অর্থনীতি

Things to Look For in a Financial Trading Platform Environment

নিউজ ডেস্ক

June 1, 2025

শেয়ার করুন

Find people with high expectations and a low tolerance for excuses. They’ll have higher expectations for you than you have for yourself. Don’t flatter yourself that this has much to do with you – this is just who they are. Don’t look for “nice” in these relationships. Look for trust.
Be fearless in front of them with your ideas as many times as they’ll let you
Beauty Dust is very pretty to look at and it tastes like nothing, which is great. Here is what it’s supposed to do: This ancient empiric formula expands beauty through alchemizing elements legendary for their youth preserving, fortifying and tonifying qualities. Glowing supple skin, lustrous shiny hair and twinkling bright eyes are holistically bestowed from the inside out. I actually first read this as alkalizing meaning effecting pH level, and I was like, OK I guess I understand how that could positively effect your body, but alchemizing means turning elements to gold basically through magic. That lead me to research each ingredient because I know alchemy is not actually happening in my body when I eat this, since alchemy is not real. In addition to loving beauty and taking care of myself, I also love opening people minds to other paths of self-care, and good marketing and I can honestly say that I use and personally love this product but I’m not sure for which reason.
I think it made me think about it more and really consider why I was choosing to add this to my routine
It poses an interesting question for me on the wellness category – will people be willing to buy in, or does eating something change your “sniff” test on the believe-ability of the claims? The color is very long lasting and they have an interesting texture that’s like a powder and a cream but neither really. They’re made with pure pigments and oils and will never melt with the warmth of your skin because they don’t contain any waxes. You can literally use them for anything – obviously as eye shadow and liner, but the light shade is a great highlighter, and the red can be used for lip or blush with a little balm. There’s also a little pouch to store the rollerballs, and a card with different inspirations as to how to blend them on your skin – but it’s foolproof. You can’t make a mess if you mix them all up. Badger Beard Balm is perfect for the bearded gents in your life (is this everyone? beards are so trending). It is filled with good things such as vitamins A, D, E & F to keep his beard healthy, thicker and cleaner, as well as helping to relieve itchiness as it soothes the skin under the hair.
If you’re looking to get rid of this beard, maybe this is not the right angle for your gifting
Further, no one wants to cuddle with a dirty beard – who knows, maybe you already are and are dying for a nice way to help this problem of yours his. Beard Wash made by Beard Buddy. Started in 2011 in California, all Beard Buddy products are hand crafted by beards for beards. Both founders have large beards of their own to tame, and wanted to do this with organic products – kudos, and cuddles, to them.

বিষয়ঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সেক্টরভিত্তিক সংস্কার,

নিউজ ডেস্ক

September 29, 2026

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, মোঃ এমদাদুল হক (ইমন) নওগা

তারিখ ও সময়: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১৬:৪৫

সূত্র: নিজস্ব প্রতিবেদক ও সংস্কার প্রস্তাবনা

ভূমিকা: সময় এসেছে সংস্কারের, সময় এসেছে দেশকে নতুনকরে ঢেলে সাজাবার, সময় এসেছে দেশকে উন্নয়নশীল থেকে উন্নতদেশে রূপদান করার। আর এসবকিছুর মূলে রয়েছে শিক্ষা। তাই দেশকে উন্নয়নশীল থেকে উন্নতদেশে রূপদানের জন্য সময় উপযোগী বা যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। যা আমার সাধারণ ও ক্ষুদ্র জ্ঞানে কিছু সংস্কার চিন্তা-ভাবনা নিম্নে তুলে ধরলাম :

১) মাধ্যমিক শিক্ষা সেক্টরের সংস্কার ভাবনা : উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস নামে একটি অফিস আছে। প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে ৫০ থেকে ১৫০টি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু আছে। উপজেলাগুলোতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নামে ০১(এক)টি পদও আছে। কিন্তু ৮৫% থেকে ৯০% উপজেলাতে কোন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কর্মরত নাই।অবসরগ্রহণের কারণে পদটি শূন্য হয়ে পড়ায় একজন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে ৪-৫টি উপজেলার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। তাই উক্ত পদটি পি.এস.সি-তে শিক্ষা প্রশাসন ক্যাডার নামে একটি নতুন/অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি করা হোক এবং সেখান থেকে বি.সি.এস ক্যাডার (৯ম গ্রেড) থেকে ৫০% নিয়োগ এবং সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদ থেকে ৫০% প্রমোশনের মাধ্যমে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হোক। বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ০৫(পাঁচ) জন করে নিয়োগপ্রাপ্ত আছেন, কিন্তু মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কর্মরত পদ আছে মাত্র ০১(এক) জন। তা ও আবার ৮৫% থেকে ৯০% উপজেলাতে পদশূন্য আছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কর্মরত না থাকায় ০১(এক)জন সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে ৪-৫টি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপালন করতে হয়। যেহেতু উপজেলাতে অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাই সেখানে ২ থেকে ৩ জন সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নিয়োগের বিধান রাখা হোক এবং সেখানে ৫০% বি.সি.এস (নন ক্যাডার ১০ম গ্রেড) নিয়োগ এবং ৫০% প্রমোশনের মাধ্যমে পদোন্নতির বিধান চালু করা হোক। মেধা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিম্নরূপ ভাবে পদোন্নতির ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে:

পদের নাম১ম প্রমোশন২য় প্রমোশনমন্তব্য
সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারউপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহকারী জেলা শিক্ষা অফিসারজেলা শিক্ষা অফিসার

জেলা শিক্ষা অফিসার পদটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তাই ৫০% পদোন্নতির ভিত্তিতে এবং ৫০% সিনিয়র সহকারী সচিব/সমপর্যায়ের পদমর্যাদার প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তা থেকে নিয়োগের বিধান রাখা হোক।

