাতায়াত ব্যবস্থার বিস্তারিত গাইড দেওয়া হলো:

দুবাই মেট্রো (Dubai Metro)

এটি বিশ্বের বৃহত্তম চালকবিহীন (Driverless) স্বয়ংক্রিয় মেট্রো রেল ব্যবস্থা। দুবাই মেট্রোর প্রধানত দুটি লাইন রয়েছে:

  • রেড লাইন (Red Line): এটি দুবাইয়ের মূল ধমনী বা শেখ জায়েদ রোডের ওপর দিয়ে যাতায়াত করে। এটি দুবাই এয়ারপোর্ট (টার্মিনাল ১ ও ৩), বুর্জ খলিফা/দুবাই মল, বিজনেস বে এবং দুবাই ম্যারিনাকে সরাসরি সংযুক্ত করেছে।
  • গ্রিন লাইন (Green Line): এটি মূলত দুবাইয়ের ঐতিহাসিক এলাকা যেমন—দেইরা, বুড় দুবাই, গোল্ড সউক (স্বর্ণ বাজার) এবং আল ফাহিদি হেরিটেজ সাইটগুলোকে যুক্ত করেছে।
  • বিনিময় স্টেশন: রেড এবং গ্রিন লাইনের মধ্যে ট্রেন পরিবর্তন করার জন্য BurJuman এবং Union নামে দুটি বড় ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন রয়েছে।

মেট্রোর সময়সূচী:

  • সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার এবং শনিবার: সকাল ৫:০০ – রাত ১২:০০
  • শুক্রবার: সকাল ৫:০০ – রাত ১:০০ (পরের দিন)
  • রবিবার: সকাল ৮:০০ – রাত ১২:০০

নল কার্ড: দুবাই যাতায়াতের চাবিকাঠি (Nol Card)

দুবাইয়ের মেট্রো, বাস বা ট্রামে যাতায়াত করতে হলে আপনাকে বাধ্যতামূলকভাবে একটি Nol Card (নল কার্ড) সংগ্রহ করতে হবে, কারণ এখানে কোনো নগদ টাকা বা সরাসরি ক্যাশ ভাড়া নেওয়া হয় না। কার্ডগুলো যেকোনো মেট্রো স্টেশন কাউন্টার বা ভেন্ডিং মেশিন থেকে কেনা যায়:

  • সিলভার কার্ড (Nol Silver Card): পর্যটকদের জন্য এটি সবচেয়ে সেরা এবং সাশ্রয়ী অপশন। এর মূল্য ২৫ AED (যার মধ্যে ১৯ AED যাতায়াত ব্যালেন্স হিসেবে পাওয়া যায়)।
  • গোল্ড কার্ড (Nol Gold Card): আপনি যদি মেট্রোর প্রিমিয়াম ও কম ভিড়ের ‘গোল্ড ক্লাস’ কেবিনে সোফা সিটে বসে ভ্রমণ করতে চান, তবে এটি নিতে পারেন। এর মূল্যও ২৫ AED, তবে প্রতি ট্রিপে সাধারণ ভাড়ার দ্বিগুণ টাকা কাটে.
  • রেড টিকিট (Nol Red Ticket): এটি একটি কাগজের সাময়িক টিকিট। যারা মাত্র ১ বা ২ বার যাতায়াত করবেন তাদের জন্য এটি (মূল্য ২ AED + ট্রিপ ভাড়া)।
  • ভাড়া (Silver Card অনুযায়ী): দুবাইকে কয়েকটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। ১ জোনের ভেতরে ভ্রমণ করলে ভাড়া ৩ AED, পাশাপাশি দুটি জোনের জন্য ৫ AED এবং তার বেশি দূরত্বের জন্য সর্বোচ্চ ৭.৫ AED কাটে

