অর্থনীতি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
কন্টেন্ট লেখক ও প্রধান সম্পাদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)
সর্বশেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬
একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বরাজনীতি এক বিশাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে বেইজিং, অন্যদিকে নিজের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার ও তরুণ শক্তির জোরে বিশ্বমঞ্চে দ্রুত উদীয়মান শক্তি হিসেবে আসন পাকা করছে নতুন দিল্লি। ২০২৬ সালের এই সময়ে এসে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে চীন ও ভারতের এই ছায়াযুদ্ধ (Influence War) এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে।
নিচে এই দুই পরাশক্তির সামরিক-অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় এর কৌশলগত প্রভাব বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. চীনের সামরিক ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা: বৈশ্বিক আধিপত্যের ভিত্তি

গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার সূচক অনুযায়ী চীন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সামরিক পরাশক্তি, যারা প্রযুক্তি ও নৌবাহিনীর শক্তিতে অনেক ক্ষেত্রে রাশিয়াকেও ছাড়িয়ে গেছে।
- প্রতিরক্ষা বাজেট: চীনের বার্ষিক সামরিক বাজেট প্রায় ২৮১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতের বাজেটের ($৭৮ বিলিয়ন) চেয়ে প্রায় ৩.৬ গুণ বড়। এই বিপুল অর্থ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত আধুনিক যুদ্ধকৌশল গবেষণায় ব্যয় হয়।
- বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনী: সংখ্যার দিক থেকে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি (PLAN) এখন বিশ্বের বৃহত্তম, যার বহরে ৩টিরও বেশি সক্রিয় বিমানবাহী রণতরী (Aircraft Carrier) এবং ৬০টির বেশি উন্নত সাবমেরিন রয়েছে।
- উন্নত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র: চীনের বিমান বাহিনীতে নিজস্ব প্রযুক্তির রাডার-ফাঁকি দিতে সক্ষম J-20 স্টিলথ ফাইটার জেট এবং ‘ডিএফ-১৭’ (DF-17) হাইপারসনিক মিসাইল রয়েছে, যা যেকোনো আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেদ করতে সক্ষম।
- এ২/এডি (A2/AD) কৌশল: চীন এমন এক দূরবর্তী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে যার মাধ্যমে তারা যেকোনো বহিরাগত শত্রু বাহিনীকে (যেমন মার্কিন নৌবাহিনী) তাদের উপকূলের কাছে ঘেঁষতে বাধা দিতে পারে।
২. ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা: ভবিষ্যৎ পরাশক্তি হওয়ার চাবিকাঠি

চীন যখন সামরিক শক্তিতে বিশ্বকে চমকে দিচ্ছে, ভারত তখন প্রথমে তার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ভিত শক্ত করছে। আইএমএফ (IMF) এবং বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাপানকে পেছনে ফেলে ভারত ইতিমধ্যে বিশ্বের ৪র্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। [
বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিগুলোর অবস্থান ও পূর্বাভাস (জিডিপি ট্রিলিয়ন ডলারে)

| দেশ | ২০২৬ সালের অবস্থান | ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা/পূর্বাভাস |
| যুক্তরাষ্ট্র | ১ম (~২৮+ ট্রিলিয়ন) | ১ম |
| চীন | ২য় (~১৯+ ট্রিলিয়ন) | ২য় |
| জার্মানি | ৩য় (~৪.৫ ট্রিলিয়ন) | ৪থ |
| ভারত | ৪থ ($৪.১৮ ট্রিলিয়ন) | ৩য় ($৭.৩ ট্রিলিয়ন) |
- ২০৩০ সালের মধ্যে ৩য় স্থান: ৪.১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি নিয়ে ভারত এখন জার্মানির ঠিক পেছনে অবস্থান করছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৭.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হয়ে বিশ্বের ৩য় বৃহত্তম অর্থনৈতিক পরাশক্তি হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
- জনমিতিক লভ্যাংশ (Demographic Dividend): ভারতের ১৪৭ কোটির বেশি জনসংখ্যার সিংহভাগই তরুণ, যা আগামী ৩ দশক ধরে উৎপাদন ও সেবা খাতকে সচল রাখবে। ক্রয়ক্ষমতা সমতা (PPP) অনুযায়ী ২০৬০ সালের মধ্যে ভারত বিশ্ব জিডিপিতে চীনকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
- চায়না প্লাস ওয়ান (Make in India): পশ্চিমা দেশগুলো চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে নীতি পরিবর্তন করায় অ্যাপলসহ বড় বড় বৈশ্বিক উৎপাদকরা ভারতে তাদের কারখানা স্থানান্তর করছে।