আঞ্চলিক পরিচালক পদটি আরো বেশী গুরুত্বপূর্ণ তাই ৫০% জেলা শিক্ষা অফিসার থেকে প্রমোশনের ভিত্তিতে এবং ৫০% উপ সচিব/সমপর্যায়ের প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তা থেকে নিয়োগের বিধান রাখা হোক।

মহা পরিচালক পদটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, তাই উক্ত পদটি যুগ্ম সচিব/অতিরিক্ত সচিব পর্যায় থেকে নিয়োগের বিধান রাখা হোক।

মন্তব্য : স্কুল/কলেজের কোন শিক্ষককে প্রশাসনে নিয়োগ না দেওয়ার জন্য আইন পাস করা হোক। কারণ একজন শিক্ষক আজীবন ছাত্র, তাঁকে প্রতিদিন নিয়মিত লেখাপড়া করে ক্লাসে গমন করতে হয়। তারা যদি ২-৫ বছর প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে আবার যদি বদলী জনিত কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়, তবে তারা আর আগের মত ক্লাস নিতে পারেন না। তাই শিক্ষককে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই রাখার বিধান বাধ্যতামূলক চালু করা হোক।

২) নির্বাচন সেক্টরের সংস্কার ভাবনা : বাংলাদেশে যারা উপজেলা চেয়ারম্যান অথবা মেম্বার পদপ্রার্থী হবেন, তাদের নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা চেয়ারম্যানদের ক্ষেত্রে ডিগ্রি পাস এবং মেম্বারদের ক্ষেত্রে এইচ.এস.সি পাস আইন পাস করা হোক। কারণ শিক্ষা মানুষের নৈতিক আচরণের বিকাশ সাধন করে। একজন চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে অনেক শিক্ষিত লোকের সাথে কাজ করতে হয়। কিছু কিছু চেয়ারম্যান/মেম্বারদের শিক্ষাগত যোগ্যতা একেবারে না থাকায় তাদের সঙ্গে কাজ করতে ডি.সি. অথবা ইউ.এন.ও সহ অন্যান্য লোকজনদেরকে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়।

মন্তব্য : নির্বাচনে যাতে স্কুল/কলেজ/মাদ্রাসার কোন শিক্ষক/কর্মচারী পদপ্রার্থী না হতে পারে এই আইনটুকু জোরদার করা হোক। আর যদি স্কুল/কলেজ/মাদ্রাসার কোন শিক্ষক/কর্মচারী নির্বাচনে পদপ্রার্থী হতেই চান তবে তাদেরকে অবশ্যই চাকুরী থেকে ইস্তফা দিয়ে নমিনেশন ফরম তুলতে হবে মর্মে আইন পাস করা হোক। কারণ একজন শিক্ষক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালানোর পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/মেম্বারের মত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ভালোভাবে চালানো কখনোই সম্ভব নয়।

৩) সাবরেজিট্রি অফিস সংক্রান্ত সংস্কার ভাবনা : বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সাবরেজিট্রি অফিস চালু আছে। সেখানকার দলিল লেখকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নূন্যতম ডিগ্রি পাস করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক, পাশাপাশি দলিল লেখক লাইসেন্স অর্জনের পর-পরই তাদের জমির দলিল লেখা সংক্রান্ত একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাগ্রহণ করা হোক। এতে করে বাংলাদেশের জমির দলিল তারা একটু হলেও সঠিক না জাল/ভুয়া তা বুঝতে পারবে এবং জমি সংক্রান্ত সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।

মন্তব্য : বাংলাদেশে বর্তমানে যারা দলিল লেখেন তাদের বেশীরভাগই ৫ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পাস। শিক্ষাগত যোগ্যতা কম থাকায় তাদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বেশি। জাল দলিল লেখক ধরা পড়লে সাথে সাথে তার লাইসেন্স বাতিল করার বিধান চালু করা হোক এবং নূন্যতম ২-৫ বছরের জেল-জরিমানার বিধান রাখা হোক। এতে জমির দলিল সংক্রান্ত অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে।

৪) কোর্টে কেস সংক্রান্ত সংস্কার ভাবনা : বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতে একটি করে কোর্ট আছে। সেখানে জমি সংক্রান্ত শত-শত কেস চালু আছে। জমি-জমা সংক্রান্ত একটি কেস ১৫-২০ বছরেও সমাধান হয়না। ৩ থেকে ৬ মাস পর-পর শুধু ডেট পড়ে। একজন মানুষ জমি-জমা সংক্রান্ত মার-পিট খেয়ে অনেক দুঃখ/কষ্টে কোর্টে এসে একটি কেস চালু করে, উক্ত কেসটি চালাতে চালাতে মৃত্যু বরণ করলো কিন্তু তার ফল ভোগ করে যেতে পারলো না।

মন্তব্য : একটি কেস সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ ডেট/সিটিং-এর মধ্যে সমাপ্ত করার বিধান বাধ্যতামূলকভাবে আইন পাস করা হোক। ৩ থেকে ৪ ডেট/সিটিং-এ যে বাদী/বিবাদী সঠিক দলিল/কাগজপত্র দেখাতে সক্ষম হবে তার পক্ষে রায় দেওয়ার বিধান চালু করা হোক এবং পাশাপাশি কারো উক্ত রায় পছন্দ না হলে উচ্চতর আদালতে আপিলের ব্যবস্থার বিধান রাখা হোক।

