অর্থনীতি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
অবকাশ শেষে হাইকোর্টে ৪৯টি বেঞ্চ গঠন, বিচারকাজ শুরু ২২ জুন
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন:
বিচার বিভাগীয় অবকাশ শেষে আবারও শুরু হচ্ছে হাইকোর্ট বিভাগের নিয়মিত বিচার কার্যক্রম।
এই উপলক্ষে মোট ৪৯টি বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। আগামী রোববার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এসব বেঞ্চে নিয়মিত বিচার কাজ শুরু হবে।
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আদেশ
মঙ্গলবার (১৭ জুন) প্রধান বিচারপতির এই আদেশ সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
নোটিশ অনুযায়ী:
- গঠিত ৪৯টি বেঞ্চের মধ্যে রয়েছে
- ২৮টি দ্বৈত বেঞ্চ (ডিভিশন বেঞ্চ)
- ২১টি একক বেঞ্চ (সিঙ্গেল বেঞ্চ)
প্রত্যেকটি বেঞ্চের বিচারকদের নাম ও বিচারিক এখতিয়ার (Jurisdiction)-ও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বেঞ্চ পুনর্গঠন?
অবকাশকালীন ছুটির পরে বেঞ্চ পুনর্গঠন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিতের জন্য একটি নিয়মিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।
এটি শুধু বিচারপ্রার্থীদের জন্য স্বস্তির বিষয় নয়, বরং জামিন, রিট, ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তির গতি ফিরিয়ে আনতেও সহায়ক ভূমিকা রাখে।
বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের প্রস্তুতির আহ্বান
আইনজীবী মহল মনে করছেন, বেঞ্চ পুনর্গঠনের মাধ্যমে মামলার শুনানি আবারও পুরোদমে শুরু হলে আটকে থাকা বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিষ্পত্তি পাবে।
তবে সবার কাছেই আহ্বান রইল, নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আবেদনপত্র, দলিলপত্র ও প্রস্তুত মামলা তালিকা প্রস্তুত রাখতে।
উপসংহার: নিয়মিত বিচার কার্যক্রমে ফিরে আসছে হাইকোর্ট বিভাগ
এই বেঞ্চ গঠন প্রক্রিয়া বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা পুনরায় গতিশীল করার একটি বড় পদক্ষেপ, যা বিচারপ্রার্থী জনগণের জন্য আশার বার্তা।
প্রধান বিচারপতির এ উদ্যোগ বিচার বিভাগের কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা ও দৃষ্টান্তমূলক গতি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পাল্স বাংলাদেশ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
- প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
- বিভাগ (Category): বৈদেশিক কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও অর্থনীতি
- প্রকাশের তারিখ: ২০ অক্টোবর, ২০২৬
- তথ্যসূত্র (Sources): জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET), প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে (যেমন: সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন) কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং প্রতারকদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) নির্ধারিত বৈধ প্রক্রিয়া, প্রতারণা চেনার উপায় এবং সরকারি খরচের নির্দেশিকা নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।

মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার বৈধ প্রক্রিয়া (Step-by-Step)
একটি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের জন্য আপনাকে অবশ্যই নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:
- পাসপোর্ট তৈরি: সর্বনিম্ন ১ বছর মেয়াদসম্পন্ন একটি আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট তৈরি করুন।
- বিএমইটি (BMET) রেজিস্ট্রেশন: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপের মাধ্যমে বা নিকটস্থ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে (DEMO) গিয়ে BMET রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন। এর মাধ্যমে আপনি একটি ইউনিক বায়োমেট্রিক আইডি পাবেন।
- বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন: শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির (RL) মাধ্যমে ভিসার প্রক্রিয়া করুন। বৈধ এজেন্সির তালিকা BMET-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।
- ভিসা যাচাইকরণ (Visa Verification): এজেন্সি আপনাকে ভিসার কপি দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস (Embassy) বা বিএমইটি-এর মাধ্যমে ভিসার সত্যতা শতভাগ যাচাই করে নিন।
- মেডিকেল টেস্ট: সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার (যেমন: GAMCA বা GCC অনুমোদিত কেন্দ্র) থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং ‘Fit’ সার্টিফিকেট নিন।
- প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন (PDO) ট্রেনিং: বিএমইটি-এর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (TTC) ৩ দিনের বাধ্যতামূলক পিডিও ট্রেনিংয়ে অংশ নিন। এখানে মধ্যপ্রাচ্যের নিয়মকানুন ও ভাষা শেখানো হয়।
