রাজনীতি

শেখ হাসিনার অর্জন, ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক—এক নজরে বিশদ বিশ্লেষণ (সূত্রসহ)
শেখ হাসিনা

নিউজ ডেস্ক

October 22, 2025

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ


সংক্ষিপ্ত সারাংশ

শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনকাল (২০০৯–আগস্ট ২০২৪) বাংলাদেশকে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, সামাজিক সূচক ও বৈদেশিক যোগাযোগে বড় অগ্রগতি দিলেও, একই সময়ে নির্বাচন, মানবাধিকার, বাক্‌স্বাধীনতা, আর্থিক শৃঙ্খলা ও শাসনব্যবস্থায় গুরুতর বিতর্ক জমা হয়েছে—যার শেষ প্রান্তে ২০২৪ সালের ছাত্র–নেতৃত্বাধীন আন্দোলন, কোটাবিধি সংকট ও সহিংসতার পর তাঁর পদত্যাগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আবির্ভাব ঘটে।

প্রধান অর্জন (Achievements)

1) মেগা অবকাঠামো

  • পদ্মা সেতু (৬.১৫ কিমি): সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে নির্মাণ; ২০২২ সালের জুনে উদ্বোধন—দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের ২০+ জেলায় সরাসরি সংযোগ, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সময়–খরচে বড় প্রভাব। আনুমানিক ব্যয় ~৳৩০১.৯৩ বিলিয়ন।
  • ঢাকা মেট্রো রেল (MRT-6) ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: রাজধানীর গতিশীলতা বাড়াতে ধাপে ধাপে চালু; যানজট ও যাত্রা–সময় কমাতে নতুন ধারা। (চলমান প্রকল্পসমূহ)
  • বঙ্গবন্ধু টানেল (চট্টগ্রাম): কর্ণফুলীর নিচ দিয়ে সাবমেরিন টানেল চালু—চট্টগ্রামের দুই তীরের দ্রুত সংযোগে নতুন অধ্যায়। (সরকারি প্রকল্প বিবরণী)

2) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় পদক্ষেপ

  • রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: প্রথম ইউরেনিয়াম চালান গ্রহণ; রোসাটম–সহযোগিতায় ২,৪০০ মেগাওয়াটের টার্গেট। (প্রথম ইউনিট–সময়সূচি ঘোষিত ছিল)
  • গ্রিড সম্প্রসারণ: ঘরে–ঘরে বিদ্যুৎ—গ্রিড সংযোগ ও উৎপাদন ক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি (সমষ্টিগত ফল)। (বহু-বছরের সরকারি তথ্য ও আন্তর্জাতিক কাভারেজে প্রতিফলিত)

3) টেলিকম–মহাকাশ

  • বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১: কক্ষপথে বাংলাদেশের প্রবেশ; টেলিভিশন ট্রান্সপন্ডার/ডেটা সেবায় রাজস্ব—তবে আর্থিক প্রতিবেদনে “লাভ–ক্ষতির” বছরভেদে ভিন্ন চিত্র।

4) আর্থ–সামাজিক সূচকে অগ্রগতি

  • দারিদ্র্য হ্রাস: জাতীয় দারিদ্র্যের হার দীর্ঘমেয়াদে দৃশ্যমানভাবে কমেছে (সর্বশেষ প্রোফাইল/পদ্ধতিগত সিরিজ অনুযায়ী)।
  • মাথাপিছু আয়ে উল্লম্ফন: ২০০৯–এর পর থেকে ধারাবাহিক বৃদ্ধি; বিশ্বব্যাংকের সিরিজে ২০২4 পর্যন্ত ডলার আয়ের গ্রাফে তা স্পষ্ট।
  • মানবিক গ্রহণযোগ্যতা: রোহিঙ্গা আশ্রয়—উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত (বহু আন্তর্জাতিক কাভারেজে প্রতিফলিত)।

ইতিবাচক দিক (Positives)

  1. রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা ও কার্য সম্পাদন: বৃহৎ প্রকল্প—পদ্মা সেতু, মেট্রো, টানেল, এক্সপ্রেসওয়ে—রাষ্ট্রের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়িয়েছে; সরবরাহ–চেইন, শ্রমবাজার ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে বহুগুণ প্রভাবের ভিত্তি তৈরি।
  2. বিদ্যুতায়ন ও অবকাঠামোর বিস্তার: শিল্পায়ন ও সেবাখাতে বিনিয়োগ টানার জন্য “হার্ড ইন্ফ্রা”র মজবুত ভিত্তি।
  3. দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনামুখীনতা: Vision–2021/2041–ধাঁচের পরিকল্পনার ফলে ধারাবাহিকতা রক্ষা—যদিও বিতর্ক আছে, তবু নীতি–স্থিতি বিনিয়োগকারীদের কাছে সংকেত দিয়েছে।
  4. দারিদ্র্য ও আয়ের সূচক: দীর্ঘটানা প্রবৃদ্ধির সুবিধা—নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর ইতিবাচক প্রভাব; নগরায়ন ও নারীশ্রম অংশগ্রহণে ক্রমান্বয় বৃদ্ধি।