উপসংহারঃ শিক্ষা মানুষের নৈতিক আচরণের পরিবর্তন ঘটিয়ে সত্য, সুন্দর ও শিষ্টাচার অনুরাগী হয়ে উঠতে সাহায্য করে। তাই সবার আগে শিক্ষাখাতকে সংস্কার করা প্রয়োজন এবং দেশের সকল সেক্টরে উচ্চ শিক্ষিতকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি স্বচ্ছ, দক্ষ, যোগ্য ও নির্ভীক। সাহসিকতার সাথে শক্তহাতে এই সকল সেক্টরের সংস্কারগুলো করতে পারলে বাংলাদেশের পরিবর্তন আনয়ন করা সম্ভব। আমার মতামত হলো দেশের শিক্ষা মন্ত্রী, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, আইন ও বিধি প্রণয়নকারী সংস্থা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উপরোক্ত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান ও সঠিক বাস্তবায়ন একান্ত প্রয়োজন। তাহলে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্ভব। আর তা-না হলে দেশ মুখ থুবড়ে পড়বে।

মোঃ এমদাদুল হক (ইমন)

বিবিএস(সম্মান) হিসাব বিজ্ঞান, এমবিএস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,

বি.এড ও এম.এড, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, রাজশাহী

হিসাবরক্ষক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, পত্নীতলা, নওগাঁ

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র

নিউজ ডেস্ক

September 26, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)

বিভাগ (Category): আন্তর্জাতিক ভূগোল, অর্থনীতি ও বিশ্ব রাজনীতি

প্রকাশের তারিখ: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তথ্যসূত্র (Sources): জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP), বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)।

গণতান্ত্রিক কঙ্গোজাতন্ত্র (কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র – ডিআরসি) নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ক্ষমতার আধারন ভোটের প্রত্যক্ষ প্রত্যক্ষ অস্থিরতা, শোষণ এবং সংঘাতের কারণে দরি একটি দেশ। মধ্যয় আপনার এই দেশটির ইতিহাস যেমন শান্তি ও বেদনাকাতর, সদস্য এর ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত বৈচিত্রময়।

দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস এবং দারিদ্র্যের মূল কারণগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. ভৌগোলিক পরিচয় (Geographical Identity)

  • অবস্থান ও আয়তন: গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র আয়তনের দিক থেকে আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং বিশ্বের একাদশ বৃহত্তম দেশ। এর রাজধানী কিনশাসা (Kinshasa)।
  • কঙ্গো নদী ও অববাহিকা: দেশটির প্রাণপ্রবাহ হলো কঙ্গো নদী (Congo River), যা আমাজন নদীর পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জলপ্রবাহ। এই নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রান্তীয় রেইনফরেস্ট বা কঙ্গো অববাহিকা (Congo Basin)।
  • প্রাকৃতিক সম্পদ: ডিআরসি-কে প্রকৃতির এক অবিশ্বাস্য আশীর্বাদ বলা চলে। এখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোবাল্ট (Cobalt) এবং কপার (তামা) মজুদ রয়েছে। এছাড়া প্রচুর পরিমাণে হীরা, সোনা, ইউরেনিয়াম এবং কোল্টান (Coltan – যা স্মার্টফোন ও ইলেকট্রনিক্স তৈরিতে ব্যবহৃত হয়) পাওয়া যায়।

২. ইতিহাস: ঔপনিবেশিক শোষণ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা

  • বেলজিয়ামের নির্মম শাসন (১৮৮৫–১৯৬০): উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বেলজিয়ামের রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ড (King Leopold II) কঙ্গোকে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন। রাবার এবং হাতির দাঁত সংগ্রহের জন্য স্থানীয় জনগণের ওপর চালানো হয় ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ও অমানবিক নির্যাতন। এতে প্রায় এক কোটি মানুষ প্রাণ হারায়।
  • স্বাধীনতা ও স্বৈরশাসন: ১৯৬০ সালে দেশটি বেলজিয়াম থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু এর পরপরই প্রথম গণতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বা হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এরপর সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন মবুতু সেসে সেকো (Mobutu Sese Seko)। তিনি দেশের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘জাইরে’ (Zaire) এবং দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে একনায়কতন্ত্র ও ব্যাপক দুর্নীতি চালিয়ে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেন।
  • কঙ্গো যুদ্ধ (Congo Wars): ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে মবুতুর পতনের পর দেশটিতে দুটি বড় ধরনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা “আফ্রিকার বিশ্বযুদ্ধ” নামে পরিচিত। এই সংঘাতগুলোতে প্রায় ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়, যার ক্ষত দেশটিকে আজও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

৩. দারিদ্র্যের বাস্তবতা (The Reality of Poverty)

প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও ডিআরসি বিশ্বের অন্যতম দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, দেশটির সিংহভাগ মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এর মূল কারণগুলো হলো:

  • সম্পদের অভিশাপ (Resource Curse): মূল্যবান খনিজ সম্পদগুলো সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে ভূমিকা না রেখে উল্টো সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অর্থায়নের উৎসে পরিণত হয়েছে।
  • সশস্ত্র সংঘাত ও লুণ্ঠন: বিশেষ করে দেশের পূর্বাঞ্চলে (যেমন উত্তর ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশ) এখনো বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী খনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে সহিংসতা ও লুণ্ঠন চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত।
  • দুর্বল অবকাঠামো ও দুর্নীতি: দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থার মতো মৌলিক অবকাঠামো এখানে অত্যন্ত ভঙ্গুর।

সংক্ষেপে, কঙ্গোর ইতিহাস হলো বাহ্যিক শোষণ এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাতের এক করুণ আখ্যান, যেখানে ভৌগোলিক সমৃদ্ধিই যেন দেশটির জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (DRC) বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও নাজুক, যার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে (বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ কিভু) বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নজিরবিহীন সামরিক তৎপরতা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই।

দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

৪. M23 বিদ্রোহ ও সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা

  • ভয়াবহ ভূখণ্ড বিস্তার: দীর্ঘ কয়েক বছর পর পুনরায় সক্রিয় হওয়া মার্চ ২৩ মুভমেন্ট (M23) বা কঙ্গো রিভার অ্যালায়েন্স (AFC) বর্তমানে তাদের শক্তির তুঙ্গে রয়েছে। তারা পূর্ব কঙ্গোর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রাদেশিক রাজধানী—গোমা (Goma) এবং বুকাবু (Bukavu) নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
  • চলমান সম্মুখযুদ্ধ: কঙ্গোর সরকারি বাহিনী (FARDC) এবং তাদের সহযোগী স্থানীয় মিলিশিয়া গোষ্ঠী ‘ওয়াজালেন্দো’ (Wazalendo)-এর সাথে উত্তর ও দক্ষিণ কিভুর বিভিন্ন জেলাতে (যেমন মাসিসি ও রুতশুরু) M23-এর তীব্র লড়াই চলছে। মাঠপর্যায়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকলেও প্রতিনিয়ত একে অপরকে তা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করছে।
  • অভ্যন্তরীণ কোন্দল: সামরিক অগ্রগতির মাঝেও M23-এর অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে মতভেদ ও অভ্যুত্থানের চেষ্টার মতো খবর সামনে এসেছে, যা তাদের নিজস্ব গোয়েন্দা বিভাগ দমন করেছে।

৫. ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: রুয়ান্ডা বনাম কঙ্গো দ্বন্দ

  • প্রক্সি যুদ্ধ (Proxy War): কঙ্গো সরকার, জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর স্পষ্ট অভিযোগ—রুয়ান্ডা সরাসরি M23 গোষ্ঠীকে অর্থ, অস্ত্র এবং সৈন্য দিয়ে সাহায্য করছে। রুয়ান্ডা এই দাবি অস্বীকার করলেও তারা কঙ্গো সরকারের বিরুদ্ধে হুটু চরমপন্থী গোষ্ঠী FDLR-কে মদদ দেওয়ার পাল্টা অভিযোগ তোলে। এই জাতিগত দ্বন্দ্বের শিকড় ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যার সাথে জড়িত।
  • আঞ্চলিক বিভাজন: এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে গ্রেট লেক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে তীব্র মেরুকরণ দেখা দিয়েছে। কঙ্গোর পাশে বুরুন্ডি দাঁড়ালেও রুয়ান্ডা ও উগান্ডার সাথে কঙ্গোর সম্পর্ক চরম উত্তেজনাকর।

৬. শান্তি আলোচনার বর্তমান অবস্থা

  • শান্তি আলোচনার রোডম্যাপ: কাতার, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কঙ্গো সরকার ও M23 নেতৃত্বাধীন জোট একটি শান্তি আলোচনার রোডম্যাপে (Peace Roadmap) সম্মত হয়েছে।
  • স্থবিরতার কারণ: রোডম্যাপ তৈরি হলেও স্থায়ী শান্তি এখনো অনেক দূর। M23 বিদ্রোহীদের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বন্দি মুক্তি এবং কঙ্গোর রাজনৈতিক সংস্কারের সময়সীমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গভীর মতবিরোধ রয়ে গেছে।

৭. অন্যান্য সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী

M23 ছাড়াও পূর্ব কঙ্গোর খনিজ সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোতে প্রায় শতাধিক ছোট-বড় গোষ্ঠী সক্রিয়, যার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক দুটি হলো:

  • ADF (Allied Democratic Forces): উগান্ডাভিত্তিক এই চরমপন্থী গোষ্ঠীটি ইসলামিক স্টেটের (IS) সাথে সম্পৃক্ত। তারা উত্তর কিভুর প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে সাধারণ নাগরিকদের ওপর নির্মম গণহত্যা ও সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আসছে।
  • CODECO: এটি প্রধানত লেন্দু (Lendu) জাতিগোষ্ঠীর একটি জোট, যারা ইতুরি প্রদেশে খনি অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এবং জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে সহিংসতা চালাচ্ছে।

৮. মানবিক বিপর্যয় (Humanitarian Crisis)

রাজনৈতিক ও সামরিক এই অস্থিতিশীলতার মাশুল দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। চলমান যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে বর্তমানে কঙ্গোতে ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত (Displaced), যা বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মানবিক সংকট। তীব্র খাদ্যসংকট, স্বাস্থ্যসেবার অভাব এবং খনি অঞ্চলগুলোতে জোরপূর্বক শ্রমের কারণে দেশটির জনগণের জীবন বিপর্যস্ত।

সংক্ষেপে, কঙ্গো সরকার একদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে বিদ্রোহী দমনে হিমশিম খাচ্ছে। রুয়ান্ডার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন বন্ধ না হলে এবং খনিজ সম্পদের অবৈধ পাচার রোধ করা না গেলে পূর্ব কঙ্গোয় অদূর ভবিষ্যতে স্থায়ী শান্তি আসা কঠিন。

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) কোবাল্টান খলিটান বিপরীত মানবিক হুমকি একবিংশর বড় একটি ট্র্যাজেডি। পকেটে শান্তি ফোন, ল্যাপটপ ট্র্যাফিক পরিবেশবান্ধব ইকনিক গাড়ি (ইভি)—এসব মডেল প্রযুক্তি ব্যাটারি ও প্রসেসরচল যেটা সম্পূর্ণমালর নির্বাচন, তাতাহালটবাল্টা এবং কোল্টান। বিশ্ব বিশ্ব প্রযুক্তি প্রযুক্তির এই “সবুজ রূপান্তর” বা গ্রিন ট্র্রোশনের শীর্ষ লুকিয়ে আছে কঙ্গোর বহুখানি শক্তির দাসত্ব, রক্ত ​​এবং অবর্ণনীয় মানবিক বিপর্যয়। [