- স্মার্ট কার্ড বা ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স: সব প্রক্রিয়া শেষ হলে বিএমইটি থেকে বাধ্যতামূলক Emigration Clearance (স্মার্ট কার্ড) সংগ্রহ করুন। এটি ছাড়া বিমানবোর্ড করা বা ইমিগ্রেশন পার হওয়া অসম্ভব।
ভিসা প্রতারণা চেনার উপায়
দালাল বা ভুয়ো এজেন্সিগুলো সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। নিচের লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হোন:

- অস্বাভাবিক কম সময়ে ভিসা: “১ সপ্তাহে বা ৩ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের নিশ্চিত ভিসা” — এমন লোভনীয় ও অসম্ভব প্রতিশ্রুতি দিলে বুঝবেন এটি প্রতারণা।
- ভিসার ক্যাটাগরি গোপন করা: ফ্রি ভিসা (Free Visa) বা সাপ্লাই ভিসা (Supply Visa)-র কথা বললে সতর্ক হোন। মনে রাখবেন, মধ্যপ্রাচ্যে আইনিভাবে ‘ফ্রি ভিসা’ বলতে কিছু নেই। সবসময় সুনির্দিষ্ট কোম্পানি এবং পদের (যেমন: ড্রাইভার, ইলেকট্রিশিয়ান, কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার) ভিসা দেখে নেবেন।
- অফিশিয়াল রসিদ না দেওয়া: টাকা লেনদেনের সময় যদি এজেন্সি কোনো অফিশিয়াল প্যাডে লিখিত রসিদ (Receipt) দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে সেখানে টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- চুক্তিপত্র ছাড়া টাকা দাবি: কোনো কাজের অফার লেটার (Offer Letter) বা কর্মসংস্থান চুক্তিপত্র (Employment Contract) দেখানোর আগেই বড় অঙ্কের অগ্রিম টাকা দাবি করা প্রতারণার প্রধান লক্ষণ।
- ভিসা কপিতে ভুল বা অসংগতি: ভিসার কপিতে স্পনসর বা কোম্পানির নাম, আরবী লেখার ভুল বা দূতাবাসের সিল জেনুইন কি না তা যাচাই না করে বিশ্বাস করবেন না।
সরকারি খরচ ও আর্থিক সহায়তার নির্দেশিকা
সরকার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জন্য অভিবাসন ব্যয় (Migration Cost) নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে দেশ ও কাজের ক্যাটাগরি ভেদে এজেন্সির সার্ভিস চার্জসহ খরচে কিছুটা তারতম্য হয়।
বাধ্যতামূলক সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক ফি (আনুমানিক):
- BMET রেজিস্ট্রেশন ফি: ৩০০-৪০০ টাকা।
- PDO ট্রেনিং ফি: ৪০০-৫০০ টাকা।
- স্মার্ট কার্ড/ইমিগ্রেশন ফি: ৩,৫০০-৩,৮৫ টাকা।
- প্রবাসী কল্যাণ তহবিল ফি: ৩,৫০০ টাকা (স্মার্ট কার্ডের সাথেই অন্তর্ভুক্ত থাকে)।
- মেডিকেল ফি: দেশভেদে ৮,৫০০ থেকে ১০,৫০০ টাকা।
- ইনস্যুরেন্স (বাধ্যতামূলক প্রিমিয়াম): ১,০০০ টাকা।
আর্থিক সহায়তা ও ঋণ সুবিধা:
আপনার যদি বিদেশে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত টাকা না থাকে, তবে সরকার অনুমোদিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (PKB) থেকে খুব স্বল্প সুদে এবং সহজ শর্তে “বৈদেশিক কর্মসংস্থান ঋণ” নিতে পারেন। এর জন্য আপনার বৈধ ভিসা, স্মার্ট কার্ডের অনুমোদন এবং কাজের চুক্তিপত্র প্রদর্শন করতে হবে।
২০২৭ এ ইটালি যাবার প্রসেস কি কি তা নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল
ইতালির ২০২৬-২০২৮ সালের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ (Decreto Flussi) বা স্পন্সর আইনের অধীনে ২০২৭ সালের কোটায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশী কর্মী নিয়োগের অফিশিয়াল সময়সূচি ও নিয়ম ঘোষণা করা হয়েছে। এই তিন বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশিরাও ইতালিতে বৈধভাবে কাজের ভিসায় যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
বর্তমানে ২০২৭ সালের কোটার জন্য প্রাক-আবেদন বা প্রি-কম্পাইলেশন (Pre-compilation) প্রক্রিয়া শুরুর একদম দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। নিচে ইতালি যাওয়ার অফিশিয়াল সর্বশেষ নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
২০২৭ সালের আবেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি (Timeline)
ইতালির স্পন্সর বা কাজের ভিসার পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইন পোর্টালে ইতালিতে অবস্থানরত মালিক বা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়।
- প্রাক-আবেদন বা প্রি-কম্পাইলেশন (Pre-compilation): ২৩ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘Ali Portal’-এ মালিকরা কর্মীদের তথ্য আগে থেকে পূরণ করে ড্রাফট আকারে সাজিয়ে রাখতে পারবেন।
- ক্লিক ডে (Click Days) ২০২৭: আগে আসলে আগে পাবেন (First-come, first-served) ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফরম সাবমিট করার নির্দিষ্ট দিনগুলোকে ক্লিক ডে বলে। ২০২৭ সালের অফিশিয়াল ক্লিক ডে-সমূহ:
- ১২ জানুয়ারি ২০২৭: কৃষি বা এগ্রিকালচারাল সিজনাল (Seasonal) কাজের আবেদন।
- ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: পর্যটন বা ট্যুরিজম খাতের সিজনাল কাজের আবেদন।
- ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: অমৌসুমি বা নন-সিজনাল (Non-seasonal) দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন টেকনিক্যাল কাজের আবেদন।
- ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: ডোমেস্টিক বা ফ্যামিলি কেয়ার (কেয়ারগিভার ও গৃহকর্মী) কাজের আবেদন।
প্রধান কাজের খাত ও ভিসা ক্যাটাগরি
২০২৭ সালের মোট কোটাকে প্রধানত তিনটি ধারায় ভাগ করা হয়েছে:
- নন-সিজনাল বা দীর্ঘমেয়াদী কাজ (৭৬,২০০টি কোটা): এর মধ্যে লজিস্টিকস, পণ্য পরিবহন (ড্রাইভিং), কনস্ট্রাকশন বা নির্মাণ খাত, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ১৪,০০০টি কোটা কেয়ারগিভার ও ফ্যামিলি কেয়ার খাতের জন্য সংরক্ষিত।
- সিজনাল বা মৌসুমি কাজ (৮৯,০০০টি কোটা): কৃষি এবং নির্দিষ্ট কিছু পর্যটন খাতের জন্য সাধারণত এই ভিসা সর্বোচ্চ ৯ মাসের হয়ে থাকে। পরবর্তীতে এটি দীর্ঘমেয়াদী ভিসায় রূপান্তর করার সুযোগ থাকে।
৩. বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার অফিশিয়াল আইনি ধাপসমূহ

- ধাপ ১ (মালিকের আবেদন): ইতালির মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পোর্টালে আপলোড করে নির্দিষ্ট ক্লিক ডে-তে সফলভাবে সাবমিট করবেন। [
- ধাপ ২ (নুলা ওস্তা বা ওয়ার্ক পারমিট): তথ্য যাচাইয়ের পর ইতালির ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে কর্মীর নামে একটি ই-ওয়ার্ক পারমিট বা ‘Nulla Osta’ (নুলা ওস্তা) ইস্যু করা হবে।
- ধাপ ৩ (ভিসা আবেদন): মালিকের পাঠানো জেনুইন নুলা ওস্তা হাতে পাওয়ার পর, বাংলাদেশে ইতালির অফিশিয়াল আউটসোর্সিং পার্টনার VFS Global Portal এর মাধ্যমে পাসপোর্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিসহ সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করে ভিসা আবেদন জমা দিতে হবে।
- ধাপ ৪ (প্রশিক্ষণ উদ্যোগ): বাংলাদেশ সরকারের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশেই ইতালীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও কারিগরি দক্ষতার ওপর বিশেষ সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে, যা দক্ষ কর্মীদের সহজে বৈধ উপায়ে ভিসা পেতে বড় ভূমিকা রাখবে।
৪. ভিসা প্রতারণা থেকে বাঁচার বিশেষ সতর্কবার্তা
ইতালি যাওয়ার নামে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দালাল চক্রের প্রতারণা লক্ষ্য করা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে বহু মানুষ অবৈধ পথে লাটভিয়া বা অন্যান্য দেশের জঙ্গল ও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে করুণ মৃত্যুর শিকার হয়েছেন।
- ভুয়া কোটার গুজব: বাজারে “ইতালি মাত্র ১% বাংলাদেশি নেবে, আজই টাকা দিন” — এমন যেকোনো গুজবে কান দেবেন না। ২০২৭ কোটায় বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো বৈষম্যমূলক ১% লিমিট অফিশিয়ালি দেওয়া হয়নি।
- অগ্রিম টাকা লেনদেন বন্ধ রাখুন: কোনো দালাল বা সংস্থাকে নুলা ওস্তা (Nulla Osta) ছাড়া এবং নুলা ওস্তাটি ইতালির অফিশিয়াল পোর্টাল বা দূতাবাসের মাধ্যমে শতভাগ যাচাই না করে কোনো প্রকার অগ্রিম অর্থ বা পাসপোর্ট জমা দেবেন না।
সংক্ষেপিত পর্যালোচনা
নিরাপদ ও সুসংগঠিত অভিবাসন দেশের অর্থনীতির ভিত্তি। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার এই সময়ে না বুঝে অবৈধ পথে বা ভুয়া ভিসায় গিয়ে বিপদে পড়ার চেয়ে বিএমইটির সরকারি নির্দেশিকা মেনে প্রশিক্ষণ নিয়ে ও বৈধ কাগজপত্র যাচাই করে বিদেশে যাওয়া আবশ্যক।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
- প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
- বিভাগ (Category): জাতীয় অর্থনীতি, সরকারি চাকরি বিজ্ঞপ্তি ও পে স্কেল গাইড
- প্রকাশের তারিখ: ২০ অক্টোবর, ২০২৬
- তথ্যসূত্র (Sources): অর্থ বিভাগ (অর্থ মন্ত্রণালয়), হিসাবমহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (CGA) ও আইবাস++ (iBAS++) প্রাতিষ্ঠানিক ডাটাবেজ।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘জাতীয় বেতন কাঠামো-২০২৬’ বা ৯ম জাতীয় বেতন স্কেলের প্রজ্ঞাপন অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা হয়েছে। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শিরোনামে প্রকাশিত এই নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে (retrospectively) কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোতে বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতনের হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে অনলাইন ‘আইবাস++’ (iBAS++) সিস্টেমে বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশন (Pay Fixation)-এর প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
১. মূল বেতন ও গ্রেডভিত্তিক নতুন কাঠামো
নতুন কাঠামোতেও ২০টি গ্রেডই বহাল রয়েছে। তবে জীবনযাত্রার মান ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিম্ন আয়ের ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে ১৪২% বৃদ্ধি করে ২০,০০০ টাকা করা হয়েছে। ১ম গ্রেডের বেতন সর্বোচ্চ ১,৫৬,০০০ টাকায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