৩. বাংলাদেশ কেন্দ্রিক নীতি: “বাংলাদেশ-ফার্স্ট” ও নতুন কৌশলগত সমীকরণ

বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে “সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়” নীতি বজায় রাখলেও, ২০২৬ সালে এসে ঢাকা ও বেইজিংয়ের সম্পর্কে একটি বড় ধরনের কৌশলগত মোড় দেখা যাচ্ছে।
- ২০২৬-এর কূটনৈতিক মোড় (The ‘New Era’): ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান বেইজিং সফরে যান এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করেন। দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে “নতুন যুগের কৌশলগত অংশীদারিত্ব” (New Era of Strategic Partnership) হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং ১৭টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
- অবকাঠামোগত প্রতিযোগিতা: বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে চীন। এর জবাবে ভারতও ঋণ বা লাইন অব ক্রেডিট (LoC) এবং ট্রানজিট সুবিধার মাধ্যমে ঢাকাকে নিজেদের পাশে ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
- বঙ্গোপসাগরের ভূরাজনীতি: ভারত চায় না বঙ্গোপসাগরে চীনা নৌবাহিনীর কোনো ধরনের উপস্থিতি থাকুক। তবে বাংলাদেশ এখন তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় একটি “বাংলাদেশ-ফার্স্ট” নীতি নিয়ে এগোচ্ছে, যা ভারতকে ঢাকার ওপর তার একক প্রভাব পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করছে।
৪. পাকিস্তান কেন্দ্রিক নীতি: চীনের “লৌহ ভাই” বনাম ভারতের চরম বৈরিতা

বাংলাদেশের মতো পাকিস্তান কোনো ভারসাম্যমূলক নীতিতে নেই; তারা সম্পূর্ণরূপে চীনের ব্লকে অবস্থান করছে, যা ভারতের জন্য একটি দ্বিমুখী নিরাপত্তা হুমকি (Two-Front War Threat) তৈরি করেছে।
- সিপেক (CPEC) অক্ষ: চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো চীন-پاکستان অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC), যা বিতর্কিত কাশ্মীরের (গিলগিট-বালতিস্তান) ওপর দিয়ে গিয়ে পাকিস্তানের গোয়াদর গভীর সমুদ্র বন্দরকে চীনের সাথে যুক্ত করেছে। ভারত এই প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করে।
- সামরিক জোট: পাকিস্তান তাদের সিংহভাগ আধুনিক যুদ্ধবিমান (যেমন JF-17 থান্ডার), সাবমেরিন এবং মিসাইল প্রযুক্তি চীনের কাছ থেকে পায়। ভারতের সামরিক উত্থানকে প্রতিহত করতে বেইজিং মূলত পাকিস্তানকে একটি “কৌশলগত বাফার” হিসেবে ব্যবহার করে।
পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ
চীন ও ভারতের এই তীব্র দ্বন্দ্বের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার নিজস্ব আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা ‘সার্ক’ (SAARC) সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলো ভারত ও চীন—উভয় পক্ষের কাছ থেকেই অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য এক ধরণের হেজিং স্ট্র্যাটেজি (Hedging Strategy) বা ভারসাম্যমূলক দরকষাকষি ব্যবহার করছে। দীর্ঘমেয়াদে চীন যদি তার বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা ও বয়োবৃদ্ধ জনসংখ্যার সংকট কাটাতে না পারে, তবে ২০৫০ সালের পর ভারত বিশ্বমঞ্চে চীনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রাখে। তবে এই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়া দুই পরাশক্তির প্রভাব বিস্তারের মূল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। [
আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি, বিশ্ব অর্থনীতি, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সমসাময়িক বিশ্বের যেকোনো নিখুঁত ও ১০০% সত্যতা-যাচাইকৃত কন্টেন্ট সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
বিভাগ (Category): রাজনীতি → নির্বাচনী খবর
প্রকাশের তারিখ: ২২ অক্টোবর, ২০২৬
তথ্যসূত্র (Sources): নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তি ও গেজেট, প্রথম আলো, বিডিনিউজ২৪, যুগান্তর, বাংলা ট্রিবিউন, রাইজিংবিডি, টিবিএস বাংলা, ঢাকা পোস্ট
ঢাকা: স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরেই এখন নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই, তাই ভোটের সময়সূচি নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। ভোট হবে পাঁচ স্তরে: ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন। তবে তারিখ নিয়ে এখনো পুরোপুরি স্পষ্টতা নেই।
কবে হচ্ছে ভোট?
