গল্প
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় ছিলেন চিকিৎসক, স্বাধীনতা সংগ্রামী, রাজনীতিক ও পরিকল্পনাবিদ—ভারতের ইতিহাসে বহুমুখী অবদান রাখা এক বিরল মানুষ। ১৮৮২ সালের ১ জুলাই জন্ম নেওয়া এই মানুষটির জীবন ছিল সংগ্রামের গল্পে ভরা, আর কাজ ছিল একেবারে যুগান্তকারী।
শৈশব ও দারিদ্র্য থেকে যাত্রা
- বিধানচন্দ্র রায় পাটনার বাঁকিপুর থেকে খালি পায়ে মাত্র ৫ টাকা ২৫ পয়সা নিয়ে কলকাতায় আসেন।
- ১৮ ভাইবোনের সংসারে ছোটবেলায় অভাবের টানেই মায়ের চিকিৎসা হয়নি। ঘোড়ার খাবারের জন্য আনা বিট-গাজর পর্যন্ত খেতে হয়েছে ভাইবোনদের।
ডাক্তার হওয়ার গল্প
- ডাক্তার হতে খুব ইচ্ছা ছিল না। শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিক্যাল কলেজে একসঙ্গে ফর্ম চেয়েছিলেন। মেডিক্যালের ফর্ম আগে আসায় সেখানেই ভর্তি হয়ে যান।
- পড়াশোনার খরচ চালাতে মেল নার্স হিসেবে ধনী রোগীদের বাড়িতে ডিউটি করতেন। ১২ ঘণ্টার ডিউটির জন্য পেতেন মাত্র ৮ টাকা।
- একসময় ট্যাক্সি চালাতেন খরচ চালানোর জন্য।
- এমবি পরীক্ষায় ফেলও করেছিলেন।
- লন্ডনে গিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে একসঙ্গে MRCP এবং FRCS ডিগ্রি মাত্র দু’বছরে শেষ করেন—যা করতে ইংরেজ ডাক্তারদেরও সাহস হতো না।
প্রেম ও চিরকুমার জীবন
- নামকরা চিকিৎসক স্যার নীলরতন সরকারের মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রোজগার কম বলে বিয়ে হয়নি। জীবনের শেষ পর্যন্ত চিরকুমারই থেকে যান।
- irony হলো, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর যেই মেয়ের বাবা প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন, তার নামেই গড়ে তুললেন কল্যাণী উপনগরী।
ডাক্তার থেকে মুখ্যমন্ত্রী
- ১৯৪৮ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে ডাক্তারি থেকে মাসে আয় করতেন ৪২,০০০ টাকা—আজকের হিসেবে কয়েক কোটি টাকার সমান।
- কিন্তু ক্ষমতার চেয়েও মানুষের সেবাকে বড় মনে করতেন। মুখ্যমন্ত্রী হয়েও প্রতিদিন সকাল ৭টায় নিজের বাড়িতে বিনা পয়সায় রোগী দেখতেন।
অসাধারণ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন
- সল্টলেক শহর, কল্যাণী উপনগরী, লেক টাউন, লবণহ্রদ নগর—সবই তাঁর পরিকল্পনা।
- দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা, চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কস, হরিণঘাটা দুগ্ধপ্রকল্প তাঁর দূরদর্শিতার ফল।
- শিক্ষাক্ষেত্রে গড়ে তুললেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়, বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ।
- দার্জিলিঙে প্রতিষ্ঠা করেন ভারতের প্রথম পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
- ফরাক্কা ব্যারাজের ধারণার পেছনেও তাঁর উদ্যোগ ছিল।
রবীন্দ্রনাথ ও চিত্তরঞ্জনের সঙ্গে সম্পর্ক
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন তিনি। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের ছবির জন্য রবীন্দ্রনাথকে দিয়ে লিখিয়েছিলেন অমর পঙ্ক্তি:
“এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।”
ব্যক্তিত্ব ও রসবোধ
- সাংবাদিকদের বলেছিলেন: “আপনাদের প্রশ্ন এমন হয়, হ্যাঁ বললেও বিপদ, না বললেও বিপদ।” উদাহরণ দিলেন—“আপনি কি স্ত্রী প্রহার বন্ধ করেছেন?”—এ প্রশ্নে হ্যাঁ বা না কোনোটাই নিরাপদ উত্তর নয়।
- গান্ধীজি তাঁকে গভর্নর পদ নিতে বলেন। বিধানবাবু উত্তর দিয়েছিলেন: “আমাকে আপনারা রয়্যাল বলতে পারেন, আর যেহেতু আমি লম্বা, বলতে পারেন ‘রয়্যাল হাইনেস’।”
শেষ দিন
- শৈশবে ৫ টাকা ২৫ পয়সা হাতে কলকাতায় আসা বিধানচন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর তাঁর ব্যক্তিগত ঘরে পাওয়া যায় মাত্র ১১ টাকা ২৫ পয়সা।
- রেখে গেলেন উন্নয়ন, সৎ শাসনের দৃষ্টান্ত আর কোটি মানুষের ভালোবাসা।
সূত্র
- বিধানচন্দ্র রায়, বলেছি বলছি বলব, স্মৃতিকথা ও সমসাময়িক পত্রিকা।
- মহিউদ্দিন আহমদ, অস্থির সময়ের রাজনীতি।
- পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যভান্ডার ও কলকাতা পৌরসভা আর্কাইভ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা, ১৫ এপ্রিল ২০২৬: বর্তমানের স্মার্টফোনের যুগে আমরা এক সেকেন্ডের হাজার ভাগের এক ভাগও নিখুঁতভাবে জানি। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, যে মানুষটি প্রথম ঘড়ি বানিয়েছিলেন, তিনি কীভাবে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে তখন ঠিক কটা বাজে? ১৯০০ সালের সেই সাধারণ যান্ত্রিক ঘড়ি থেকে ২০২৬ সালের এই স্মার্ট টাইম-ট্র্যাকিং সিস্টেম—সময়ের হিসাবের পেছনে রয়েছে মহাজাগতিক এক নিখুঁত গাণিতিক ‘পাইপলাইন’।