খনিগুলোর ভেতরের বাস্তব চিত্র এবং মানবিক সংকটের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

৯. আধুনিক দাসত্ব এবং কারিগরী খনি (Artisanal Mining)

কঙ্গোর খনিগুলোর একটি বড় অংশ কর্পোরেট ও যান্ত্রিক হলেও, প্রায় ৩০% খনিজ সংগৃহীত হয় “কারিগরী বা হস্তচালিত খনি” (Artisanal Mines) থেকে।

  • হাতে খনন ও আদিম পদ্ধতি: এখানে কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি বা ক্রেন থাকে না। সাধারণ মানুষ নিজেদের হাত, কোদাল এবং ছেনি দিয়ে মাটির শত শত ফুট গভীরে সরু সুড়ঙ্গ (Tunnels) তৈরি করে। কোনো অক্সিজেন সিলিন্ডার বা সেফটি গিয়ার ছাড়াই তারা শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে খনিজ টেনে আনে।
  • বিপজ্জনক ধস ও অকাল মৃত্যু: এই সুড়ঙ্গগুলো যেকোনো সময় ধসে পড়ে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেই পূর্ব কঙ্গোর রুবায়া (Rubaya) কোল্টান খনি এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে খনি ধসে ২২০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এছাড়া ২০২৫ সালের শেষের দিকে কোবাল্ট খনি অঞ্চলেও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সেতু ও খনি ধসে বহু শ্রমিক প্রাণ হারায়।

১০. নিষ্পাপ শৈশবের বলি: শিশুশ্রম (Child Labor)

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর (যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং সেভ দ্য চিলড্রেন) তথ্যানুসারে, কঙ্গোর খনিগুলোতে কমপক্ষে ২৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ শিশু কাজ করে।

  • কেন শিশুরা? কোল্টান ও কোবাল্টের সুড়ঙ্গগুলো এতই সরু হয় যে প্রাপ্তবয়স্কদের পক্ষে সেখানে ঢোকা অসম্ভব। তাই ছোট শিশুদের (অনেক সময় ৬-৭ বছর বয়সী) জোর করে বা পেটের দায়ে এই মৃত্যুর কূপে নামানো হয়।
  • মজুরি বৈষম্য: দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনি ও বিষাক্ত ধূলিকণার মধ্যে কাজ করে এই শিশুরা দৈনিক মাত্র ১ থেকে ২ ডলার (প্রায় ১২০ থেকে ২৪০ টাকা) মজুরি পায়।

১১. বিদ্রোহী গোষ্ঠীর শোষণ ও জোরপূর্বক শ্রম (Forced Labor)

পূর্ব কঙ্গোর বর্তমান যুদ্ধাবস্থার কারণে খনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ এখন সাধারণ মানুষের হাতে নেই।

  • M23 এবং অন্যান্য মিলিশিয়া: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের একদম সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পূর্ব কঙ্গোর রুবায়া কোল্টান খনি অঞ্চল এখন M23 বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।
  • নির্যাতন ও পাচার: বিদ্রোহীরা স্থানীয় জনগণকে বন্দুকের মুখে খনিতে জোরপূর্বক শ্রম (Forced Labor) দিতে বাধ্য করছে। যারা অস্বীকৃতি জানায়, তাদের ওপর চলে অমানুষিক নির্যাতন, নির্বিচার আটক ও হত্যাকাণ্ড। এরপর এই খনিজগুলো অবৈধভাবে প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডায় পাচার হয়ে যায় এবং সেখান থেকে তা বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ করে।

১২. স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বিষাক্ত পরিবেশ

  • মারাত্মক ব্যাধি: কোবাল্ট এবং কোল্টান খনির ধুলোবালি অত্যন্ত বিষাক্ত। কোনো মাস্ক ছাড়া এই ধুলো ফুসফুসে প্রবেশ করায় শ্রমিকরা “কোবাল্ট লাং” (Cobalt Lung) নামক দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট, মারাত্মক চর্মরোগ এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে।
  • বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম: খনি অঞ্চলের আশেপাশের গর্ভবতী নারীদের বিষাক্ত ধাতুর সংস্পর্শে থাকার কারণে বিকলাঙ্গ বা জন্মগত ত্রুটিযুক্ত শিশু জন্ম দেওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেশি।

১৩. ভূ-রাজনৈতিক ও কর্পোরেট ভণ্ডামি

  • চিলির/চীনের আধিপত্য: কঙ্গোর কোবাল্ট খনিগুলোর প্রায় ৮০% বর্তমানে বিভিন্ন বড় চীনা কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। তারা অত্যন্ত কম খরচে এই খনিজ উত্তোলন করে চীনে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে ব্যাটারি বানিয়ে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি জায়ান্টদের কাছে বিক্রি করে।
  • সবুজ শক্তির অন্ধকার দিক: পরিবেশ বাঁচানোর নামে যখন পশ্চিমা দেশগুলো বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর জোর দিচ্ছে, তখন সেই গাড়ির ব্যাটারির মূল উপাদান আসছে কঙ্গোর মানুষের রক্ত ও ঘামের বিনিময়ে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো “সাপ্লাই চেইন স্বচ্ছতা” বা “কনফ্লিক্ট-ফ্রি খনিজ” ব্যবহারের দাবি করলেও বাস্তবে লুণ্ঠনকৃত খনিজ বিভিন্ন হাতবদল হয়ে মূল বাজারে মিশে যাচ্ছে। [