নেতিবাচক দিক (Negatives)

  1. নির্বাচন ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন:
    • ২০১৪ ও ২০১৮ নির্বাচনে অংশগ্রহণ/স্বচ্ছতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা; ২০২৪–এর প্রাক্কালে দমন–পীড়ন ও সহিংসতার অভিযোগ নতুন করে উত্থাপিত।
    • ২০২৪ কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলনের সহিংসতা, শতাধিক নিহতের খবর ও সুপ্রিম কোর্টের ৯৩% মেধাভিত্তিক নিয়োগ–রায়—রাজনৈতিক সংকটকে তীব্র করে; কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্ভব।
  2. মানবাধিকার–বাক্‌স্বাধীনতা:
    • ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (২০১৮) এবং প্রতিস্থাপিত সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট (২০২৩)—উভয়েরই ধারা নিয়ে কঠোর সমালোচনা; মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হওয়ার অভিযোগ।
    • র‍্যাবের বিরুদ্ধে গুম–বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা (২০২১)—বাংলাদেশের মানবাধিকার চিত্র আন্তর্জাতিকভাবে সংকুচিত করে।
  3. অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও আর্থিক শৃঙ্খলা:
    • মুদ্রাস্ফীতি/ডলার সংকট–পরবর্তী IMF কর্মসূচি (২০২৩)—নীতির কড়াকড়ি ও ভর্তুকি–সংস্কার জনজীবনে চাপ বাড়ায় (প্রাসঙ্গিক)।
    • রাষ্ট্রায়ত্ত খাত/কিছু মেগা প্রকল্পের আর্থিক টেকসইতা নিয়ে প্রশ্ন—বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আর্থিক প্রতিবেদনগুলোতে “লাভ/ক্ষতি”র মিশ্র চিত্র; স্বচ্ছ রিপোর্টিং–এর ঘাটতি ধরা পড়ে।
  4. প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ঘাটতি:
    • দল–রাষ্ট্র–প্রশাসন মিশে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি; ভিন্নমত–রাজনীতির জায়গা সঙ্কুচিত—দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক স্থিতির জন্য নেতিবাচক সিগন্যাল।

মিশ্র/বিতর্কিত ক্ষেত্র (Mixed Record)

  • মেগা প্রকল্পের খরচ ও সুফল: পদ্মা সেতু–পরিবহন খরচ/সময় কমালেও রিটার্ন–অন–ইনভেস্টমেন্ট, টোল কাঠামো ও আঞ্চলিক শিল্পায়নের বাস্তব সুফল—এসবই “ধীরে ধীরে” দৃশ্যমান হবে; তাৎক্ষণিক আর্থিক ভারসাম্যে চাপ থেকেছে।
  • রূপপুর প্রকল্প: জ্বালানি বৈচিত্র্যে ইতিবাচক, তবে ঋণ–শর্ত, নিউক্লিয়ার বর্জ্য–ব্যবস্থাপনা ও খরচ–অতিরিক্ততার ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা আছে।
  • ডিজিটাল/সাইবার আইন: অনলাইন হেট–স্পিচ/সাইবার অপরাধ মোকাবিলা প্রয়োজন হলেও, আইনের ধারা ও প্রয়োগ–পদ্ধতি মতপ্রকাশ সংকুচিত করছে—আইন–সংস্কার প্রয়োজন।

টাইমলাইন—কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক

  • ২০১৪ ও ২০১৮: জাতীয় নির্বাচন—অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক।
  • ২০১৮: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ। (আর্থিক পারফরম্যান্সে উত্থান–পতন)
  • ২০২২ (জুন): পদ্মা সেতু উদ্বোধন।
  • ২০২3 (সেপ্টেম্বর): DSA বাতিল করে CSA প্রণয়ন—কঠোর ধারার সমালোচনা অব্যাহত।
  • ২০২৪ (জুলাই): কোটাবিরোধী আন্দোলন—সুপ্রিম কোর্ট ৯৩% মেধাভিত্তিক নিয়োগের নির্দেশ।
  • ২০২৪ (আগস্ট): আন্দোলন–সহিংসতার প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার পদত্যাগ; নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।

নীতিগত শিক্ষা (Takeaways)