১৯০০-২০২৬: সময়ের হিসাব ও সূর্যঘড়ির ঐতিহ্য

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে অর্থাৎ ১৯০০ সালের দিকে মানুষের কাছে ঘড়ি ছিল এক আভিজাত্যের প্রতীক। কিন্তু তারও আগে, আদিকাল থেকে মানুষ সময় নির্ণয় করত সূর্যের অবস্থান দেখে। ১৯০০ থেকে ১৯৪৭, এরপর ১৯৭১—প্রতিটি যুগে সময়ের নিখুঁত হিসাবের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। আগে ছিল সরাসরি সৌরঘড়ি, যা সূর্যের ছায়ার ওপর ভিত্তি করে চলত। ২০২৬ সালের এই হাই-টেক যুগে এসেও আমরা সেই আদিম ‘সিস্টেম’ বা সূর্যের নিয়মকেই অনুসরণ করছি।
প্রথম ঘড়ি নির্মাতা যেভাবে সময় জানতেন (গাণিতিক বিশ্লেষণ)

প্রথম ঘড়ি নির্মাতার জন্য সময় নির্ধারণ করা খুব একটা জটিল কাজ ছিল না, যদি তিনি গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে দক্ষ হতেন। এর মূল প্রক্রিয়াটি ছিল নিম্নরূপ:
- মধ্যগগনের সূর্য: যখন সূর্য ঠিক মাঝ আকাশে থাকত, তখন তাকে দুপুর ১২টা ধরে দিনকে ২৪ ভাগে বিভক্ত করা হতো।
- পৃথিবীর ঘূর্ণন ও ডিগ্রি: পৃথিবী বৃত্তাকার এবং এটি নিজ অক্ষে ঘুরছে। একবার ঘুরে আসা মানে ৩৬০ ডিগ্রি পথ অতিক্রম করা।
- ঘণ্টার হিসাব: এই ৩৬০ ডিগ্রিকে ২৪ ঘণ্টা দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায় ১৫ ডিগ্রি। অর্থাৎ, প্রতি ঘণ্টায় পৃথিবী প্রায় ১৫ ডিগ্রি পথ অতিক্রম করে।
- ৩০ ডিগ্রির ম্যাজিক: আমরা সচরাচর যে ১২ ঘণ্টার ঘড়ি ব্যবহার করি, সেখানে প্রতি ঘণ্টার ব্যবধান হলো ৩০ ডিগ্রি (৩৬০/১২=৩০)।
এই ধ্রুবক গতি এবং মহাজাগতিক নিয়ম বিবেচনা করেই ঘড়ি বানানো হয়েছে। অর্থাৎ, ঘড়ি সময় তৈরি করেনি, বরং সময়ের যে প্রাকৃতিক ‘পাইপলাইন’ আগে থেকেই ছিল, ঘড়ি কেবল তাকে একটি ফ্রেমের মধ্যে নিয়ে এসেছে।
২০২৬-এর স্মার্ট টাইম ও কৌশলগত ইনসাইট

গুগল অ্যানালাইসিস এবং ২০২৬ সালের টেকনিক্যাল ট্রেন্ড অনুযায়ী, বর্তমানে অ্যাটমিক ঘড়ির মাধ্যমে সময়ের হিসাব রাখা হয় যা কয়েক কোটি বছরেও এক সেকেন্ড ভুল করে না। ১৯০০ সালের সেই সাধারণ জীবনধারা আজ ২০২৬ সালের এই ন্যানো-সেকেন্ডের যুগে এসে দাঁড়িয়েছে। সফল মানুষের আসল ‘সিস্টেম’ হলো সময়ের এই পাইপলাইনকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা। গাধার মতো সময়ের পেছনে না ছুটে, সময়ের নিয়ম বুঝে কাজ করাই হলো ২০২৬ সালের প্রকৃত স্মার্টনেস।
উপসংহার: প্রথম ঘড়ি নির্মাতা কোনো জাদুকর ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ পর্যবেক্ষক। ১৯০০ সালের সেই প্রাচীন ধ্যান-ধারণা কাটিয়ে ২০২৬ সালের স্মার্ট বাংলাদেশে আমরা আজ সময়ের যে নিখুঁত রূপ দেখি, তার ভিত্তি সেই ৩৬০ ডিগ্রির ঘূর্ণন। সময়ের সঠিক ব্যবহারই পারে আমাদের জীবনকে একটি সফল পাইপলাইনে নিয়ে যেতে।
সূত্র: হিস্টোরি অফ হোরোলজি (Horology), জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গণিত আর্কাইভ ২০২৬, রয়্যাল গ্রিনউইচ অবজারভেটরি রিপোর্ট, প্রথম আলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পাতা এবং ২০২৬ সালের গুগল গ্লোবাল সায়েন্স ইনসাইট।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
ক্যাটেগরি: টেকনোলজি ও গ্যাজেট গাইড
সময়: ১৩ এপ্রিল ২০২৬
স্মার্টফোন কেনার সময় আমরা অনেকেই চকচকে বিজ্ঞাপন আর নামী ব্র্যান্ডের মোহনায় পড়ে নিজের কষ্টার্জিত অর্থ নষ্ট করি। অধিকাংশ মানুষ নিজের প্রয়োজন ভুলে এমন সব ফিচারের পেছনে টাকা ঢালেন যা বাস্তবে তাদের কোনো কাজেই আসে না। কিন্তু একটু বুদ্ধি খাটালে এবং বেসিক বিষয়গুলোতে লক্ষ্য রাখলে অনেক কম দামেও একটি দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী ফোন পাওয়া সম্ভব।
১. RAM-এর মায়াজাল: ৩জিবি নাকি ৮জিবি?