| গ্রেড | পূর্বের মূল বেতন (টাকা) | নতুন মূল বেতন ২০২৬ (টাকা) | বৃদ্ধির হার (প্রায়) |
| গ্রেড-১ | ৭৮,০০০ (নির্ধারিত) | ১,৫৬,০০০ (নির্ধারিত) | ১০০% |
| গ্রেড-৫ | ৪৩,০০০ | ৮৬,০০০ | ১০০% |
| গ্রেড-৯ | ২২,০০০ | ৪৪,০০০ | ১০০% |
| গ্রেড-১০ | ১৬,০০০ | ২৫,০০০ | ৫৬.২৫% |
| গ্রেড-১৫ | ৯,৭০০ | ২২,৮০০ | ১৩৫% |
| গ্রেড-২০ | ৮,২৫০ | ২০,০০০ | ১৪২% |
২. বেতন বাস্তবায়নের ৩টি পর্যায় (Phases of Implementation)

অর্থনৈতিক প্রাক্কলন ও বাজেট ব্যবস্থাপনা অক্ষুণ্ন রাখতে নতুন বর্ধিত মূল বেতন ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে মোট ৩টি ধাপে প্রদান করা হবে:
[১ম ধাপ: ১ জুলাই '২৬ - ৩১ ডিসেম্বর '২৬] ➔ [২য় ধাপ: ১ জানুয়ারি '২৭ - ৩০ জুন '২৭] ➔ [৩য় ধাপ: ১ জুলাই '২৭ থেকে ১০০% বাস্তবায়ন]
- ১ম পর্যায় (১ জুলাই ২০২৬ – ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬): ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের জন্য নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০% এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য পার্থক্যের ৫০% যোগ হবে।
- ২য় পর্যায় (১ জানুয়ারি ২০২৭ – ৩০ জুন ২০২৭): ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পার্থক্যের ৭০% এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পার্থক্যের ৭৫% বর্ধিত বেতন পাবেন।
- ৩য় পর্যায় (১ জুলাই ২০২৭ থেকে): সকল গ্রেডের কর্মচারী ১০০% বা সম্পূর্ণ নতুন মূল বেতন পাবেন।
- ভাতা কার্যকরের সময়সীমা: নতুন হারে শতাংশভিত্তিক অন্যান্য ভাতাসমূহ (বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ইত্যাদি) ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে। এর পূর্ব পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনের ভিত্তিতেই ভাতা সুবিধা অব্যাহত থাকবে।
৩. আবাসন (বাড়ি ভাড়া) ও চিকিৎসা ভাতার হার (১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর)

ক) চিকিৎসা ভাতা (Medical Allowance)
- সাধারণ কর্মচারী: মাসিক ৩,০০০ টাকা।
- ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ/পেনশনভোগী: মাসিক ৬,০০০ টাকা।
খ) এলাকাভিত্তিক বাড়ি ভাড়া ভাতা (House Rent Allowance)
| গ্রেড বিন্যাস | ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন | অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও জেলা সদর | উপজেলা ও অন্যান্য এলাকা |
| গ্রেড ২০ থেকে ১৬ | মূল বেতনের ৬০% | মূল বেতনের ৫০% | মূল বেতনের ৪৫% |
| গ্রেড ১৫ থেকে ১০ | মূল বেতনের ৫০% | মূল বেতনের ৪০% | মূল বেতনের ৩৫% |
| গ্রেড ৯ থেকে ৫ | মূল বেতনের ৪৫% | মূল বেতনের ৩৫% | মূল বেতনের ৩০% |
| গ্রেড ৪ থেকে ১ | মূল বেতনের ৪০% | মূল বেতনের ৩০% | মূল বেতনের ২৫% |
৪. পেনশন ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা
- নিট পেনশন বৃদ্ধি: অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য নিট পেনশন ৫৫% থেকে ১০০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাসিক নিট পেনশন ৯,০০০ টাকা বা তার কম হলে ১০০% এবং ধাপে ধাপে তদূর্ধ্বদের জন্য সর্বনিম্ন ৫৫% বৃদ্ধি নিশ্চিত করা হয়েছে।
- এক গ্রেড, এক পেনশন: সামরিক ও বেসামরিক উভয় খাতের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘এক গ্রেড, এক পেনশন’ নীতি ২০৩০ সালের মধ্যে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
- বিশেষ চাহিদাভিত্তিক সন্তান ভাতা: প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে এমন কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা বিশেষ ভাতা বরাদ্দ করা হয়েছে।
৫. আইবাস++ (iBAS++) পোর্টালে অনলাইন পে ফিক্সেশন নির্দেশিকা
আইবাস++ (iBAS++) পোর্টালে অনলাইন পে ফিক্সেশন (Pay Fixation) বা নতুন বেতন নির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিস্তারিত নির্দেশিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. পে ফিক্সেশনের প্রাক-প্রস্তুতি
অনলাইনে বসার আগে নিচের তথ্য ও কাগজপত্র সাথে রাখুন:
- ১৭ ডিজিটের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর (১৩ ডিজিটের এনআইডি হলে শুরুতে জন্মসাল যোগ করতে হবে)।
- আইবাস++ সিস্টেমে নিবন্ধিত এবং সচল মোবাইল নম্বর (যাতে ওটিপি যাবে)।
- সর্বশেষ বা পূর্ববর্তী বছরের পে ফিক্সেশনের ট্র্যাকিং নম্বর।
- বর্তমান পদের যোগদানের তারিখ এবং ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সর্বশেষ মূল বেতনের (Basic Pay) তথ্য।
২. ধাপে ধাপে অনলাইন পে ফিক্সেশন প্রক্রিয়া
ধাপ ১: পোর্টালে প্রবেশ
যেকোনো নিরাপদ ইন্টারনেট ব্রাউজার থেকে আইবাস++ এর অফিশিয়াল পে ফিক্সেশন লিংকে প্রবেশ করুন: ibas.finance.gov.bd/fixation
ধাপ ২: নির্দেশনা ও সম্মতি প্রদান
পোর্টালে প্রবেশের পর স্ক্রিনে অনলাইন বেতন নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনাবলি দেখতে পাবেন। এটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিচে থাকা “আমি পড়েছি এবং সম্মত হলাম” (I have read and agreed) বক্সে টিক চিহ্ন দিয়ে “পরবর্তী” (Next) বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: ধরন নির্বাচন