সংক্ষেপে বলতে গেলে, কঙ্গোর কোল্টান ও কোবাল্ট খনির ভেতরের দৃশ্য মধ্যযুগীয় দাসপ্রথার আধুনিক রূপ। যেখানে বিশ্ব ডিজিটাল হচ্ছে, সেখানে কঙ্গোর মানুষ কেবল বেঁচে থাকার লড়াইয়ে মাটির নিচে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিচ্ছে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মুদ্রা

নিউজ ডেস্ক

September 9, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant & Economic Content Analyst)

বিভাগ (Category): অর্থনীতি প্রকাশের তারিখ: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তথ্যসূত্র (Sources): আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ইতিহাস সংকলন, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ প্রতিবেদন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ট্রেডিং ইকোনমিক্স এবং প্রাসঙ্গিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ।


ঢাকা: প্রশ্নটা শুনতে সহজ, কিন্তু উত্তরটা লুকিয়ে আছে বিংশ শতাব্দীর কিছু সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে। “সরকার তো নিজেই টাকা ছাপায়, তাহলে ইচ্ছেমতো ছাপিয়ে সব সমস্যার সমাধান করে ফেলে না কেন?”—এই প্রশ্ন প্রায় সবার মনেই একবার না একবার এসেছে। উত্তর জানতে হলে ফিরে তাকাতে হবে ইতিহাসের সেইসব অধ্যায়ে, যেখানে ঠিক এই কাজটাই করা হয়েছিল—এবং ফলাফল ছিল ভয়াবহ।

এক টুকরো রুটির জন্য ঠেলাগাড়ি ভর্তি টাকা: জার্মানির ১৯২৩

১৯২৩ সালে জার্মানির ‘হাইপার-ইনফ্লেশন’ (Hyperinflation) মানব ইতিহাসের অন্যতম এক চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়, যেখানে এক টুকরো রুটি বা সামান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে মানুষকে আক্ষরিক অর্থেই ঠেলাগাড়ি বা স্যুটকেসভর্তি টাকা নিয়ে বাজারে যেতে হতো [১]।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির মুদ্রা ‘মার্ক’ (Mark) তার সমস্ত মূল্য হারিয়ে কাগজের টুকরোয় পরিণত হয়েছিল [১]। এই নির্মম বাস্তবতার পেছনের কারণ এবং এর কিছু অবিশ্বাস্য ঐতিহাসিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

১. কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল?

  • যুদ্ধের বিশাল ঋণ ও জরিমানা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর ১৯১৯ সালের ‘ভার্সাই চুক্তি’ অনুযায়ী জার্মানির ওপর মিত্রবাহিনী (বিশেষ করে ফ্রান্স ও ব্রিটেন) বিশাল অঙ্কের যুদ্ধক্ষতিপূরণ বা জরিমানা চাপিয়ে দেয়।
  • নির্বিচারে টাকা ছাপানো: এই বিপুল পরিমাণ জরিমানা শোধ করার মতো কোনো স্বর্ণ বা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জার্মানির ছিল না। সংকট কাটাতে জার্মান সরকার কোনো উৎপাদন না বাড়িয়েই দিন-রাত দেদারসে কাগজের মুদ্রা (মার্ক) ছাপাতে শুরু করে [১]।
  • মুদ্রার ধস: বাজারে কাগজের নোটের বন্যা বয়ে যাওয়ার কারণে মুদ্রার মান অবিশ্বাস্য দ্রুততায় কমতে থাকে। ১৯১৪ সালে যেখানে ৪ মার্কে ১ ডলার পাওয়া যেত, ১৯২৩ সালের নভেম্বরের মধ্যে তা দাঁড়ায় ৪.২ ট্রিলিয়ন (৪,২০০,০০০,০০০,০০০) মার্কে ১ ডলার!

২. ১৯২৩ সালের কিছু অবিশ্বাস্য ও নির্মম বাস্তব চিত্র

  • ঠেলাগাড়ির ব্যবহার: কাগজের নোটের মান এতই কমে গিয়েছিল যে, একটি পাউরুটি বা এক কেজি আলু কিনতে কোটি কোটি মার্কের প্রয়োজন হতো। পকেটে বা মানিব্যাগে সেই টাকা আস্ত না বলে মানুষ ঠেলাগাড়ি, বড় লন্ড্রি ঝুড়ি বা স্যুটকেস ভরে টাকা নিয়ে বাজারে যেত [১]।
  • টাকা গোনার চেয়ে ওজন করা সস্তা: দোকানে কেনাকাটার সময় দোকানিরা টাকা গুনে নেওয়ার সময় পেতেন না। তারা স্কেলে মেপে কিলোগ্রাম বা পাউন্ড হিসেবে টাকা জমা নিতেন।
  • কয়লার চেয়ে টাকা পোড়ানো সাশ্রয়ী: শীতকালে ঘর গরম রাখার জন্য কয়লা বা কাঠ কেনার চেয়ে কাগজের নোট পুড়িয়ে আগুন পোহানো অনেক বেশি সস্তা ছিল। গৃহিণীরা ঘরের উনুন ধরাতে বা রান্নার কাজে টাকার বান্ডিল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতেন।
  • বাচ্চাদের খেলার সামগ্রী: নোটের কোনো মূল্য না থাকায় অনেক পরিবারে শিশুদের খেলার জন্য ঘুড়ি বানাতে বা ঘর সাজানোর ওয়ালপেপার হিসেবে কোটি কোটি মার্কের নোট দেয়াল তৈরিতে আঠা দিয়ে লাগানো হতো।
  • দিনে দুইবার বেতন: মুদ্রাস্ফীতি প্রতি ঘণ্টায় বাড়ত। সকালে যে বেতনের টাকা দিয়ে একটি জুতো কেনা যেত, বিকেলে তা দিয়ে হয়তো একটি ডিমও পাওয়া যেত না। তাই শ্রমিকদের দিনে দুইবার বেতন দেওয়া হতো এবং বেতন পাওয়ার সাথে সাথে তারা কাজ ফেলে বাজারে ছুটতেন, যাতে টাকাটা কাগজের টুকরো হওয়ার আগেই কিছু কিনে ফেলা যায়।