সরকারের লক্ষ্য। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে ভোট শুরু হবে এবং ৬ জুনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। তিনিই আবার বলেছেন, সুনির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি এবং শুরুর সময় ঠিক করবে নির্বাচন কমিশন।

ইসির অবস্থান। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, বার্ষিক পরীক্ষার কারণে নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট হচ্ছে না, কমিশন জানুয়ারিতে শুরুর আশা করছে। জানুয়ারিতে ভোট হলে ৪০-৪৫ দিন আগে, অর্থাৎ নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা হতে পারে। তবে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত কোনো তারিখই চূড়ান্ত ধরা যায় না।
ভিন্ন সুরও আছে। টিবিএস বাংলার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আগামী বছরের শেষ নাগাদ ভোট আয়োজনের কথা উঠেছে, যাতে দলীয় সাংগঠনিক প্রস্তুতির সময় মেলে। আর ইসির এক কমিশনারের মন্তব্য নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন কঠিন হবে। অর্থাৎ সূচি এখনো নমনীয়।
ধাপ ও প্রস্তুতি
দেশে মোট ইউনিয়নের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮০টি, আর একসঙ্গে সব নির্বাচন না করে ধাপে ধাপে ভোট এবং সব স্তর শেষ করতে ১০ থেকে ১২ মাস লাগার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তায় থাকবে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হতে পারে। সেপ্টেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য যে সাত ধাপের খসড়া তারিখ আলোচনায় এসেছিল, পরিস্থিতি বদলানোয় সেটি আর কার্যকর নয়। জুনের মধ্যে ভোট, সময় খুঁজছে ইসি – শিক্ষাবার্তা ডট কম
ভোটার তালিকা: গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
- ৩১ অক্টোবর ২০২৬: নতুন ভোটার নিবন্ধন ও আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদনের শেষ তারিখ।
- যোগ্যতা: ৩১ অক্টোবর ২০০৮ বা তার আগে জন্ম নেওয়া এবং ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ডেটাবেইসে নিবন্ধিতরাই তালিকায় আসবেন।
- ৫ নভেম্বর: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা এবং সারা দেশে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ।
- ২০ নভেম্বর: খসড়া তালিকায় দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের আবেদনের শেষ দিন; নিষ্পত্তির শেষ সময় ২৩ নভেম্বর; সিদ্ধান্ত তালিকায় যুক্ত হবে ২৪ নভেম্বর।
- ২৫ নভেম্বর: হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ। চূড়ান্ত তালিকায় যাদের নাম থাকবে, তারাই স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
প্রার্থী হতে হলে

নির্দলীয় ভোট। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হবে এবং ২০১৬ সালের আচরণবিধি বাতিল করে নতুন বিধি করা হয়েছে। এতে নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান রাখা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের জামানত ও ব্যয়সীমা। সংশোধিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালার গেজেট ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে। নতুন বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার টাকা ও সাধারণ সদস্য প্রার্থীর ৫ হাজার টাকা। মোট ভোটের ১৫ শতাংশের কম পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা চেয়ারম্যানের জন্য ১০ লাখ ও সাধারণ সদস্যের জন্য ২ লাখ টাকা।
প্রচলিত যোগ্যতা। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রার্থীকে সাধারণত বাংলাদেশের নাগরিক, ন্যূনতম ২৫ বছর বয়সী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। ঋণখেলাপি, দেউলিয়া কিংবা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে নির্দিষ্ট মেয়াদের সাজাপ্রাপ্তরা অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হন। সংশোধিত বিধিমালায় কিছু বদলেছে কি না, তা ইসির গেজেট থেকে মিলিয়ে নিন।
নতুন আচরণবিধির মূল দিক
- পোস্টার নিষিদ্ধ। ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও সীমিত সংখ্যক বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। ইউনিয়ন পরিষদে প্রতি ওয়ার্ডে একটি বিলবোর্ড।
- মাইক। দুপুর ১২টার আগে ও সূর্যাস্তের পর মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ, শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল এবং এক ওয়ার্ডে একটির বেশি মাইক নয়।