  1. ইনফ্রার পাশাপাশি ইনস্টিটিউশন: বড় প্রকল্পের মতোই স্বাধীন নির্বাচন, বাক্‌স্বাধীনতা ও মানবাধিকার–রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি।
  2. টেকসই অর্থায়ন: মেগা প্রকল্পের অর্থনৈতিক টেকসইতা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা, নিরীক্ষা, টোল/ট্যারিফ–নীতি ও বাস্তব সুফল–মাপার পরিষ্কার কাঠামো প্রয়োজন।
  3. সামাজিক সংলাপ: শিক্ষা–চাকরি–কোটা–বিষয়ে সরকার–শিক্ষার্থী–শ্রমবাজারের মধ্যে নিয়মিত, উন্মুক্ত সংলাপ—সংকট বড় হওয়ার আগেই সমাধানের রাস্তা খুলে দেয়।

উপসংহার

শেখ হাসিনার শাসন এক হাতে দিয়েছে দৃশ্যমান অবকাঠামো ও প্রবৃদ্ধির গল্প, অন্য হাতে রেখে গেছে গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিকতা, মানবাধিকার ও নির্বাচনী গ্রহণযোগ্যতার কঠিন প্রশ্ন। পদ্মা সেতুর মতো আইকনিক প্রকল্প, বিদ্যুতায়ন ও কিছু সামাজিক সূচকে অগ্রগতি—এসব তাঁর ইতিবাচক উত্তরাধিকার; আবার DSA/CSA–এর মতো আইন, রাজনৈতিক সংকোচন, র‍্যাব–বিতর্ক, ২০১৪/২০১৮/২০২৪–এর রাজনৈতিক অস্থিরতা—এসব নেতিবাচক অধ্যায়। ২০২৪–এর ঘটনাবলি দেখিয়েছে: ইনফ্রা যথেষ্ট নয়—বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান ছাড়া স্থিতিশীলতা টেকে না।

সূত্র (নির্বাচিত)

  • Reuters — কোটাবিরোধী আন্দোলন, সুপ্রিম কোর্টের ৯৩% মেধাভিত্তিক রায়; শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও অন্তর্বর্তী সরকারে মুহাম্মদ ইউনূস।
  • World Bank (PIP; DataBank) — দারিদ্র্য হার ও মাথাপিছু আয়ের দীর্ঘমেয়াদি সিরিজ।
  • AP News — রূপপুর প্রকল্পে ইউরেনিয়াম চালান ও প্রকল্প প্রেক্ষাপট।
  • Human Rights Watch — ২০২৩–এর Cyber Security Act/2018–এর DSA সমালোচনা; ২০২৪ নির্বাচনী প্রেক্ষাপট।
  • US Treasury (OFAC) — ২০২১–এ RAB–এর ওপর নিষেধাজ্ঞা।
  • The Daily Star / Prothom Alo (Eng.) — বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আর্থিক পারফরম্যান্স সংক্রান্ত প্রতিবেদনসমূহ।
  • TBS — পদ্মা সেতু উদ্বোধনের প্রাক্কালে প্রাসঙ্গিক তথ্য।

নোট: অর্থনৈতিক/প্রকল্প–সংক্রান্ত সংখ্যাগুলোর কিছুতে বছর–ভেদে হালনাগাদ প্রয়োজন হতে পারে; এখানে উল্লিখিত সব সংখ্যা ও ঘটনাই উপরের উন্মুক্ত সূত্র/রিপোর্টে প্রতিফলিত

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

নির্বাচন

নিউজ ডেস্ক

October 21, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
বিভাগ (Category): রাজনীতি → নির্বাচনী খবর
প্রকাশের তারিখ: ২২ অক্টোবর, ২০২৬
তথ্যসূত্র (Sources): নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তি ও গেজেট, প্রথম আলো, বিডিনিউজ২৪, যুগান্তর, বাংলা ট্রিবিউন, রাইজিংবিডি, টিবিএস বাংলা, ঢাকা পোস্ট

ঢাকা: স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরেই এখন নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই, তাই ভোটের সময়সূচি নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। ভোট হবে পাঁচ স্তরে: ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন। তবে তারিখ নিয়ে এখনো পুরোপুরি স্পষ্টতা নেই।

কবে হচ্ছে ভোট?