নতুন বেতন স্কেলের ফিক্সেশনের জন্য অপশনগুলো থেকে “নতুন নিয়োগ/বেতন স্কেল” (New Appointment / Pay Scale) অথবা “বেতন নির্ধারণ” (Pay Fixation) অপশনটি নির্বাচন করুন।
ধাপ ৪: লগইন ও পরিচয় যাচাই
- আপনার ১৭ ডিজিটের NID নম্বর এবং পূর্বের পে ফিক্সেশন ট্র্যাকিং নম্বরটি নির্দিষ্ট বক্সে লিখুন।
- স্ক্রিনে প্রদর্শিত ক্যাপচা (Captcha) কোডটি সঠিকভাবে এন্ট্রি করে “Log In” বা “Verify” বাটনে ক্লিক করুন।
- আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে ৪ বা ৬ ডিজিটের একটি ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) যাবে। ওটিপি-টি নির্দিষ্ট বক্সে বসিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।
ধাপ ৫: তথ্য যাচাই ও নতুন স্কেল নির্ধারণ
- লগইন সম্পন্ন হলে আপনার নাম, পদবি, বর্তমান অফিস এবং পূর্বের মূল বেতনের বিবরণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিনে চলে আসবে।
- তথ্য সঠিক থাকলে স্ক্রিনের ড্রপডাউন মেনু থেকে নতুন বেতন কাঠামো (জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬) নির্বাচন করুন এবং কার্যকরের তারিখ হিসেবে “০১/০৭/২০২৬” সিলেক্ট করুন।
- সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন কাঠামো এবং চলতি ধাপ (Phase) অনুযায়ী আপনার জন্য নির্ধারিত নতুন প্রারম্ভিক মূল বেতন (Basic Pay) হিসাব করে প্রদর্শন করবে।
ধাপ ৬: চূড়ান্ত দাখিল ও প্রিন্ট
- স্ক্রিনে প্রদর্শিত হিসাবকৃত নতুন মূল বেতন এবং ভাতার বিবরণ পুনরায় ভালো করে পরীক্ষা করে নিন।
- সবকিছু ঠিক থাকলে “Save” বা “Submit” বাটনে ক্লিক করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করুন।
- ফিক্সেশন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর স্ক্রিনে একটি ট্র্যাকিং নম্বরসহ চূড়ান্ত পে ফিক্সেশন ফরম দৃশ্যমান হবে। ভবিষ্যত রেফারেন্সের জন্য এই পে ফিক্সেশন কপিটি অবশ্যই ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখুন।
৩. জরুরি নির্দেশনাবলি ও করণীয়
- তথ্য অসংগতি দেখা দিলে: স্ক্রিনে প্রদর্শিত আপনার নাম, পদবি বা পূর্বের মূল বেতনের তথ্যে কোনো ভুল বা অমিল থাকলে নিজে জোরপূর্বক সাবমিট করবেন না। অবিলম্বে আপনার দপ্তরের সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বা ডিডিও (Drawing and Disbursing Officer) এর সাথে যোগাযোগ করে ডাটাবেজ সংশোধন করিয়ে নিন।
- মোবাইল নম্বর পরিবর্তন: যদি আপনার পূর্বের মোবাইল নম্বরটি বর্তমানে সচল না থাকে, তবে আইবাস++ এ লগইন করার আগে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে (DAO/UAO) গিয়ে মোবাইল নম্বরটি পরিবর্তন বা রিসেট করে নিতে হবে।
- ধাপভিত্তিক হিসাব: নতুন বেতন কাঠামোটি ধাপে ধাপে কার্যকর হচ্ছে বিধায় ফিক্সেশন কপিতে চলতি অর্থবছরের ১ম ধাপের জন্য যে পরিমাণ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে, তা-ই আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) এর মাধ্যমে জমা হবে।
সংক্ষেপিত পর্যালোচনা
৯ম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ প্রবর্তনের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের চাহিদার প্রতিফলন ঘটেছে। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশের সার্বিক বাজেট ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে, তেমনি উচ্চমূল্যস্ফীতির বাজারে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান রক্ষা সহজতর হবে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
- প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
- বিভাগ (Category): বিশ্ব ইতিহাস, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার বিবর্তন
- প্রকাশের তারিখ: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
- তথ্যসূত্র (Sources): World Association of Newspapers and News Publishers (WAN-IFRA), The Oxford History of World Press, এবং প্রেস একাডেমি আর্কাইভস।
সংবাদপত্র বা খবরের কাগজ—একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক সুপার-অ্যাডভান্সড তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও যা মানবজীবনের সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রয়েছে। অবসর সময়ের খবরের ট্রাঙ্ক কিংবা বিনোদনের মাধ্যম থেকে শুরু করে প্রান্তিক বাজারের ফলের ঝুড়ি বা ঝালমুড়ির ঠোঙা—খবরের কাগজের উপযোগিতা বিশ্বজুড়ে অনন্য। প্লাস্টিকের মতো পরিবেশ দূষণ না করে এটি পুরোপুরি ইকো-ফ্রেন্ডলি (Eco-friendly) এবং সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের অন্নসংস্থানের এক বড় সামাজিক চালিকাশক্তি।

চার শতকেরও বেশি সময় পেরিয়ে আসা এই সংবাদপত্রের ইতিহাস এবং বিশ্বের দরবারে এর জনপ্রিয় হয়ে ওঠার যাত্রা অত্যন্ত রোমাঞ্চকর।
১. বিশ্বের প্রথম খবরের কাগজ কখন ও কোথায় ছাপা হয়েছিল?