- অনলাইন প্রচার। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে বাধা নেই, তবে খরচ নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবে দেখাতে হবে। এআই দিয়ে ভুয়া তথ্য, বিকৃত ছবি বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারে বিধিনিষেধ আছে। খসড়ায় প্রার্থীদের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নিবন্ধনের কথাও ছিল; চূড়ান্ত গেজেটে তা আছে কি না, যাচাই করে নিন।
- দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রচার নিষেধ। প্রার্থী ছাড়া চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
- শাস্তি। লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান। খসড়ায় ছিল, গুরুতর লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা ইসির থাকবে।
সামনের চ্যালেঞ্জ
আর্থিক দিক থেকে পাঁচ স্তরের নির্বাচনে ইসির প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। সময়সূচি, নিরাপত্তা-প্রস্তুতি ও পরীক্ষার মৌসুম মিলিয়ে ভোটের তারিখ ঠিক করা ইসির জন্য বড় হিসাব। তফসিল ঘোষণা হলে চিত্র স্পষ্ট হবে।
উপসংহার
আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো ভোটার তালিকার সময়সূচি, নির্দলীয় ভোটের কাঠামো, সংশোধিত বিধিমালা ও নতুন আচরণবিধি। ভোটের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও ধাপ তফসিল ঘোষণার পরই জানা যাবে। প্রার্থী ও ভোটার, দুই পক্ষেরই উচিত ইসির সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তির ওপর নজর রাখা।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
- প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
- বিভাগ (Category): বৈদেশিক কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও অর্থনীতি
- প্রকাশের তারিখ: ২০ অক্টোবর, ২০২৬
- তথ্যসূত্র (Sources): জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET), প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে (যেমন: সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন) কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং প্রতারকদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) নির্ধারিত বৈধ প্রক্রিয়া, প্রতারণা চেনার উপায় এবং সরকারি খরচের নির্দেশিকা নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।

মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার বৈধ প্রক্রিয়া (Step-by-Step)
একটি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের জন্য আপনাকে অবশ্যই নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:
- পাসপোর্ট তৈরি: সর্বনিম্ন ১ বছর মেয়াদসম্পন্ন একটি আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট তৈরি করুন।
- বিএমইটি (BMET) রেজিস্ট্রেশন: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপের মাধ্যমে বা নিকটস্থ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে (DEMO) গিয়ে BMET রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন। এর মাধ্যমে আপনি একটি ইউনিক বায়োমেট্রিক আইডি পাবেন।
- বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন: শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির (RL) মাধ্যমে ভিসার প্রক্রিয়া করুন। বৈধ এজেন্সির তালিকা BMET-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।
- ভিসা যাচাইকরণ (Visa Verification): এজেন্সি আপনাকে ভিসার কপি দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস (Embassy) বা বিএমইটি-এর মাধ্যমে ভিসার সত্যতা শতভাগ যাচাই করে নিন।
- মেডিকেল টেস্ট: সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার (যেমন: GAMCA বা GCC অনুমোদিত কেন্দ্র) থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং ‘Fit’ সার্টিফিকেট নিন।
- প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন (PDO) ট্রেনিং: বিএমইটি-এর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (TTC) ৩ দিনের বাধ্যতামূলক পিডিও ট্রেনিংয়ে অংশ নিন। এখানে মধ্যপ্রাচ্যের নিয়মকানুন ও ভাষা শেখানো হয়।
- স্মার্ট কার্ড বা ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স: সব প্রক্রিয়া শেষ হলে বিএমইটি থেকে বাধ্যতামূলক Emigration Clearance (স্মার্ট কার্ড) সংগ্রহ করুন। এটি ছাড়া বিমানবোর্ড করা বা ইমিগ্রেশন পার হওয়া অসম্ভব।
ভিসা প্রতারণা চেনার উপায়
দালাল বা ভুয়ো এজেন্সিগুলো সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। নিচের লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হোন:

- অস্বাভাবিক কম সময়ে ভিসা: “১ সপ্তাহে বা ৩ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের নিশ্চিত ভিসা” — এমন লোভনীয় ও অসম্ভব প্রতিশ্রুতি দিলে বুঝবেন এটি প্রতারণা।
- ভিসার ক্যাটাগরি গোপন করা: ফ্রি ভিসা (Free Visa) বা সাপ্লাই ভিসা (Supply Visa)-র কথা বললে সতর্ক হোন। মনে রাখবেন, মধ্যপ্রাচ্যে আইনিভাবে ‘ফ্রি ভিসা’ বলতে কিছু নেই। সবসময় সুনির্দিষ্ট কোম্পানি এবং পদের (যেমন: ড্রাইভার, ইলেকট্রিশিয়ান, কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার) ভিসা দেখে নেবেন।
- অফিশিয়াল রসিদ না দেওয়া: টাকা লেনদেনের সময় যদি এজেন্সি কোনো অফিশিয়াল প্যাডে লিখিত রসিদ (Receipt) দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে সেখানে টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- চুক্তিপত্র ছাড়া টাকা দাবি: কোনো কাজের অফার লেটার (Offer Letter) বা কর্মসংস্থান চুক্তিপত্র (Employment Contract) দেখানোর আগেই বড় অঙ্কের অগ্রিম টাকা দাবি করা প্রতারণার প্রধান লক্ষণ।
- ভিসা কপিতে ভুল বা অসংগতি: ভিসার কপিতে স্পনসর বা কোম্পানির নাম, আরবী লেখার ভুল বা দূতাবাসের সিল জেনুইন কি না তা যাচাই না করে বিশ্বাস করবেন না।
সরকারি খরচ ও আর্থিক সহায়তার নির্দেশিকা
সরকার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জন্য অভিবাসন ব্যয় (Migration Cost) নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে দেশ ও কাজের ক্যাটাগরি ভেদে এজেন্সির সার্ভিস চার্জসহ খরচে কিছুটা তারতম্য হয়।
বাধ্যতামূলক সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক ফি (আনুমানিক):
- BMET রেজিস্ট্রেশন ফি: ৩০০-৪০০ টাকা।
- PDO ট্রেনিং ফি: ৪০০-৫০০ টাকা।
- স্মার্ট কার্ড/ইমিগ্রেশন ফি: ৩,৫০০-৩,৮৫ টাকা।
- প্রবাসী কল্যাণ তহবিল ফি: ৩,৫০০ টাকা (স্মার্ট কার্ডের সাথেই অন্তর্ভুক্ত থাকে)।
- মেডিকেল ফি: দেশভেদে ৮,৫০০ থেকে ১০,৫০০ টাকা।
- ইনস্যুরেন্স (বাধ্যতামূলক প্রিমিয়াম): ১,০০০ টাকা।
আর্থিক সহায়তা ও ঋণ সুবিধা:
আপনার যদি বিদেশে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত টাকা না থাকে, তবে সরকার অনুমোদিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (PKB) থেকে খুব স্বল্প সুদে এবং সহজ শর্তে “বৈদেশিক কর্মসংস্থান ঋণ” নিতে পারেন। এর জন্য আপনার বৈধ ভিসা, স্মার্ট কার্ডের অনুমোদন এবং কাজের চুক্তিপত্র প্রদর্শন করতে হবে।
২০২৭ এ ইটালি যাবার প্রসেস কি কি তা নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল
ইতালির ২০২৬-২০২৮ সালের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ (Decreto Flussi) বা স্পন্সর আইনের অধীনে ২০২৭ সালের কোটায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশী কর্মী নিয়োগের অফিশিয়াল সময়সূচি ও নিয়ম ঘোষণা করা হয়েছে। এই তিন বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশিরাও ইতালিতে বৈধভাবে কাজের ভিসায় যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
বর্তমানে ২০২৭ সালের কোটার জন্য প্রাক-আবেদন বা প্রি-কম্পাইলেশন (Pre-compilation) প্রক্রিয়া শুরুর একদম দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। নিচে ইতালি যাওয়ার অফিশিয়াল সর্বশেষ নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
২০২৭ সালের আবেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি (Timeline)
ইতালির স্পন্সর বা কাজের ভিসার পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইন পোর্টালে ইতালিতে অবস্থানরত মালিক বা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়।
- প্রাক-আবেদন বা প্রি-কম্পাইলেশন (Pre-compilation): ২৩ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘Ali Portal’-এ মালিকরা কর্মীদের তথ্য আগে থেকে পূরণ করে ড্রাফট আকারে সাজিয়ে রাখতে পারবেন।
- ক্লিক ডে (Click Days) ২০২৭: আগে আসলে আগে পাবেন (First-come, first-served) ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফরম সাবমিট করার নির্দিষ্ট দিনগুলোকে ক্লিক ডে বলে। ২০২৭ সালের অফিশিয়াল ক্লিক ডে-সমূহ:
- ১২ জানুয়ারি ২০২৭: কৃষি বা এগ্রিকালচারাল সিজনাল (Seasonal) কাজের আবেদন।
- ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: পর্যটন বা ট্যুরিজম খাতের সিজনাল কাজের আবেদন।
- ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: অমৌসুমি বা নন-সিজনাল (Non-seasonal) দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন টেকনিক্যাল কাজের আবেদন।
- ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: ডোমেস্টিক বা ফ্যামিলি কেয়ার (কেয়ারগিভার ও গৃহকর্মী) কাজের আবেদন।
প্রধান কাজের খাত ও ভিসা ক্যাটাগরি
২০২৭ সালের মোট কোটাকে প্রধানত তিনটি ধারায় ভাগ করা হয়েছে:
- নন-সিজনাল বা দীর্ঘমেয়াদী কাজ (৭৬,২০০টি কোটা): এর মধ্যে লজিস্টিকস, পণ্য পরিবহন (ড্রাইভিং), কনস্ট্রাকশন বা নির্মাণ খাত, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ১৪,০০০টি কোটা কেয়ারগিভার ও ফ্যামিলি কেয়ার খাতের জন্য সংরক্ষিত।
- সিজনাল বা মৌসুমি কাজ (৮৯,০০০টি কোটা): কৃষি এবং নির্দিষ্ট কিছু পর্যটন খাতের জন্য সাধারণত এই ভিসা সর্বোচ্চ ৯ মাসের হয়ে থাকে। পরবর্তীতে এটি দীর্ঘমেয়াদী ভিসায় রূপান্তর করার সুযোগ থাকে।
৩. বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার অফিশিয়াল আইনি ধাপসমূহ

- ধাপ ১ (মালিকের আবেদন): ইতালির মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পোর্টালে আপলোড করে নির্দিষ্ট ক্লিক ডে-তে সফলভাবে সাবমিট করবেন। [
- ধাপ ২ (নুলা ওস্তা বা ওয়ার্ক পারমিট): তথ্য যাচাইয়ের পর ইতালির ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে কর্মীর নামে একটি ই-ওয়ার্ক পারমিট বা ‘Nulla Osta’ (নুলা ওস্তা) ইস্যু করা হবে।
- ধাপ ৩ (ভিসা আবেদন): মালিকের পাঠানো জেনুইন নুলা ওস্তা হাতে পাওয়ার পর, বাংলাদেশে ইতালির অফিশিয়াল আউটসোর্সিং পার্টনার VFS Global Portal এর মাধ্যমে পাসপোর্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিসহ সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করে ভিসা আবেদন জমা দিতে হবে।
- ধাপ ৪ (প্রশিক্ষণ উদ্যোগ): বাংলাদেশ সরকারের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশেই ইতালীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও কারিগরি দক্ষতার ওপর বিশেষ সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে, যা দক্ষ কর্মীদের সহজে বৈধ উপায়ে ভিসা পেতে বড় ভূমিকা রাখবে।
৪. ভিসা প্রতারণা থেকে বাঁচার বিশেষ সতর্কবার্তা
ইতালি যাওয়ার নামে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দালাল চক্রের প্রতারণা লক্ষ্য করা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে বহু মানুষ অবৈধ পথে লাটভিয়া বা অন্যান্য দেশের জঙ্গল ও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে করুণ মৃত্যুর শিকার হয়েছেন।
- ভুয়া কোটার গুজব: বাজারে “ইতালি মাত্র ১% বাংলাদেশি নেবে, আজই টাকা দিন” — এমন যেকোনো গুজবে কান দেবেন না। ২০২৭ কোটায় বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো বৈষম্যমূলক ১% লিমিট অফিশিয়ালি দেওয়া হয়নি।
- অগ্রিম টাকা লেনদেন বন্ধ রাখুন: কোনো দালাল বা সংস্থাকে নুলা ওস্তা (Nulla Osta) ছাড়া এবং নুলা ওস্তাটি ইতালির অফিশিয়াল পোর্টাল বা দূতাবাসের মাধ্যমে শতভাগ যাচাই না করে কোনো প্রকার অগ্রিম অর্থ বা পাসপোর্ট জমা দেবেন না।
সংক্ষেপিত পর্যালোচনা
নিরাপদ ও সুসংগঠিত অভিবাসন দেশের অর্থনীতির ভিত্তি। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার এই সময়ে না বুঝে অবৈধ পথে বা ভুয়া ভিসায় গিয়ে বিপদে পড়ার চেয়ে বিএমইটির সরকারি নির্দেশিকা মেনে প্রশিক্ষণ নিয়ে ও বৈধ কাগজপত্র যাচাই করে বিদেশে যাওয়া আবশ্যক।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
- প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
- বিভাগ (Category): জাতীয় অর্থনীতি, সরকারি চাকরি বিজ্ঞপ্তি ও পে স্কেল গাইড
- প্রকাশের তারিখ: ২০ অক্টোবর, ২০২৬
- তথ্যসূত্র (Sources): অর্থ বিভাগ (অর্থ মন্ত্রণালয়), হিসাবমহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (CGA) ও আইবাস++ (iBAS++) প্রাতিষ্ঠানিক ডাটাবেজ।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘জাতীয় বেতন কাঠামো-২০২৬’ বা ৯ম জাতীয় বেতন স্কেলের প্রজ্ঞাপন অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা হয়েছে। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শিরোনামে প্রকাশিত এই নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে (retrospectively) কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোতে বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতনের হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে অনলাইন ‘আইবাস++’ (iBAS++) সিস্টেমে বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশন (Pay Fixation)-এর প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