সরকারের লক্ষ্য। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে ভোট শুরু হবে এবং ৬ জুনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। তিনিই আবার বলেছেন, সুনির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি এবং শুরুর সময় ঠিক করবে নির্বাচন কমিশন।

ইসির অবস্থান। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, বার্ষিক পরীক্ষার কারণে নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট হচ্ছে না, কমিশন জানুয়ারিতে শুরুর আশা করছে। জানুয়ারিতে ভোট হলে ৪০-৪৫ দিন আগে, অর্থাৎ নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা হতে পারে। তবে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত কোনো তারিখই চূড়ান্ত ধরা যায় না।

ভিন্ন সুরও আছে। টিবিএস বাংলার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আগামী বছরের শেষ নাগাদ ভোট আয়োজনের কথা উঠেছে, যাতে দলীয় সাংগঠনিক প্রস্তুতির সময় মেলে। আর ইসির এক কমিশনারের মন্তব্য নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন কঠিন হবে। অর্থাৎ সূচি এখনো নমনীয়।

ধাপ ও প্রস্তুতি

দেশে মোট ইউনিয়নের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮০টি, আর একসঙ্গে সব নির্বাচন না করে ধাপে ধাপে ভোট এবং সব স্তর শেষ করতে ১০ থেকে ১২ মাস লাগার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তায় থাকবে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হতে পারে। সেপ্টেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য যে সাত ধাপের খসড়া তারিখ আলোচনায় এসেছিল, পরিস্থিতি বদলানোয় সেটি আর কার্যকর নয়। জুনের মধ্যে ভোট, সময় খুঁজছে ইসি – শিক্ষাবার্তা ডট কম

ভোটার তালিকা: গুরুত্বপূর্ণ তারিখ

  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬: নতুন ভোটার নিবন্ধন ও আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদনের শেষ তারিখ।
  • যোগ্যতা: ৩১ অক্টোবর ২০০৮ বা তার আগে জন্ম নেওয়া এবং ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ডেটাবেইসে নিবন্ধিতরাই তালিকায় আসবেন।
  • ৫ নভেম্বর: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা এবং সারা দেশে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ।
  • ২০ নভেম্বর: খসড়া তালিকায় দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের আবেদনের শেষ দিন; নিষ্পত্তির শেষ সময় ২৩ নভেম্বর; সিদ্ধান্ত তালিকায় যুক্ত হবে ২৪ নভেম্বর।
  • ২৫ নভেম্বর: হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ। চূড়ান্ত তালিকায় যাদের নাম থাকবে, তারাই স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।

প্রার্থী হতে হলে

নির্দলীয় ভোট। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হবে এবং ২০১৬ সালের আচরণবিধি বাতিল করে নতুন বিধি করা হয়েছে। এতে নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান রাখা হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের জামানত ও ব্যয়সীমা। সংশোধিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালার গেজেট ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে। নতুন বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার টাকা ও সাধারণ সদস্য প্রার্থীর ৫ হাজার টাকা। মোট ভোটের ১৫ শতাংশের কম পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা চেয়ারম্যানের জন্য ১০ লাখ ও সাধারণ সদস্যের জন্য ২ লাখ টাকা।

প্রচলিত যোগ্যতা। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রার্থীকে সাধারণত বাংলাদেশের নাগরিক, ন্যূনতম ২৫ বছর বয়সী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। ঋণখেলাপি, দেউলিয়া কিংবা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে নির্দিষ্ট মেয়াদের সাজাপ্রাপ্তরা অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হন। সংশোধিত বিধিমালায় কিছু বদলেছে কি না, তা ইসির গেজেট থেকে মিলিয়ে নিন।

নতুন আচরণবিধির মূল দিক

  • পোস্টার নিষিদ্ধ। ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও সীমিত সংখ্যক বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। ইউনিয়ন পরিষদে প্রতি ওয়ার্ডে একটি বিলবোর্ড।
  • মাইক। দুপুর ১২টার আগে ও সূর্যাস্তের পর মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ, শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল এবং এক ওয়ার্ডে একটির বেশি মাইক নয়।
  • অনলাইন প্রচার। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে বাধা নেই, তবে খরচ নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবে দেখাতে হবে। এআই দিয়ে ভুয়া তথ্য, বিকৃত ছবি বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারে বিধিনিষেধ আছে। খসড়ায় প্রার্থীদের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নিবন্ধনের কথাও ছিল; চূড়ান্ত গেজেটে তা আছে কি না, যাচাই করে নিন।
  • দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রচার নিষেধ। প্রার্থী ছাড়া চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
  • শাস্তি। লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান। খসড়ায় ছিল, গুরুতর লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা ইসির থাকবে।

সামনের চ্যালেঞ্জ

আর্থিক দিক থেকে পাঁচ স্তরের নির্বাচনে ইসির প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। সময়সূচি, নিরাপত্তা-প্রস্তুতি ও পরীক্ষার মৌসুম মিলিয়ে ভোটের তারিখ ঠিক করা ইসির জন্য বড় হিসাব। তফসিল ঘোষণা হলে চিত্র স্পষ্ট হবে।