৩. এই সংকট থেকে জার্মানির মুক্তি

১৯২৩ সালের শেষের দিকে জার্মানি তাদের পুরনো কারেন্সি ‘মার্ক’ সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়। এরপর ‘রেন্টেনমার্ক’ (Rentenmark) নামে একটি নতুন মুদ্রা চালু করা হয়, যার ভিত্তি ছিল দেশের বন্ধকী জমি ও শিল্পসম্পদ। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে জার্মানির অর্থনীতি স্থিতিশীলতায় ফেরে।

যখন নোটের চেয়ে সস্তা ছিল জ্বালানি কাঠ: হাঙ্গেরি ১৯৪৬

জার্মানির ১৯২৩ সালের অর্থনৈতিক সংকট যদি রূপকথার মতো শোনায়, তবে ১৯৪৬ সালের হাঙ্গেরির ‘হাইপার-ইনফ্লেশন’ (Hyperinflation) ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে চরম ও ভয়ংকর অর্থনৈতিক বিপর্যয় জার্মানি বা জিম্বাবুয়ে নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে আজ পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে দ্রুতগতির এবং ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি ঘটেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী হাঙ্গেরিতে

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, হাঙ্গেরির মুদ্রা ‘পেঙ্গো’ (Pengő) তার সমস্ত ক্রয়ক্ষমতা হারিয়ে আক্ষরিক অর্থেই আবর্জনায় পরিণত হয়েছিল । কাগজের নোটের মান এত নিচে নেমে গিয়েছিল যে, শীতের রাতে ঘর গরম রাখতে জ্বালানি কাঠ বা কয়লা কেনার চেয়ে কাগজের নোটের বান্ডিল পোড়ানো অনেক বেশি সস্তা ও সাশ্রয়ী ছিল

নিচে এই অবিশ্বাস্য ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির মূল চিত্রগুলো তুলে ধরা হলো:

১. ইতিহাসের দ্রুততম ও চরম মুদ্রাস্ফীতি

  • প্রতি ১৫ ঘণ্টায় দাম দ্বিগুণ: ১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে হাঙ্গেরির মাসিক মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৪১.৯ কোয়াড্রিলিয়ন শতাংশ (৪১.৯ এর পর ১৪টি শূন্য) ! এর মানে বাজারে প্রতি ১৫ ঘণ্টায় পণ্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে যেত
  • সকালের বেতন বিকেলে পকেটমানি: একজন শ্রমিক সকালে যে বেতন পেতেন, দুপুরের মধ্যে তার ৪০% মান কমে যেত এবং রাতের খাবারের সময় নাগাদ তা স্রেফ পকেটমানিতে পরিণত হতো । মানুষ বেতন পাওয়ার সাথে সাথে বাজারে দৌড়াতেন, কারণ কয়েক ঘণ্টা দেরি করলেই সেই টাকা দিয়ে আর কিছুই কেনা সম্ভব হতো না

২. কাগজের নোটের চেয়ে জ্বালানি কাঠ দামি হওয়ার কারণ

  • কাগজের চেয়ে সস্তা টাকা: হাঙ্গেরির মুদ্রা এতটাই মূল্যহীন হয়ে পড়েছিল যে, সমপরিমাণ মূল্যের জ্বালানি কাঠ, সাধারণ কয়লা বা এমনকি সাধারণ লেখার সাদা কাগজ কিনতে যে পরিমাণ নোট দিতে হতো, তার চেয়ে সেই নোটগুলো সরাসরি আগুনে পুড়িয়ে ফেলা অনেক লাভজনক ছিল
  • রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার সামগ্রী: সে সময় হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের রাস্তায় সাধারণ মানুষ কোটি কোটি পেঙ্গোর নোট ফেলে দিত। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা থেকে ময়লার মতো টাকার নোটের স্তূপ ডাস্টবিনে ফেলতেন।
  • নোটের সাহায্যে আগুন জ্বালানো: ইতিহাসের কিছু বিখ্যাত ছবিতে দেখা যায় হাঙ্গেরির নারীরা তাঁদের উনুন ধরাতে বা সিগারেটে আগুন ধরাতে ম্যাচের কাঠির বদলে জ্বলন্ত পেঙ্গো নোটের মোড়ক ব্যবহার করছেন

৩. পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ অঙ্কের নোট

মুদ্রাস্ফীতির সাথে তাল মেলাতে হাঙ্গেরির কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকার অঙ্কের পেছনে একের পর এক শূন্য বসাতে থাকে তারা প্রথমে ‘মিলপেঙ্গো’ (১০ লাখ পেঙ্গো) এবং পরে ‘বিলপেঙ্গো’ (১ লাখ কোটি পেঙ্গো) চালু করে । হাঙ্গেরিই পৃথিবীর ইতিহাসে প্রচলিত হওয়া সর্বোচ্চ অঙ্কের নোট ছাপিয়েছিল, যার মান ছিল ১০০ কুইন্টিলিয়ন (১০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ বা ১০^২০) পেঙ্গো !