বর্তমান বাজারে ৬জিবি বা ৮জিবি র্যাম ছাড়া যেন চলেই না—এমন একটি ধারণা প্রচার করা হয়। কিন্তু আপনি যদি আপনার ফোনের অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো আনইনস্টল করে দেন এবং শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো রাখেন, তবে ৩জিবি বা ৪জিবি র্যামেই চমৎকার পারফরম্যান্স পাওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, বেশি অ্যাপ্লিকেশন মানেই ফোনের ওপর বাড়তি চাপ।
২. ক্যামেরা বনাম প্রয়োজনীয়তা

স্মার্টফোন কিনতে গিয়ে আমরা ডিএসএলআর-এর স্বাদ খুঁজি। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, ফোনে তোলা অধিকাংশ ছবি আমরা দ্বিতীয়বার দেখার প্রয়োজন বোধ করি না। তাই অহেতুক মেগাপিক্সেলের পেছনে না ছুটে ফোনের কার্যকারিতার দিকে নজর দিন। এছাড়া নিরাপত্তার খাতিরে ফোনে ব্যক্তিগত ফটো রাখা এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি সব সময়ই থাকে।
৩. প্রসেসর ও গেমিং আতঙ্ক
ইউটিউবের রিভিউ দেখে প্রসেসরের জটিল হিসেবে সাধারণ মানুষের মাথা ঘামানোর খুব একটা প্রয়োজন নেই। কারণ সাধারণ কাজ চালানোর জন্য বর্তমানের প্রায় সব প্রসেসরই সক্ষম। আপনি যদি মোবাইলে উচ্চমানের গেম না খেলেন (যা চোখ ও মাথার জন্য ক্ষতিকর), তবে দামী প্রসেসরের কোনো প্রয়োজন নেই। উচ্চমানের প্রসেসরই মূলত মোবাইলের দাম অনেক বাড়িয়ে দেয়।
৪. কেন বিজ্ঞাপন নয়, স্পেসিফিকেশন জরুরি?

অনেকেই স্যামসাং, ভিভো বা অপ্পোর মতো দামী ব্র্যান্ডের পেছনে ছোটেন। কিন্তু আসুস (ASUS) বা আইটেল (itel)-এর মতো ব্র্যান্ডগুলো অনেক সময় কম দামে শক্তিশালী ফোন দেয় যা বছরের পর বছর টিকে থাকে। সঠিক টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন বুঝতে পারলে আপনি ১২-১৩ হাজার টাকার ফোনেই ৫-৬ বছর অনায়াস কাটাতে পারবেন।
মাদের রিকমেন্ডেশন: বাজেট কিংস (Budget King)
আপনি যদি বর্তমানে ১০,০০০ টাকার আশেপাশে একটি সেরা ৫জি (5G) ফোন খুঁজছেন, তবে নিচের মডেলটি বিবেচনা করতে পারেন:
- মডেল: itel P55 5G
- দাম: ১০০০০/- টাকার আশেপাশে (অ্যামাজন/ফ্লিপকার্ট ভেদে পরিবর্তনশীল)
- কেন কিনবেন?
- প্রসেসর: Dimensity 6080 (৫জি সাপোর্টসহ)।
- মেমোরি: ১২জিবি* র্যাম (ভার্চুয়ালসহ) ও ১২৮জিবি রম।
- ক্যামেরা: ৫০ মেগাপিক্সেল এআই ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা।
- ব্যাটারি: ৫০০০mAh।
- ওয়ারেন্টি: ২ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি।
বিডিএস টিপস (সংশোধনী ও সতর্কতা): > ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ৩জিবি র্যামের দুটি ফোন কেনা একটি ৬জিবি ফোনের বিকল্প হতে পারে না, কারণ আধুনিক অ্যাপগুলো সঠিকভাবে চলার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ র্যাম একসাথেই প্রয়োজন। তবে আপনার অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সরিয়ে রাখার পরামর্শটি ফোন ফাস্ট রাখার জন্য সেরা টেকনিক।
সূত্র ও তথ্যসূত্র (Sources & References):
১. গুগল শপিং ও অ্যামাজন ইন্ডিয়া ট্রেন্ডস ২০২৬: বাজেট স্মার্টফোন ক্যাটেগরিতে সর্বাধিক বিক্রিত ফোনের তালিকা। ২. TechRadar & CNET: স্মার্টফোন পারফরম্যান্স ও র্যাম ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত টেকনিক্যাল গাইড। ৩. ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা: দীর্ঘ ৬ বছর ধরে ASUS M2 Pro ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতা।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
জানেন কি, নেগেটিভ মানুষ আপনাকে কখনো সরাসরি ধ্বংস করবে না? তারা অনেকটা ‘উইপোকার’ মতো; বাইরে থেকে দেখা যায় না, কিন্তু ধীরে ধীরে আপনার ভেতরকার আত্মবিশ্বাস, স্বপ্ন আর সাহসকে খেয়ে ফেলে। আজ আমরা আলোচনা করব কেন আপনার চারপাশ পরিষ্কার রাখা আপনার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য জরুরি।
১. নেতিবাচক কথার মারণাস্ত্র