উপসংহার

আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো ভোটার তালিকার সময়সূচি, নির্দলীয় ভোটের কাঠামো, সংশোধিত বিধিমালা ও নতুন আচরণবিধি। ভোটের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও ধাপ তফসিল ঘোষণার পরই জানা যাবে। প্রার্থী ও ভোটার, দুই পক্ষেরই উচিত ইসির সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তির ওপর নজর রাখা।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

ডেঙ্গু

নিউজ ডেস্ক

October 21, 2026

শেয়ার করুন

  • প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
  • বিভাগ (Category): জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ডেঙ্গু গাইডলাইন
  • প্রকাশের তারিখ: ২১ অক্টোবর, ২০২৬
  • তথ্যসূত্র (Sources): স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ডেঙ্গু গাইডলাইন এবং আইসিডিডিআর,বি (icddr,b)।

বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গু রোগের ঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করে। ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং প্লাটিলেট সংক্রান্ত প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো দূর করে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

১. ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণসমূহ

সংক্রমিত এডিস মশার কামড়ের ৩ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে:

  • হঠাৎ তীব্র জ্বর: শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।
  • তীব্র ‘ব্রেকবোন’ ব্যথা: শরীর, হাড়, অস্থিসন্ধি (Joints) এবং চোখের পেছনে তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়া।
  • অন্যান্য সাধারণ লক্ষণ: তীব্র মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, অবিরাম বমি, চরম দুর্বলতা এবং চামড়ায় লালচে র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া।

২. কখন অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে? (বিপদচিহ্ন)

জ্বর কমে যাওয়ার পর (সাধারণত রোগের ৩ থেকে ৫ দিনের মাথায়) ডেঙ্গুর সবচেয়ে সংকটময় বা ক্রিটিক্যাল ফেজ (Critical Phase) শুরু হয়। নিচে বর্ণিত লক্ষণগুলোর একটিও দেখা দিলে রোগীকে দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে:

[অবিরাম পেট ব্যথা বা ঘন ঘন বমি] ➔ [মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত] ➔ [প্রস্রাব বন্ধ হওয়া বা হাত-পা ঠান্ডা হওয়া] ➔ [অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি]
  1. তীব্র ও অবিরাম পেট ব্যথা: পেটে অসহনীয় অনুভূতি থাকা।
  2. অবিরাম বমি: প্রতি ঘণ্টায় ৩ বারের বেশি বা ঘন ঘন বমি হওয়া।
  3. শরীরে রক্তক্ষরণ: মাড়ি, নাক, বমির সাথে কিংবা মলদ্বারে কালচে রক্ত আসা।
  4. প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া: টানা ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা প্রস্রাব না হওয়া।
  5. অতিরিক্ত ক্লান্তি ও ঠান্ডা অনুভব: হাত-পা ফ্যাকাসে বা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এবং দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস চলা।

৩. প্লাটিলেট (Platelet) নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও চিকিৎসাবিজ্ঞান

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে রক্তে প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যেতে পারে। তবে এটি নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি প্রচলিত রয়েছে:

প্রচলিত ভুল ধারণাবৈজ্ঞানিক সত্য ও চিকিৎসা বিধান
১. প্লাটিলেট কমলেই রোগী মারা যাবে বা রক্ত দিতে হবে।মানুষের শরীরে স্বাভাবিক প্লাটিলেট ১.৫ থেকে ৪.৫ লাখ। এটি ১ লাখের নিচে নামলে নজরদারিতে রাখতে হয়। তবে সক্রিয় রক্তক্ষরণ না থাকলে ২০ হাজার বা ১০ হাজারের নিচে না নামা পর্যন্ত প্লাটিলেট বা ব্লাড ট্রান্সফিউশনের প্রয়োজন নেই।
২. প্লাটিলেট কাউন্টই ডেঙ্গুর একমাত্র সূচক।প্লাটিলেটের চেয়েও মারাত্মক হলো প্লাজমা লিকেজ ও রক্তে হেমাটোক্রিট (HCT) বৃদ্ধি পাওয়া। রক্তের তরল অংশ কমে গেলে প্রেশার কমে রোগী শকে চলে যেতে পারে, যা মৃত্যুর প্রধান কারণ।
৩. জ্বর কমলেই পরীক্ষা লাগবে না, রোগী সুস্থ।এটি সবচেয়ে বড় ভুল। জ্বর ছাড়ার পরই আসল জটিলাবস্থা তৈরি হয়। এই সময়েই প্লাজমা লিকেজ ও প্লাটিলেট দ্রুত কমে। তাই জ্বর কমার পরও কয়েকদিন নিয়মিত CBC রক্ত পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক।
৪. ঘরোয়া জুসে প্লাটিলেট বাড়ে, এটাই মূল চিকিৎসা।পেঁপে পাতার রস বা ফল কিছুটা সহায়ক হলেও মূল চিকিৎসা নয়। ডেঙ্গুর আসল চিকিৎসা হলো সঠিক ওরাল অ্যান্ড আইভি হাইড্রেশন (Hydrated থাকা) বা তরল ভারসাম্য বজায় রাখা।