১. মূল বেতন ও গ্রেডভিত্তিক নতুন কাঠামো
নতুন কাঠামোতেও ২০টি গ্রেডই বহাল রয়েছে। তবে জীবনযাত্রার মান ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিম্ন আয়ের ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে ১৪২% বৃদ্ধি করে ২০,০০০ টাকা করা হয়েছে। ১ম গ্রেডের বেতন সর্বোচ্চ ১,৫৬,০০০ টাকায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
| গ্রেড | পূর্বের মূল বেতন (টাকা) | নতুন মূল বেতন ২০২৬ (টাকা) | বৃদ্ধির হার (প্রায়) |
| গ্রেড-১ | ৭৮,০০০ (নির্ধারিত) | ১,৫৬,০০০ (নির্ধারিত) | ১০০% |
| গ্রেড-৫ | ৪৩,০০০ | ৮৬,০০০ | ১০০% |
| গ্রেড-৯ | ২২,০০০ | ৪৪,০০০ | ১০০% |
| গ্রেড-১০ | ১৬,০০০ | ২৫,০০০ | ৫৬.২৫% |
| গ্রেড-১৫ | ৯,৭০০ | ২২,৮০০ | ১৩৫% |
| গ্রেড-২০ | ৮,২৫০ | ২০,০০০ | ১৪২% |
২. বেতন বাস্তবায়নের ৩টি পর্যায় (Phases of Implementation)

অর্থনৈতিক প্রাক্কলন ও বাজেট ব্যবস্থাপনা অক্ষুণ্ন রাখতে নতুন বর্ধিত মূল বেতন ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে মোট ৩টি ধাপে প্রদান করা হবে:
[১ম ধাপ: ১ জুলাই '২৬ - ৩১ ডিসেম্বর '২৬] ➔ [২য় ধাপ: ১ জানুয়ারি '২৭ - ৩০ জুন '২৭] ➔ [৩য় ধাপ: ১ জুলাই '২৭ থেকে ১০০% বাস্তবায়ন]
- ১ম পর্যায় (১ জুলাই ২০২৬ – ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬): ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের জন্য নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০% এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য পার্থক্যের ৫০% যোগ হবে।
- ২য় পর্যায় (১ জানুয়ারি ২০২৭ – ৩০ জুন ২০২৭): ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পার্থক্যের ৭০% এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পার্থক্যের ৭৫% বর্ধিত বেতন পাবেন।
- ৩য় পর্যায় (১ জুলাই ২০২৭ থেকে): সকল গ্রেডের কর্মচারী ১০০% বা সম্পূর্ণ নতুন মূল বেতন পাবেন।
- ভাতা কার্যকরের সময়সীমা: নতুন হারে শতাংশভিত্তিক অন্যান্য ভাতাসমূহ (বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ইত্যাদি) ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে। এর পূর্ব পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনের ভিত্তিতেই ভাতা সুবিধা অব্যাহত থাকবে।
৩. আবাসন (বাড়ি ভাড়া) ও চিকিৎসা ভাতার হার (১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর)

ক) চিকিৎসা ভাতা (Medical Allowance)
- সাধারণ কর্মচারী: মাসিক ৩,০০০ টাকা।
- ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ/পেনশনভোগী: মাসিক ৬,০০০ টাকা।
খ) এলাকাভিত্তিক বাড়ি ভাড়া ভাতা (House Rent Allowance)
| গ্রেড বিন্যাস | ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন | অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও জেলা সদর | উপজেলা ও অন্যান্য এলাকা |
| গ্রেড ২০ থেকে ১৬ | মূল বেতনের ৬০% | মূল বেতনের ৫০% | মূল বেতনের ৪৫% |
| গ্রেড ১৫ থেকে ১০ | মূল বেতনের ৫০% | মূল বেতনের ৪০% | মূল বেতনের ৩৫% |
| গ্রেড ৯ থেকে ৫ | মূল বেতনের ৪৫% | মূল বেতনের ৩৫% | মূল বেতনের ৩০% |
| গ্রেড ৪ থেকে ১ | মূল বেতনের ৪০% | মূল বেতনের ৩০% | মূল বেতনের ২৫% |
৪. পেনশন ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা
- নিট পেনশন বৃদ্ধি: অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য নিট পেনশন ৫৫% থেকে ১০০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাসিক নিট পেনশন ৯,০০০ টাকা বা তার কম হলে ১০০% এবং ধাপে ধাপে তদূর্ধ্বদের জন্য সর্বনিম্ন ৫৫% বৃদ্ধি নিশ্চিত করা হয়েছে।
- এক গ্রেড, এক পেনশন: সামরিক ও বেসামরিক উভয় খাতের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘এক গ্রেড, এক পেনশন’ নীতি ২০৩০ সালের মধ্যে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
- বিশেষ চাহিদাভিত্তিক সন্তান ভাতা: প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে এমন কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা বিশেষ ভাতা বরাদ্দ করা হয়েছে।
৫. আইবাস++ (iBAS++) পোর্টালে অনলাইন পে ফিক্সেশন নির্দেশিকা
আইবাস++ (iBAS++) পোর্টালে অনলাইন পে ফিক্সেশন (Pay Fixation) বা নতুন বেতন নির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিস্তারিত নির্দেশিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. পে ফিক্সেশনের প্রাক-প্রস্তুতি
অনলাইনে বসার আগে নিচের তথ্য ও কাগজপত্র সাথে রাখুন:
- ১৭ ডিজিটের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর (১৩ ডিজিটের এনআইডি হলে শুরুতে জন্মসাল যোগ করতে হবে)।