৪. কেন হয়েছিল এই বিপর্যয়?

  • যুদ্ধের ধ্বংসলীলা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হাঙ্গেরির প্রায় ৪০% জাতীয় সম্পদ এবং ৯০% শিল্পকারখানা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়
  • সোভিয়েত দখলদারিত্ব ও জরিমানা: যুদ্ধের পর হাঙ্গেরি সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং তাদের ওপর বিশাল অঙ্কের যুদ্ধক্ষতিপূরণ চাপানো হয় । এই খরচ মেটাতে কোনো ব্যাক-আপ ছাড়াই হাঙ্গেরির সরকার দিন-রাত নির্বিচারে টাকা ছাপাতে শুরু করে, যা অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়

৫. যেভাবে এলো মুক্তি

১৯৪৬ সালের ১লা আগস্ট হাঙ্গেরি সরকার এক ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নেয় । তারা মৃতপ্রায় কারেন্সি ‘পেঙ্গো’ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে । এর পরিবর্তে ‘ফোরিন্ট’ (Forint) নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন মুদ্রা চালু করা হয় । ১টি নতুন ফোরিন্ট পেতে হাঙ্গেরীয়দের দিতে হয়েছিল ৪০০ অক্ট্রিলিয়ন (৪-এর পিঠে ২৯টি শূন্য) পুরনো পেঙ্গো ! এই মুদ্রা পরিবর্তনের মাধ্যমে হাঙ্গেরির অর্থনীতিতে আবার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরে আসে ।

একুশ শতকের উদাহরণ: জিম্বাবুয়ে ও ভেনেজুয়েলা

ইতিহাসের এই শিক্ষা যে শুধু অতীতের বিষয় নয়, তার প্রমাণ মিলেছে একুশ শতকেও। ২০০০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের সরকার সরকারি ব্যয় মেটাতে অবিরাম টাকা ছাপাতে থাকে, যার ফলে দেশটির মুদ্রাস্ফীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে শেষ পর্যন্ত ১০০ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যমানের নোট পর্যন্ত ছাপাতে হয়েছিল—যা বাস্তবে কার্যত মূল্যহীন ছিল। একই ধরনের সংকট দেখা গেছে ভেনেজুয়েলায়, যেখানে তেল রাজস্ব কমে যাওয়ার পর সরকার ঘাটতি পূরণে ব্যাপক হারে মুদ্রা ছাপায়, ফলে দেশের মুদ্রার মূল্য কার্যত ধসে পড়ে এবং লাখো মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয়।

অর্থনীতির সহজ নিয়ম: টাকা বাড়লে পণ্যের দাম বাড়ে, টাকার মূল্য কমে

এই সব ঘটনার পেছনে কাজ করে একটি সহজ কিন্তু কঠোর অর্থনৈতিক নিয়ম। একটি দেশের অর্থনীতিতে পণ্য ও সেবার পরিমাণ যদি স্থির থাকে, কিন্তু টাকার সরবরাহ হঠাৎ বহুগুণ বেড়ে যায়, তাহলে একই পরিমাণ পণ্য কেনার জন্য মানুষের হাতে বেশি টাকা চলে আসে। ফলে বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দেন, কারণ চাহিদা বেড়ে গেলেও উৎপাদন বাড়েনি। এই প্রক্রিয়া একবার শুরু হলে থামানো কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ মানুষ যখন বুঝতে পারে টাকার মূল্য দ্রুত কমছে, তখন তারা যত দ্রুত সম্ভব টাকা খরচ করে ফেলতে চায়—যা দামকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এভাবেই তৈরি হয় একটি ধ্বংসাত্মক চক্র।

তাহলে সরকার ঋণ নেয় কেন, টাকা ছাপায় না কেন?

এই প্রশ্নের উত্তরও লুকিয়ে আছে উপরের উদাহরণগুলোর মধ্যে। সরকার যখন আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ঋণ নেয়, তখন সেই অর্থ বাজারে থাকা বিদ্যমান টাকারই পুনর্বণ্টন হয়—নতুন করে টাকা ছাপানো হয় না, তাই মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে। বিপরীতে, নতুন টাকা ছাপিয়ে খরচ মেটানো মানে অর্থনীতিতে “বাস্তব উৎপাদন” ছাড়াই টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া, যা সরাসরি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেয়। এই কারণেই আধুনিক অর্থনীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থেকে স্বতন্ত্র রাখার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে—যাতে স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক চাপে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন না হয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: সতর্কতার পাঠ

বাংলাদেশ ব্যাংকও একই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও বিনিময় হারের চাপের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মুদ্রানীতি নিয়ে আলোচনা বেড়েছে, যেখানে অর্থনীতিবিদরা বারবার সতর্ক করেছেন—অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহ স্বল্পমেয়াদে সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে—ঠিক যেভাবে তা ঘটেছিল জার্মানি, হাঙ্গেরি, জিম্বাবুয়ে ও ভেনেজুয়েলায়।

উপসংহার

ইতিহাস বারবার একই শিক্ষা দিয়েছে—মুদ্রা ছাপানো কোনো জাদুকরী সমাধান নয়, বরং এটি একটি দ্বিধারী তলোয়ার। সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত মুদ্রা সরবরাহ অর্থনীতিকে সচল রাখে, কিন্তু লাগামহীন মুদ্রা সরবরাহ একটি দেশের সমগ্র অর্থব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিতে পারে কয়েক মাসের মধ্যেই। এই কারণেই আধুনিক বিশ্বের প্রতিটি দায়িত্বশীল সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও নিয়ন্ত্রিত নীতি অনুসরণ করে চলে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২৭শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