যাতায়াতের অন্যান্য মাধ্যমসমূহ

  • দুবাই ট্রাম (Dubai Tram): এটি দুবাই ম্যারিনা, জেবিআর (JBR) এবং আল সুফৌহ এলাকার মধ্যে চলাচল করে। যারা সমুদ্র সৈকত বা ম্যারিনা এলাকায় থাকেন, তাদের জন্য এটি বেশ সুবিধাজনক এবং এটি মেট্রোর নল কার্ড দিয়েই ব্যবহার করা যায়।
  • পাম মনোরেল (Palm Monorail): বিখ্যাত কৃত্রিম দ্বীপ ‘পাম জুমেইরাহ’-এর ভেতরে যাতায়াতের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। এটি আটলান্টিস দ্য পাম হোটেল এবং ওয়াটারপার্ক পর্যন্ত যায়। *মনে রাখবেন, এটিতে আরটিএ-এর সাধারণ নল কার্ড চলে না, আলাদা টিকিট কাটতে হয়।
  • আরটিএ পাবলিক বাস (RTA Buses): মেট্রো স্টেশনগুলোর বাইরে থেকে পুরো দুবাইয়ের আনাচে-কানাচে যাওয়ার জন্য ১৫০০-এর বেশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস রয়েছে। মেট্রোর নল কার্ড দিয়েই বাসের ভাড়া পরিশোধ করতে হয়।
  • দুবাই ট্যাক্সি ও কেয়ারম (Taxis & Careem): দুবাইতে সরকারি ট্যাক্সি (অন-মিটারে চলে) বেশ সহজলভ্য। এছাড়া উবার (Uber) অথবা স্থানীয় অ্যাপ Careem ব্যবহার করে খুব সহজেই প্রাইভেট কার বা ট্যাক্সি বুক করা যায়।
  • আবরা ও ফেরি (Abra & Ferry): দুবাই ক্রিক (নদী) পারাপারের জন্য ঐতিহ্যবাহী কাঠের নৌকা বা ‘আবরা’ রয়েছে, যার ভাড়া মাত্র ১ AED। এছাড়া আধুনিক দুবাই ফেরিও পর্যটকদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়।

পর্যটকদের জন্য বিশেষ টিপস:

  • মেট্রো এবং বাসে যাতায়াতের রুট প্ল্যান এবং নিখুঁত সময় জানতে দুবাই সরকারের অফিশিয়াল অ্যাপ S’hail ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
  • দুবাই মেট্রোর প্রতিটি ট্রেনে মহিলা ও শিশুদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সংরক্ষিত কামরা (Cabin) থাকে। পুরুষ যাত্রীরা ভুল করে সেখানে প্রবেশ করলে জরিমানার বিধান রয়েছে।
  • মেট্রোর ভেতরে যেকোনো ধরনের খাবার খাওয়া বা চুইংগাম চিবানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

ভূগর্ভস্থ শহর

নিউজ ডেস্ক

September 15, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিনিধি ও তথ্যের বিবরণ: নিজস্ব প্রতিবেদক, অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশের সময় ও তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

স্থান: ঢাকা

ঢাকা: প্রাচীন মানব সভ্যতার প্রকৌশল ও স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম এক বিস্ময় তুরস্কের মধ্য-অ্যানাটোলিয়া অঞ্চলের ক্যাাপাডোকিয়ায় অবস্থিত ‘ডেরিংকুয়ো’ (Derinkuyu) ভূগর্ভস্থ শহর। মাটির তলদেশে প্রায় ৮৫ মিটার (২৮০ ফুট) গভীরে খোদাই করে তৈরি এই ঐতিহাসিক নগরীতে একসময় প্রায় ২০,০০০ মানুষ তাদের গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীসহ দীর্ঘকাল নিরাপদে বসবাস করতে পারত। ইতিহাসবিদদের মতে, এই শহরটি প্রায় ৩,০০০ বছরের প্রাচীন এবং এটি মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ও জটিলতম ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র।

আকস্মিক আবিষ্কারের ইতিহাস

১৯৬৩ সালে আধুনিক বিশ্ব প্রথম এই ভূগর্ভস্থ শহরের অস্তিত্ব জানতে পারে। ডেরিংকুয়ো এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা তার বাড়ির বেসমেন্ট বা দেয়াল সংস্কারের কাজ করার সময় হঠাৎ মাটির নিচে একটি রহস্যময় কক্ষ ও গোপন দরজার সন্ধান পান।

সেই দেয়ালের পেছনের সুরঙ্গ ধরে অনুসন্ধান ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের খননকাজ চালাতেই বেরিয়ে আসে একের পর এক পাথরে খোদাই করা কক্ষ ও সুদীর্ঘ জনপদ। পরবর্তীতে প্রকাশ পায় যে, এটি সাধারণ কোনো গুহা নয়, বরং মাটির নিচে সুপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা এক বিশাল প্রাচীন নগরী।