- আইবাস++ সিস্টেমে নিবন্ধিত এবং সচল মোবাইল নম্বর (যাতে ওটিপি যাবে)।
- সর্বশেষ বা পূর্ববর্তী বছরের পে ফিক্সেশনের ট্র্যাকিং নম্বর।
- বর্তমান পদের যোগদানের তারিখ এবং ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সর্বশেষ মূল বেতনের (Basic Pay) তথ্য।
২. ধাপে ধাপে অনলাইন পে ফিক্সেশন প্রক্রিয়া
ধাপ ১: পোর্টালে প্রবেশ
যেকোনো নিরাপদ ইন্টারনেট ব্রাউজার থেকে আইবাস++ এর অফিশিয়াল পে ফিক্সেশন লিংকে প্রবেশ করুন: ibas.finance.gov.bd/fixation
ধাপ ২: নির্দেশনা ও সম্মতি প্রদান
পোর্টালে প্রবেশের পর স্ক্রিনে অনলাইন বেতন নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনাবলি দেখতে পাবেন। এটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিচে থাকা “আমি পড়েছি এবং সম্মত হলাম” (I have read and agreed) বক্সে টিক চিহ্ন দিয়ে “পরবর্তী” (Next) বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: ধরন নির্বাচন
নতুন বেতন স্কেলের ফিক্সেশনের জন্য অপশনগুলো থেকে “নতুন নিয়োগ/বেতন স্কেল” (New Appointment / Pay Scale) অথবা “বেতন নির্ধারণ” (Pay Fixation) অপশনটি নির্বাচন করুন।
ধাপ ৪: লগইন ও পরিচয় যাচাই
- আপনার ১৭ ডিজিটের NID নম্বর এবং পূর্বের পে ফিক্সেশন ট্র্যাকিং নম্বরটি নির্দিষ্ট বক্সে লিখুন।
- স্ক্রিনে প্রদর্শিত ক্যাপচা (Captcha) কোডটি সঠিকভাবে এন্ট্রি করে “Log In” বা “Verify” বাটনে ক্লিক করুন।
- আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে ৪ বা ৬ ডিজিটের একটি ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) যাবে। ওটিপি-টি নির্দিষ্ট বক্সে বসিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।
ধাপ ৫: তথ্য যাচাই ও নতুন স্কেল নির্ধারণ
- লগইন সম্পন্ন হলে আপনার নাম, পদবি, বর্তমান অফিস এবং পূর্বের মূল বেতনের বিবরণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিনে চলে আসবে।
- তথ্য সঠিক থাকলে স্ক্রিনের ড্রপডাউন মেনু থেকে নতুন বেতন কাঠামো (জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬) নির্বাচন করুন এবং কার্যকরের তারিখ হিসেবে “০১/০৭/২০২৬” সিলেক্ট করুন।
- সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন কাঠামো এবং চলতি ধাপ (Phase) অনুযায়ী আপনার জন্য নির্ধারিত নতুন প্রারম্ভিক মূল বেতন (Basic Pay) হিসাব করে প্রদর্শন করবে।
ধাপ ৬: চূড়ান্ত দাখিল ও প্রিন্ট
- স্ক্রিনে প্রদর্শিত হিসাবকৃত নতুন মূল বেতন এবং ভাতার বিবরণ পুনরায় ভালো করে পরীক্ষা করে নিন।
- সবকিছু ঠিক থাকলে “Save” বা “Submit” বাটনে ক্লিক করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করুন।
- ফিক্সেশন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর স্ক্রিনে একটি ট্র্যাকিং নম্বরসহ চূড়ান্ত পে ফিক্সেশন ফরম দৃশ্যমান হবে। ভবিষ্যত রেফারেন্সের জন্য এই পে ফিক্সেশন কপিটি অবশ্যই ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখুন।
৩. জরুরি নির্দেশনাবলি ও করণীয়
- তথ্য অসংগতি দেখা দিলে: স্ক্রিনে প্রদর্শিত আপনার নাম, পদবি বা পূর্বের মূল বেতনের তথ্যে কোনো ভুল বা অমিল থাকলে নিজে জোরপূর্বক সাবমিট করবেন না। অবিলম্বে আপনার দপ্তরের সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বা ডিডিও (Drawing and Disbursing Officer) এর সাথে যোগাযোগ করে ডাটাবেজ সংশোধন করিয়ে নিন।
- মোবাইল নম্বর পরিবর্তন: যদি আপনার পূর্বের মোবাইল নম্বরটি বর্তমানে সচল না থাকে, তবে আইবাস++ এ লগইন করার আগে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে (DAO/UAO) গিয়ে মোবাইল নম্বরটি পরিবর্তন বা রিসেট করে নিতে হবে।
- ধাপভিত্তিক হিসাব: নতুন বেতন কাঠামোটি ধাপে ধাপে কার্যকর হচ্ছে বিধায় ফিক্সেশন কপিতে চলতি অর্থবছরের ১ম ধাপের জন্য যে পরিমাণ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে, তা-ই আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) এর মাধ্যমে জমা হবে।
সংক্ষেপিত পর্যালোচনা
৯ম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ প্রবর্তনের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের চাহিদার প্রতিফলন ঘটেছে। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশের সার্বিক বাজেট ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে, তেমনি উচ্চমূল্যস্ফীতির বাজারে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান রক্ষা সহজতর হবে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