অত্যন্ত জরুরি সতর্কতা

ব্যথানাশক ওষুধ নিষিদ্ধ: ডেঙ্গু সন্দেহে বা জ্বরের প্রাথমিক অবস্থায় কখনোই এনএসএআইডি (NSAIDs) জাতীয় ওষুধ যেমন—অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক বা নেপ্রোক্সেন খাওয়া যাবে না। এতে শরীরে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। জ্বর ও ব্যথার জন্য শুধুমাত্র প্যারাসিটামল ব্যবহার করা নিরাপদ।

সংক্ষেপিত পর্যালোচনা

ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় আতঙ্কিত না হয়ে উপসর্গ পর্যবেক্ষণ, পর্যাপ্ত ডাবের পানি, খাবার স্যালাইন ও তরল গ্রহণ এবং সচেতনতা বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো বিপদচিহ্ন চিনে হাসপাতালে নেওয়া হলে ডেঙ্গুর যেকোনো জটিলতা থেকে রোগীকে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মধ্যপ্রাচ্যে কাজের ভিসা

নিউজ ডেস্ক

October 20, 2026

শেয়ার করুন

  • প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
  • বিভাগ (Category): বৈদেশিক কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও অর্থনীতি
  • প্রকাশের তারিখ: ২০ অক্টোবর, ২০২৬
  • তথ্যসূত্র (Sources): জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET), প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে (যেমন: সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন) কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং প্রতারকদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) নির্ধারিত বৈধ প্রক্রিয়া, প্রতারণা চেনার উপায় এবং সরকারি খরচের নির্দেশিকা নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।

মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার বৈধ প্রক্রিয়া (Step-by-Step)

একটি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের জন্য আপনাকে অবশ্যই নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:

  • পাসপোর্ট তৈরি: সর্বনিম্ন ১ বছর মেয়াদসম্পন্ন একটি আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট তৈরি করুন।
  • বিএমইটি (BMET) রেজিস্ট্রেশন: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপের মাধ্যমে বা নিকটস্থ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে (DEMO) গিয়ে BMET রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন। এর মাধ্যমে আপনি একটি ইউনিক বায়োমেট্রিক আইডি পাবেন।
  • বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন: শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির (RL) মাধ্যমে ভিসার প্রক্রিয়া করুন। বৈধ এজেন্সির তালিকা BMET-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।
  • ভিসা যাচাইকরণ (Visa Verification): এজেন্সি আপনাকে ভিসার কপি দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস (Embassy) বা বিএমইটি-এর মাধ্যমে ভিসার সত্যতা শতভাগ যাচাই করে নিন।
  • মেডিকেল টেস্ট: সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার (যেমন: GAMCA বা GCC অনুমোদিত কেন্দ্র) থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং ‘Fit’ সার্টিফিকেট নিন।
  • প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন (PDO) ট্রেনিং: বিএমইটি-এর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (TTC) ৩ দিনের বাধ্যতামূলক পিডিও ট্রেনিংয়ে অংশ নিন। এখানে মধ্যপ্রাচ্যের নিয়মকানুন ও ভাষা শেখানো হয়।
  • স্মার্ট কার্ড বা ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স: সব প্রক্রিয়া শেষ হলে বিএমইটি থেকে বাধ্যতামূলক Emigration Clearance (স্মার্ট কার্ড) সংগ্রহ করুন। এটি ছাড়া বিমানবোর্ড করা বা ইমিগ্রেশন পার হওয়া অসম্ভব।

ভিসা প্রতারণা চেনার উপায়

দালাল বা ভুয়ো এজেন্সিগুলো সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। নিচের লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হোন:

  • অস্বাভাবিক কম সময়ে ভিসা: “১ সপ্তাহে বা ৩ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের নিশ্চিত ভিসা” — এমন লোভনীয় ও অসম্ভব প্রতিশ্রুতি দিলে বুঝবেন এটি প্রতারণা।
  • ভিসার ক্যাটাগরি গোপন করা: ফ্রি ভিসা (Free Visa) বা সাপ্লাই ভিসা (Supply Visa)-র কথা বললে সতর্ক হোন। মনে রাখবেন, মধ্যপ্রাচ্যে আইনিভাবে ‘ফ্রি ভিসা’ বলতে কিছু নেই। সবসময় সুনির্দিষ্ট কোম্পানি এবং পদের (যেমন: ড্রাইভার, ইলেকট্রিশিয়ান, কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার) ভিসা দেখে নেবেন।
  • অফিশিয়াল রসিদ না দেওয়া: টাকা লেনদেনের সময় যদি এজেন্সি কোনো অফিশিয়াল প্যাডে লিখিত রসিদ (Receipt) দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে সেখানে টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • চুক্তিপত্র ছাড়া টাকা দাবি: কোনো কাজের অফার লেটার (Offer Letter) বা কর্মসংস্থান চুক্তিপত্র (Employment Contract) দেখানোর আগেই বড় অঙ্কের অগ্রিম টাকা দাবি করা প্রতারণার প্রধান লক্ষণ।
  • ভিসা কপিতে ভুল বা অসংগতি: ভিসার কপিতে স্পনসর বা কোম্পানির নাম, আরবী লেখার ভুল বা দূতাবাসের সিল জেনুইন কি না তা যাচাই না করে বিশ্বাস করবেন না।

সরকারি খরচ ও আর্থিক সহায়তার নির্দেশিকা

সরকার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জন্য অভিবাসন ব্যয় (Migration Cost) নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে দেশ ও কাজের ক্যাটাগরি ভেদে এজেন্সির সার্ভিস চার্জসহ খরচে কিছুটা তারতম্য হয়।

বাধ্যতামূলক সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক ফি (আনুমানিক):

  • BMET রেজিস্ট্রেশন ফি: ৩০০-৪০০ টাকা।
  • PDO ট্রেনিং ফি: ৪০০-৫০০ টাকা।
  • স্মার্ট কার্ড/ইমিগ্রেশন ফি: ৩,৫০০-৩,৮৫ টাকা।
  • প্রবাসী কল্যাণ তহবিল ফি: ৩,৫০০ টাকা (স্মার্ট কার্ডের সাথেই অন্তর্ভুক্ত থাকে)।
  • মেডিকেল ফি: দেশভেদে ৮,৫০০ থেকে ১০,৫০০ টাকা।
  • ইনস্যুরেন্স (বাধ্যতামূলক প্রিমিয়াম): ১,০০০ টাকা।

আর্থিক সহায়তা ও ঋণ সুবিধা:
আপনার যদি বিদেশে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত টাকা না থাকে, তবে সরকার অনুমোদিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (PKB) থেকে খুব স্বল্প সুদে এবং সহজ শর্তে “বৈদেশিক কর্মসংস্থান ঋণ” নিতে পারেন। এর জন্য আপনার বৈধ ভিসা, স্মার্ট কার্ডের অনুমোদন এবং কাজের চুক্তিপত্র প্রদর্শন করতে হবে।

২০২৭ এ ইটালি যাবার প্রসেস কি কি তা নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল

ইতালির ২০২৬-২০২৮ সালের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ (Decreto Flussi) বা স্পন্সর আইনের অধীনে ২০২৭ সালের কোটায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশী কর্মী নিয়োগের অফিশিয়াল সময়সূচি ও নিয়ম ঘোষণা করা হয়েছে। এই তিন বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশিরাও ইতালিতে বৈধভাবে কাজের ভিসায় যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

বর্তমানে ২০২৭ সালের কোটার জন্য প্রাক-আবেদন বা প্রি-কম্পাইলেশন (Pre-compilation) প্রক্রিয়া শুরুর একদম দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। নিচে ইতালি যাওয়ার অফিশিয়াল সর্বশেষ নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

২০২৭ সালের আবেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি (Timeline)

ইতালির স্পন্সর বা কাজের ভিসার পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইন পোর্টালে ইতালিতে অবস্থানরত মালিক বা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়।

  • প্রাক-আবেদন বা প্রি-কম্পাইলেশন (Pre-compilation): ২৩ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘Ali Portal’-এ মালিকরা কর্মীদের তথ্য আগে থেকে পূরণ করে ড্রাফট আকারে সাজিয়ে রাখতে পারবেন।
  • ক্লিক ডে (Click Days) ২০২৭: আগে আসলে আগে পাবেন (First-come, first-served) ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফরম সাবমিট করার নির্দিষ্ট দিনগুলোকে ক্লিক ডে বলে। ২০২৭ সালের অফিশিয়াল ক্লিক ডে-সমূহ:
    • ১২ জানুয়ারি ২০২৭: কৃষি বা এগ্রিকালচারাল সিজনাল (Seasonal) কাজের আবেদন।
    • ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: পর্যটন বা ট্যুরিজম খাতের সিজনাল কাজের আবেদন।
    • ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: অমৌসুমি বা নন-সিজনাল (Non-seasonal) দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন টেকনিক্যাল কাজের আবেদন।
    • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: ডোমেস্টিক বা ফ্যামিলি কেয়ার (কেয়ারগিভার ও গৃহকর্মী) কাজের আবেদন।