ইতিহাস ও নির্মাণের প্রেক্ষাপট

ইতিহাসবিদদের ধারণামতে, খ্রিষ্টপূর্ব ৮ম থেকে ৭ম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ইন্দো-ইউরোপীয় ‘ফ্রিজিয়ান’ (Phrygians) জনগোষ্ঠী নরম আগ্নেয়গিরির শিলা (Tuff) কেটে এই শহরের প্রাথমিক অংশ নির্মাণ শুরু করে।

পরবর্তীকালে বাইজেন্টাইন যুগে (খ্রিষ্টীয় ৫ম থেকে ১২শ শতাব্দী) রোমান ও পারস্য আক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে স্থানীয় খ্রিষ্টান বাসিন্দারা শহরটিকে আরও বিস্তৃত ও আধুনিক করে তোলে। মূলত বহিরাগত শত্রু ও প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করতে আত্মরক্ষার নিরাপদ দুর্গ হিসেবে এই শহরটি ব্যবহৃত হতো।

[ফ্রিজিয়ানদের প্রাথমিক নির্মাণ] ──► বাইজেন্টাইন যুগের সম্প্রসারণ ──► আক্রমণ থেকে সুরক্ষা ও বসবাস

শহরের গঠন, স্থাপত্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

মাটির নিচে ১৮টি স্তর বিশিষ্ট এই ভূগর্ভস্থ শহরটি কেবল বসবাসের জন্য নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ নগর জীবনের সব সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ছিল:

  • বায়ু চলাচলের সুদৃশ্য নালী: শহরজুড়ে প্রায় ১৫,০০০টি ভেন্টিলেশন শ্যাফট বা সুদৃশ্য বায়ুনালী ছিল, যার মাধ্যমে মাটির গভীরতম স্তরেও পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছে যেত।
  • বিশাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা: বহিরাগত শত্রুদের আক্রমণ ঠেকানোর জন্য প্রবেশপথ ও সুড়ঙ্গের সংযোগস্থলে ভারী ও গোলাকার বিশাল পাথরের দরজা স্থাপন করা হয়েছিল, যা কেবল ভেতরের দিক থেকেই সহজে বন্ধ বা খোলা যেত, কিন্তু বাইরে থেকে খোলা অসম্ভব ছিল।
  • দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যবস্থা: শহরের ভেতরে ছিল খাদ্য ও শস্য সংরক্ষণের বিশাল গুদাম, স্থানভিত্তিক রান্নাঘর, গোয়ালঘর বা আস্তাবল, ওয়াইন ও তেলের প্রেস, ভাণ্ডার ঘর, খাবার ঘর, ধর্মীয় প্রার্থনালয় (চার্চ) এবং শিশুদের পাঠদানের জন্য একটি বিশেষ স্কুল ঘর।
  • সুপেয় পানির স্বাধীন কূপ: শত্রুরা যেন পানিতে বিষ মিশিয়ে দিতে না পারে, সেজন্য ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবস্থা বাইরের কূপের সাথে সরাসরি যুক্ত না রেখে ভেতরের স্বাধীন ব্যবস্থা হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল।
[১৫,০০০ বায়ুনালী] ──► বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ──► পাথরের সুরক্ষা দরজা ──► স্বয়ংসম্পূর্ণ ভূগর্ভস্থ জীবন

ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বর্তমান অবস্থা

ডেরিংকুয়ো কেবল একক কোনো শহর নয়; এটি মাটির নিচে প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথের মাধ্যমে ক্যাাপাডোকিয়ার আরেকটি বিখ্যাত ভূগর্ভস্থ শহর ‘কাইমাকলি’ (Kaymakli)-র সাথে সরাসরি সংযুক্ত ছিল।

১৯৬৯ সালে শহরটি সাধারণ দর্শনার্থী ও পর্যটকদের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং বর্তমানে এর প্রায় ১০% অংশ উন্মুক্ত রয়েছে। ১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের ইউনেস্কো (UNESCO) এলাকাটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (World Heritage Site) হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। প্রাচীনকালের প্রতিকূল পরিবেশ ও যুদ্ধবিগ্রহে টিকে থাকার অদম্য তাগিদ এবং বিস্ময়কর প্রকৌশল বিদ্যার নিদর্শন হিসেবে ডেরিংকুয়ো আজও বিশ্বজুড়ে গবেষক ও পর্যটকদের অভিভূত করে চলেছে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