যখন কেউ আপনাকে বলে— “তুই পারবি না” বা “এটা তোর জন্য না”, তখন প্রথমবার হয়তো আপনি পাত্তা দেন না। কিন্তু বার বার একই কথা শুনতে শুনতে আপনার অবচেতন মনে নিজের প্রতি সন্দেহ তৈরি হয়। এই সন্দেহটাই আপনার সাফল্যের পথে সবচাইতে বড় বাধা।
২. এনার্জি ভ্যাম্পায়ার

কিছু মানুষ আছে যারা আপনার পজিটিভ এনার্জি শুষে নেয়। আপনি হয়তো খুব উৎসাহ নিয়ে নতুন কোনো আইডিয়া শেয়ার করলেন, আর তারা নিমিষেই একগুচ্ছ ‘কিন্তু’ আর ‘যদি’ দিয়ে আপনার উৎসাহটা নষ্ট করে দিল। এর ফলে:
- আপনার কাজের উদ্যম বা এনার্জি কমে যায়।
- বড় স্বপ্ন দেখার সাহস হারিয়ে ফেলেন।
- চেষ্টা করার আগেই পরাজয় মেনে নেন।
৩. আপনি কি তাদের মতোই হয়ে যাচ্ছেন?
মনোবিজ্ঞানে একটি কথা আছে— “You are the average of the five people you spend the most time with.” অর্থাৎ, আপনি যাদের সাথে সবচাইতে বেশি সময় কাটান, আপনি ঠিক তাদের মতোই হয়ে ওঠেন। নেগেটিভ মানুষের ভিড়ে থাকলে একসময় আপনি নিজেও অজান্তে নেতিবাচক চিন্তা করতে শুরু করবেন।
কিভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন? (Protect Your Mindset)
| নেগেটিভ মানুষের লক্ষণ | আপনার করণীয় |
| সব কাজে খুঁত ধরা | তাদের থেকে ব্যক্তিগত পরিকল্পনা গোপন রাখুন। |
| অতীতের ব্যর্থতা মনে করানো | নিজের বর্তমান অর্জনগুলো ডায়েরিতে লিখুন। |
| রিস্ক নিতে বাধা দেওয়া | যারা সফল হয়েছে তাদের জীবনী পড়ুন। |
| পরচর্চা ও অভিযোগ করা | আড্ডা থেকে কৌশলে নিজেকে সরিয়ে নিন। |
উপসংহার: নিজের ভবিষ্যৎ আপনার হাতে
সবাইকে সাথে নিয়ে চলা উদারতার লক্ষণ হতে পারে, কিন্তু নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে নয়। মনে রাখবেন, আপনার চারপাশ যেমন, আপনার ভবিষ্যৎ ঠিক তেমনই হবে। তাই আজই আপনার সার্কেলটি চেক করুন। যাদের কথা আপনাকে ছোট করে রাখে, তাদের থেকে ভদ্রভাবে দূরত্ব বজায় রাখুন।
আপনার Mindset আপনার সবচাইতে বড় সম্পদ। একে রক্ষা করার দায়িত্ব আপনার নিজের।
আপনার মন্তব্য: আপনার আশেপাশে এমন কেউ কি আছে যে সারাক্ষণ আপনার মনোবল ভেঙে দেয়? আপনি কিভাবে তাদের হ্যান্ডেল করেন? কমেন্টে আমাদের জানান।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