প্রধান কাজের খাত ও ভিসা ক্যাটাগরি

২০২৭ সালের মোট কোটাকে প্রধানত তিনটি ধারায় ভাগ করা হয়েছে:

  • নন-সিজনাল বা দীর্ঘমেয়াদী কাজ (৭৬,২০০টি কোটা): এর মধ্যে লজিস্টিকস, পণ্য পরিবহন (ড্রাইভিং), কনস্ট্রাকশন বা নির্মাণ খাত, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ১৪,০০০টি কোটা কেয়ারগিভার ও ফ্যামিলি কেয়ার খাতের জন্য সংরক্ষিত।
  • সিজনাল বা মৌসুমি কাজ (৮৯,০০০টি কোটা): কৃষি এবং নির্দিষ্ট কিছু পর্যটন খাতের জন্য সাধারণত এই ভিসা সর্বোচ্চ ৯ মাসের হয়ে থাকে। পরবর্তীতে এটি দীর্ঘমেয়াদী ভিসায় রূপান্তর করার সুযোগ থাকে।

৩. বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার অফিশিয়াল আইনি ধাপসমূহ

  • ধাপ ১ (মালিকের আবেদন): ইতালির মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পোর্টালে আপলোড করে নির্দিষ্ট ক্লিক ডে-তে সফলভাবে সাবমিট করবেন। [
  • ধাপ ২ (নুলা ওস্তা বা ওয়ার্ক পারমিট): তথ্য যাচাইয়ের পর ইতালির ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে কর্মীর নামে একটি ই-ওয়ার্ক পারমিট বা ‘Nulla Osta’ (নুলা ওস্তা) ইস্যু করা হবে।
  • ধাপ ৩ (ভিসা আবেদন): মালিকের পাঠানো জেনুইন নুলা ওস্তা হাতে পাওয়ার পর, বাংলাদেশে ইতালির অফিশিয়াল আউটসোর্সিং পার্টনার VFS Global Portal এর মাধ্যমে পাসপোর্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিসহ সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করে ভিসা আবেদন জমা দিতে হবে।
  • ধাপ ৪ (প্রশিক্ষণ উদ্যোগ): বাংলাদেশ সরকারের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশেই ইতালীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও কারিগরি দক্ষতার ওপর বিশেষ সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে, যা দক্ষ কর্মীদের সহজে বৈধ উপায়ে ভিসা পেতে বড় ভূমিকা রাখবে।

৪. ভিসা প্রতারণা থেকে বাঁচার বিশেষ সতর্কবার্তা

ইতালি যাওয়ার নামে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দালাল চক্রের প্রতারণা লক্ষ্য করা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে বহু মানুষ অবৈধ পথে লাটভিয়া বা অন্যান্য দেশের জঙ্গল ও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে করুণ মৃত্যুর শিকার হয়েছেন।

  • ভুয়া কোটার গুজব: বাজারে “ইতালি মাত্র ১% বাংলাদেশি নেবে, আজই টাকা দিন” — এমন যেকোনো গুজবে কান দেবেন না। ২০২৭ কোটায় বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো বৈষম্যমূলক ১% লিমিট অফিশিয়ালি দেওয়া হয়নি।
  • অগ্রিম টাকা লেনদেন বন্ধ রাখুন: কোনো দালাল বা সংস্থাকে নুলা ওস্তা (Nulla Osta) ছাড়া এবং নুলা ওস্তাটি ইতালির অফিশিয়াল পোর্টাল বা দূতাবাসের মাধ্যমে শতভাগ যাচাই না করে কোনো প্রকার অগ্রিম অর্থ বা পাসপোর্ট জমা দেবেন না।

সংক্ষেপিত পর্যালোচনা

নিরাপদ ও সুসংগঠিত অভিবাসন দেশের অর্থনীতির ভিত্তি। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার এই সময়ে না বুঝে অবৈধ পথে বা ভুয়া ভিসায় গিয়ে বিপদে পড়ার চেয়ে বিএমইটির সরকারি নির্দেশিকা মেনে প্রশিক্ষণ নিয়ে ও বৈধ কাগজপত্র যাচাই করে বিদেশে যাওয়া আবশ্যক।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