বিশ্বের প্রথম মুদ্রিত খবরের কাগজ ১৬০৫ সালে জার্মানির স্ট্রাসবুর্গ (Strasbourg) শহরে (যা বর্তমানে ফ্রান্সের অন্তর্ভুক্ত) ছাপা হয়েছিল।

এই সংবাদপত্রটি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
- সংবাদপত্রের নাম: খবরের কাগজটির নাম ছিল Relation aller Fürnemmen und gedenckwürdigen Historien।
- প্রকাশক: এটি প্রকাশ ও সম্পাদনা করেছিলেন যোহান ক্যারোলাস (Johann Carolus) নামে একজন জার্মান মুদ্রাকর।
- ধরণ: এটি একটি সাপ্তাহিক খবরের কাগজ ছিল, যা মূলত ইউরোপের বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা, যুদ্ধ ও সমসাময়িক খবরাখবর প্রকাশ করত।
- স্বীকৃতি: বিশ্ব সংবাদপত্র সমিতি (World Association of Newspapers) এটিকে পৃথিবীর প্রথম প্রকৃত মুদ্রিত খবরের কাগজ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে।
২. সংবাদপত্রের দীর্ঘ ইতিহাস ও বিবর্তনের টাইমলাইন

সংবাদপত্রের ইতিহাস ও বিবর্তন অত্যন্ত দীর্ঘ এবং চিত্তাকর্ষক। খবরের আদান-প্রদান থেকে শুরু করে আজকের ডিজিটাল মিডিয়া পর্যন্ত পৌঁছাতে সংবাদপত্রকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার করতে হয়েছে। নিচে সংবাদপত্রের বিবর্তনের মূল টাইমলাইনটি তুলে ধরা হলো:
১. প্রাক-মুদ্রণ ও প্রাচীন যুগ (খ্রিস্টপূর্ব ৫৯ অব্দ – মধ্যযুগ)
- খ্রিস্টপূর্ব ৫৯ অব্দ (রোমান সাম্রাজ্য): জুলিয়াস সিজারের আমলে রোমে ‘Acta Diurna’ (দৈনিক ঘটনাবলি) নামক একটি সরকারি নোটিশ বোর্ড চালু করা হয়। পাথর বা ধাতব পাতে খোদাই করা এই নোটিশটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঝুলিয়ে দেওয়া হতো, যা সংবাদপত্রের আদি রূপ হিসেবে বিবেচিত।
- ৭১৩ খ্রিস্টাব্দ (চীন): ট্যাং রাজবংশের আমলে চীনে ‘Tipao’ (টিপাও) নামক হাতে লেখা সরকারি গেজেট বা বার্তা চালু হয়, যা মূলত সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হতো।
- ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ (ভেনিস, ইতালি): ভেনিস সরকার ‘Notizie Scritte’ বা ‘Avisi’ নামক হাতে লেখা সংবাদ বুলেটিন প্রকাশ শুরু করে। এটি পড়তে পাঠকদের এক ‘গ্যাজেটা’ (তৎকালীন মুদ্রা) দিতে হতো, যেখান থেকে পরবর্তী সময়ে ‘গেজেট’ শব্দের উৎপত্তি হয়।
২. আধুনিক মুদ্রণ ও সংবাদপত্রের জন্ম (১৫শ – ১৭শ শতক)
- ১৪৪০ খ্রিস্টাব্দ (মুভিং টাইপ আবিষ্কার): জার্মান বিজ্ঞানী যোহান গুটেনবার্গ মুভিং টাইপ প্রিন্টিং প্রেস আবিষ্কার করেন। এই বিপ্লবের ফলেই হাতে লেখা থেকে সংবাদ গণহারে ছাপানোর সুযোগ তৈরি হয়।
- ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ (বিশ্বের প্রথম সংবাদপত্র): জার্মানির স্ট্রাসবুর্গে যোহান ক্যারোলাস বিশ্বের প্রথম মুদ্রিত সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ‘Relation‘ প্রকাশ করেন।
- ১৬২২ খ্রিস্টাব্দ (প্রথম ইংরেজি সাপ্তাহিক): লন্ডনে বই আকারে প্রথম ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘The Weekly News‘ প্রকাশিত হয়。
- ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দ (বিশ্বের প্রথম দৈনিক): জার্মানির লিপজিগ থেকে বিশ্বের প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র ‘Einkommende Zeitungen‘ নিয়মিত প্রকাশিত হতে শুরু করে।
- ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দ (আধুনিক কলামের সূচনা): ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড (পরবর্তীতে লন্ডন) গেজেট দ্বি-কলাম বিশিষ্ট ফরম্যাট এবং স্পষ্ট শিরোনাম ও তারিখ ব্যবহার করে আধুনিক সংবাদপত্রের রূপরেখা তৈরি করে।
- ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দ (আমেরিকার প্রথম সংবাদপত্র): বোস্টন থেকে বেঞ্জামিন হ্যারিস প্রকাশ করেন ‘Publick Occurrences Both Forreign and Domestick‘। তবে লাইসেন্স না থাকায় এক সংখ্যার পরেই ব্রিটিশ সরকার এটি বন্ধ করে দেয়।
৩. উপমহাদেশে সংবাদপত্রের আগমন ও বিকাশ (১৮শ – ১৯শ শতক)
- ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দ (উপমহাদেশের প্রথম পত্রিকা): জেমস অগাস্টাস হিকি কলকাতা থেকে বেঙ্গল গেজেট (Hicky’s Bengal Gazette) নামে ভারতের তথা এই উপমহাদেশের প্রথম ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দ (প্রথম বাংলা সাময়িকী): শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রথম বাংলা মাসিক পত্রিকা ‘দিগদর্শন‘ এবং পরবর্তীতে প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক ‘সমাচার দর্পণ‘ প্রকাশিত হয়।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দ (প্রথম বাংলা দৈনিক): কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় ‘সংবাদ প্রভাকর‘ পত্রিকা সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যা ছিল প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা।
৪. শিল্প বিপ্লব ও গণযোগাযোগের স্বর্ণযুগ (১৯শ – ২০শ শতক)
- ১৮৩০-এর দশক (পেনি প্রেস যুগ): আমেরিকায় কমদামী ও সাধারণ মানুষের উপযোগী ‘Penny Press‘ সংস্কৃতির জন্ম হয়, যা সংবাদপত্রের দাম বহুগুণ কমিয়ে দেয় ও পাঠক সংখ্যা বাড়ায়।
- ১৮৪০-এর দশক (টেলিগ্রাফ ও নিউজ এজেন্সি): টেলিগ্রাফ আবিষ্কারের ফলে দ্রুত দূর-দূরান্তের খবর সংগ্রহ সম্ভব হয় এবং Associated Press (AP) ও Reuters-এর মতো বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থার জন্ম হয়।
- ১৮৯০-এর দশক (ইয়েলো জার্নালিজম): জোসেফ পুলিৎজার ও উইলিয়াম হার্স্টের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে সংবাদপত্রে বড় রঙিন শিরোনাম, কমিকস এবং চাঞ্চল্যকর খবরের ব্যবহার বা ‘ইয়েলো জার্নালিজম‘ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
৫. ডিজিটাল রূপান্তর ও বর্তমান যুগ (২১শ শতক)
- ১৯৮০-১৯৯০ এর দশক (ডিজিটাল বিপ্লব): কম্পিউটারের মাধ্যমে টাইপসেটিং এবং আধুনিক অফসেট মুদ্রণ ব্যবস্থা চালু হয়।
- ২০০০-এর পর (অনলাইন ও মোবাইল সংবাদ): ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসারের ফলে কাগজের পত্রিকার বদলে ই-পেপার এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রধান মাধ্যমে পরিণত হয়। রিয়েল-টাইম খবরের চাহিদার কারণে ছাপা পত্রিকার প্রচার সংখ্যা (Circulation) বিশ্বজুড়ে কমতে শুরু করে এবং সংবাদমাধ্যমগুলো সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা হাইব্রিড মডেলে রূপান্তরিত হতে বাধ্য হয়।
৩. খবরের কাগজ কীভাবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ও সাধারণের নাগালভুক্ত হলো?
সংবাদপত্র বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ও সাধারণ মানুষের নাগালভুক্ত হওয়ার পেছনে মূলত ১৯শ শতকের শিল্প বিপ্লব, মুদ্রণ প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতি এবং বাণিজ্যিক কৌশলের পরিবর্তন সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিল।
১৭শ ও ১৮শ শতকের দিকে সংবাদপত্র ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এটি কেবল সমাজের ধনী ও শিক্ষিত উচ্চবিত্তদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে কয়েকটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠে:
১. 'পেনি প্রেস' (Penny Press) বিপ্লব ও স্বল্প মূল্য
১৮৩০-এর দশকে নিউইয়র্কে 'পেনি প্রেস' সংস্কৃতির সূচনা হয়। এর আগে একটি পত্রিকার দাম ছিল প্রায় ৬ সেন্ট (যা সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে ছিল)। বেনজামিন ডে নামক একজন প্রকাশক ১৮৩৩ সালে মাত্র ১ সেন্ট বা এক পেনি মূল্যে 'দ্য নিউইয়র্ক সান' (The New York Sun) পত্রিকা বিক্রি শুরু করেন। এত কম দামে খবর পাওয়ার কারণে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ হু হু করে পত্রিকা কেনা শুরু করে, যা সংবাদপত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল।
২. স্টিম-চালিত হাই-স্পিড প্রিন্টিং প্রেসের আবিষ্কার
পূর্বে হাতে চালিত কাঠের প্রেসে ঘণ্টায় মাত্র কয়েকশ পাতা ছাপা যেত। ১৮১৪ সালে লন্ডনের দ্য টাইমস পত্রিকা প্রথম স্টিম-চালিত সিলিন্ডার প্রেস ব্যবহার শুরু করে। পরবর্তীতে রিচার্ড হো নামক এক বিজ্ঞানী রোটারি প্রিন্টিং প্রেস (Rotary Press) আবিষ্কার করেন, যা ঘণ্টায় হাজার হাজার কপি পত্রিকা ছাপাতে পারত। উৎপাদন ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় পত্রিকার উৎপাদন খরচ এক ধাক্কায় অনেক কমে যায়।
৩. বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয়ের মডেল
পেনি প্রেসের প্রকাশকরা বুঝতে পেরেছিলেন যে, পত্রিকার দাম কমিয়ে যদি পাঠক সংখ্যা বাড়ানো যায়, তবে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেখানে বিজ্ঞাপন দিতে আগ্রহী হবে। তারা পত্রিকার দামের ওপর নির্ভর না করে বিজ্ঞাপনকে আয়ের প্রধান উৎস বানিয়ে ফেলেন। এই বাণিজ্যিক মডেলের কারণে পত্রিকার দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে রাখা সম্ভব হয়।
৪. লেখার ধরন ও বিষয়ের পরিবর্তন
প্রথমদিকের সংবাদপত্রগুলোতে কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মতো গুরুগম্ভীর বিষয় থাকত। সাধারণ মানুষের নাগালের আসার পর পত্রিকার কনটেন্টেও বদল আসে। এতে স্থানীয় অপরাধ, হিউম্যান-ইন্টারেস্ট স্টোরি, খেলাধুলা, গসিপ ও বিনোদনের মতো বিষয় যুক্ত করা হয়, যা সাধারণ মানুষকে দারুণভাবে আকর্ষণ করে।
৫. শিক্ষার হার বৃদ্ধি ও নগরায়ণ
শিল্প বিপ্লবের ফলে গ্রামীণ মানুষ কাজের সন্ধানে ব্যাপক হারে শহরে আসতে শুরু করে (নগরায়ণ)। একই সাথে বিশ্বজুড়ে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক হওয়া এবং স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধির কারণে এক বিশাল নতুন পাঠক শ্রেণী তৈরি হয়, যারা প্রতিদিনের খবর জানার জন্য ব্যাকুল ছিল।
৬. টেলিগ্রাফ ও রেলওয়ের অবদান
১৮৪০-এর দশকে টেলিগ্রাফ আবিষ্কারের ফলে দেশের এক প্রান্তের খবর কয়েক মিনিটের মধ্যে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যেত। আর রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে রাতের বেলা ছাপা হওয়া পত্রিকা ভোরের মধ্যেই দূর-দূরান্তের গ্রামে ও শহরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হতো। এর ফলে খবরের "তাত্ক্ষণিকতা" (Immediacy) তৈরি হয়, যা সংবাদপত্রকে মানুষের অপরিহার্য অভ্যাসে পরিণত করে।
সংক্ষেপিত পর্যালোচনা
সংবাদপত্র সাধারণ মানুষের নাগালভুক্ত ও জনপ্রিয় হওয়ার মূল কারণগুলোর একটি সংক্ষেপিত পর্যালোচনা (Summary) নিচে দেওয়া হলো:
- দামের পতন (পেনি প্রেস): ১৮৩০-এর দশকে মাত্র ১ সেন্ট বা এক পেনি মূল্যে পত্রিকা বিক্রি শুরু হওয়ায় এটি শ্রমজীবী মানুষের সাধ্যের মধ্যে আসে।
- প্রযুক্তির বিপ্লব: স্টিম-চালিত ও রোটারি প্রিন্টিং প্রেস আবিষ্কারের ফলে কম খরচে ঘণ্টায় হাজার হাজার কপি পত্রিকা ছাপানো সম্ভব হয়।
- বিজ্ঞাপন-নির্ভর মডেল: পত্রিকার দামের ওপর নির্ভর না করে বিজ্ঞাপনকে আয়ের প্রধান উৎস করায় পত্রিকার মূল্য সাধারণের নাগালের মধ্যে রাখা সম্ভব হয়।
- সহজ ও আকর্ষণীয় কনটেন্ট: গুরুগম্ভীর রাজনৈতিক আলোচনার বাইরে স্থানীয় অপরাধ, খেলাধুলা ও বিনোদনের মতো সাধারণ মানুষের রুচির খবর প্রকাশ শুরু হয়।
- দ্রুত বিতরণ ও সংবাদ সংগ্রহ: টেলিগ্রাফের মাধ্যমে দ্রুত খবর সংগ্রহ এবং রেলওয়ের মাধ্যমে তা দ্রুত দূর-দূরান্তে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
- স্বাক্ষরতা ও নগরায়ণ: বিশ্বজুড়ে শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এক বিশাল নতুন পাঠক শ্রেণী তৈরি করে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



